img

‘জামায়াতকে’ পাকিস্তানি বাহিনীর দেশীয় সহযোগী দলের নাম রেখে জামুকা বিল পাস

প্রকাশিত :  ১৬:১৪, ০৯ এপ্রিল ২০২৬

‘জামায়াতকে’ পাকিস্তানি বাহিনীর দেশীয় সহযোগী দলের নাম রেখে জামুকা বিল পাস

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দেশীয় সহযোগীদের তালিকায় তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টির নাম বহাল রেখে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইন সংশোধনের বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

এতে জামায়াতের পক্ষ থেকে আপত্তি জানিয়ে বক্তব্য তুললেও তবে তাদের জোটসঙ্গী এনসিপিপক্ষ থেকে এই বিলের ওপর কোনো আপত্তি নেই বলে স্পিকারকে লিখিতভাবে জানানো হয়।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সংসদের বৈঠকে বিলটি উত্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। পরে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা বিলের ওপর আপত্তি জানিয়ে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ বক্তব্য দিলেও বিলের কোন ধারায় তিনি সংশোধন চান, তা উল্লেখ করেননি। ফলে স্পিকার তার আপত্তির বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে ভোট দেননি।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা এ অধ্যাদেশে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’, ‘মুক্তিযুদ্ধ’, ‘মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য’ এবং ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগীর’ সংজ্ঞা নতুন করে নির্ধারণ করা হয়। সেখানে পাকিস্তানি বাহিনীর দেশীয় সহযোগীদের তালিকায় তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টির নাম রাখা হয়েছিল।

বিলের মূল আপত্তির জায়গা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, স্বাধীনতার পরের সরকার, জিয়াউর রহমান বা খালেদা জিয়ার সরকার কেউই আইনের সংজ্ঞায় রাজনৈতিক দলগুলোর নাম এভাবে আনেনি। তার ভাষায়, বিষয়টি প্রথমে শেখ হাসিনার আমলে এসেছে, পরে অন্তর্বর্তী সরকারও ‘সামান্য পরিবর্তনসহ’ সেই ধারাবাহিকতা রেখেছে।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর বলেন, বর্তমান উপস্থাপনায় তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টির নাম আনা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আল্লাহ ভালো জানেন, ’৭১ সালের সেই চরম সময়ে কার কী ভূমিকা ছিল। আল্লাহই পূর্ণাঙ্গ সাক্ষী, আমরা বাকিরা আংশিক সাক্ষী।

শফিকুর  বলেন, বাংলাদেশে রাজনীতি সুস্থ ধারায় চলুক, প্রতিটি রাজনৈতিক দল জনগণের প্রতি দায়দরদ ও দেশের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে কাজ করুক। আমরা আর এই জাতিতে কোনো বিভক্তি চাচ্ছি না।

স্পিকার পরে বলেন, বিরোধী দলীয় নেতা কার্যত নির্দিষ্ট কোনো আপত্তি তোলেননি, বক্তব্য দিয়েছেন। এরপর তিনি মন্ত্রীকে বিলটি উত্থাপনের আহ্বান জানান।

img

এনসিপিকে বাড়তি নারী আসন দিচ্ছে জামায়াত

প্রকাশিত :  ০৮:৫৯, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য দুইজনকে মনোনয়ন দিতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির সম্ভাব্য চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিন

\r\n

দলটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তাদের দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২১ এপ্রিল, যাচাই-বাছাই ২২ ও ২৩ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ ও ২৮ এপ্রিল এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল।

জোটভিত্তিক বণ্টন অনুযায়ী বিএনপি ও তাদের মিত্রদের ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটকে ১৩টি এবং স্বতন্ত্রদের জন্য একটি সংরক্ষিত নারী আসন নির্ধারিত হয়েছে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি আসনে বিজয়ী হওয়ায় ১টি সংরক্ষিত নারী আসন পাচ্ছে। সেই সাথে জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা করে আরও একটি দাবি করেছে তারা। এর অংশ হিসেবে জামায়াত তাদের কোটা থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং এনসিপির কোটায় কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিনকে মনোনয়ন দিতে যাচ্ছে দলটি।

এনসিপির একাধিক সূত্রমতে, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য দলের পক্ষ থেকে দুইজনকে সম্ভাব্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ডা. মাহমুদা মিতু ও মনিরা শারমিন। জামায়াতের কাছে আমরা একটি অতিরিক্ত আসন চেয়েছি, তারা রাজি হয়েছে। আমরা ২০ তারিখের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেব।

এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাত ঢাকা পোস্টকে বলেছেন, ‘সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থিতার ব্যাপারে দলের শীর্ষ পর্যায়ে এবং আমাদের জোটের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে, এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রার্থী হতে চেয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ এবং সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের বিষয় রয়েছে, এসব প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনেই আমরা প্রার্থিতার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। সময় হলে দলের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে।’

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ ঢাকা পোস্টকে বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটের ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে একটি এনসিপি পাবে। জোটের কারণে এনসিপিকে আরও একটি বাড়তি নারী আসন দেওয়া হবে। জাগপাকে একটি আসন দেওয়া হবে। এ ছাড়া জুলাই যুদ্ধে নিহত একজন শিশুর মাকে আমরা মনোনয়ন দিচ্ছি।’


জাতীয় এর আরও খবর