img

যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করলেন পোপ

প্রকাশিত :  ০৮:১৫, ০৮ এপ্রিল ২০২৬

যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করলেন পোপ

পোপ চতুর্দশ লিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরল সমালোচনা করেছেন। বলেছেন, ইরানের ‘পুরো সভ্যতা’ মুছে ফেলার হুমকি দেওয়াটা ‘সত্যিই অগ্রহণযোগ্য’।

গতকাল মঙ্গলবার পোপ সরাসরি প্রেসিডেন্টের নাম উল্লেখ না করলেও তিনি কাকে ইঙ্গিত করছেন, তা ছিল স্পষ্ট।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইতালিতে সাংবাদিকদের পোপ বলেন, ‘আজ যেমনটি আমরা সবাই জানি, ইরানের পুরো জাতির বিরুদ্ধে একটি হুমকি দেওয়া হয়েছে। আর এটি সত্যিই অগ্রহণযোগ্য।’

ট্রাম্পের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে পোপ এই মন্তব্য করেন। পোপ চতুর্দশ লিও আরও বলেন, ‘এখানে অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন রয়েছে। তবে তার চেয়েও বড় বিষয় হলো, এটি একটি নৈতিক প্রশ্ন, যা সামগ্রিকভাবে একটি জাতির মঙ্গলের সঙ্গে জড়িত।’

এর আগে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, তেহরান যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে যাতায়াত করতে না দেয়, তবে তিনি ইরানের প্রতিটি সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেবেন। আন্তর্জাতিক আইনে বেসামরিক অবকাঠামো উদ্দেশ্যমূলকভাবে ধ্বংস করা নিষিদ্ধ। ট্রাম্পের এই হুমকি ডেমোক্র্যাটিক ও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের পাশাপাশি জাতিসংঘ এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যাপক নিন্দার মুখে পড়ে।

পোপ হিসেবে তাঁর প্রথম বছরে চতুর্দশ লিও সরাসরি মার্কিন রাজনীতি নিয়ে কথা এড়িয়ে চললেও তিনি ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ এবং সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের কেউ কেউ এই যুদ্ধকে খ্রিষ্টীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাখ্যা করার যে চেষ্টা চালিয়েছিলেন, পোপ তা-ও দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

গত মার্চে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মার্কিনদের প্রতি ‘যিশুখ্রিষ্টের নামে’ যুদ্ধে জয় ও সৈন্যদের নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এরপরই পোপ যুদ্ধের জন্য যিশুর নাম ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, যিশু ‘যারা যুদ্ধ করে তাদের প্রার্থনা শোনেন না, বরং তা প্রত্যাখ্যান করেন।’

গত সপ্তাহে ইস্টার পূর্ববর্তী এক বিশেষ প্রার্থনায় লিও বলেছিলেন, খ্রিষ্টীয় আদর্শকে ‘আধিপত্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষা দিয়ে বিকৃত করা হয়েছে, যা যিশুখ্রিষ্টের পথের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।’

এরপর ইস্টারে গত রোববার পোপ আবারও শান্তির আহ্বান জানান। সেন্ট পিটার্স স্কোয়ারে হাজার হাজার ভক্তের সামনে তিনি বলেন, ‘উৎসবের এই দিনে আসুন আমরা সংঘাত, আধিপত্য ও ক্ষমতার সব আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করি এবং যুদ্ধের জর্জরিত এই বিশ্বে শান্তির জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি।’

ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন ট্রাম্প, অন্যথায় ধ্বংসযজ্ঞের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। কিন্তু পোপ লিও কূটনীতির ওপর জোর দিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘টেবিলে ফিরে আসুন। কথা বলুন। শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান খুঁজুন।’

এর কয়েক ঘণ্টা পর, নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত চুক্তির ‘খুব কাছাকাছি’ অবস্থানে আছেন।

img

এনসিপিকে বাড়তি নারী আসন দিচ্ছে জামায়াত

প্রকাশিত :  ০৮:৫৯, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য দুইজনকে মনোনয়ন দিতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির সম্ভাব্য চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিন

\r\n

দলটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তাদের দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২১ এপ্রিল, যাচাই-বাছাই ২২ ও ২৩ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ ও ২৮ এপ্রিল এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল।

জোটভিত্তিক বণ্টন অনুযায়ী বিএনপি ও তাদের মিত্রদের ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটকে ১৩টি এবং স্বতন্ত্রদের জন্য একটি সংরক্ষিত নারী আসন নির্ধারিত হয়েছে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি আসনে বিজয়ী হওয়ায় ১টি সংরক্ষিত নারী আসন পাচ্ছে। সেই সাথে জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা করে আরও একটি দাবি করেছে তারা। এর অংশ হিসেবে জামায়াত তাদের কোটা থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং এনসিপির কোটায় কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিনকে মনোনয়ন দিতে যাচ্ছে দলটি।

এনসিপির একাধিক সূত্রমতে, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য দলের পক্ষ থেকে দুইজনকে সম্ভাব্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ডা. মাহমুদা মিতু ও মনিরা শারমিন। জামায়াতের কাছে আমরা একটি অতিরিক্ত আসন চেয়েছি, তারা রাজি হয়েছে। আমরা ২০ তারিখের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেব।

এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাত ঢাকা পোস্টকে বলেছেন, ‘সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থিতার ব্যাপারে দলের শীর্ষ পর্যায়ে এবং আমাদের জোটের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে, এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রার্থী হতে চেয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ এবং সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের বিষয় রয়েছে, এসব প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনেই আমরা প্রার্থিতার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। সময় হলে দলের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে।’

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ ঢাকা পোস্টকে বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটের ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে একটি এনসিপি পাবে। জোটের কারণে এনসিপিকে আরও একটি বাড়তি নারী আসন দেওয়া হবে। জাগপাকে একটি আসন দেওয়া হবে। এ ছাড়া জুলাই যুদ্ধে নিহত একজন শিশুর মাকে আমরা মনোনয়ন দিচ্ছি।’


জাতীয় এর আরও খবর