img

হরমুজ নিয়ে নতুন জোটে যোগ দিতে বিদেশি সরকারদের চাপ দেবে মার্কিন দূতাবাস

প্রকাশিত :  ১১:১৯, ০১ মে ২০২৬

হরমুজ নিয়ে নতুন জোটে যোগ দিতে বিদেশি সরকারদের চাপ দেবে মার্কিন দূতাবাস

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে আন্তর্জাতিক জোট গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে ওয়াশিংটন। যেটিতে কূটনৈতিক সমন্বয় করবে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং প্রতিরক্ষা সমন্বয় করবে পেন্টাগন।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক কর্মকর্তা স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার এএফপিকে বলেন, ‘মেরিটাইম ফ্রিডম কনস্ট্রাক্ট’ বা এমএফসি নামের এই জোট প্রণালিতে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেবে। এর মধ্যে আছে রিয়েলটাইম তথ্য সরবরাহ, নিরাপত্তা নির্দেশনা ও সমন্বয়। 

মূলত একটি কূটনৈতিক বার্তার বিষয়ে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য জানান। এএফপি লিখেছে, ওই কূটনৈতিক বার্তায় মার্কিন দূতাবাসগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তারা যেন বিদেশি সরকারগুলোকে এই জোটে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে।

কূটনৈতিক বার্তাটির বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এই উদ্যোগে অংশগ্রহণকারী দেশ ও জাহাজ শিল্পের মধ্যে কূটনৈতিক সমন্বয় করবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। আর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সেন্টকমের মাধ্যমে সমুদ্রপথে চলাচল পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় করবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখবে। 

দূতাবাসগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা শুক্রবারের মধ্যে অংশীদার দেশগুলোর কাছে মৌখিকভাবে কূটনৈতিক বার্তাটি পৌঁছে দেবে। তবে রাশিয়া, চীন, বেলারুশ, কিউবা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্য প্রতিপক্ষরা এর আওতায় থাকবে না। এই উদ্যোগে অংশগ্রহণ বিভিন্নভাবে হতে পারে। যেমন- কূটনৈতিক সহযোগিতা, তথ্য আদান-প্রদান, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন, নৌবাহিনীর উপস্থিতি কিংবা অন্য যেকোনো ধরনের সহায়তা করা।

যুক্তরাষ্ট্রের এমন উদ্যোগের মধ্যেই হরমুজ প্রণালিসহ মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোকে নতুন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে মোজতবা বলেন, ‘আজ থেকে হরমুজ প্রণালিতে নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে।’ তিনি এর ধরন নিয়ে কিছু উল্লেখ করেননি। তবে এ জলপথ দিয়ে তেল রপ্তানি করা দেশগুলোকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমেরিকাকে ছাড়াই এখন তাদের ভবিষ্যতের কথা ভাবতে হবে।’ একই সঙ্গে বলেছেন, জলপথের মতো তেহরান নিজেদের পারমাণবিক এবং ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতাও বজায় রাখবে।

মোজতবার এই বিবৃতির একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন আলজাজিরার সাংবাদিক সরদার আতাস। তাঁর মতে, হরমুজ প্রণালিতে ইরান এখনো তাদের অধিকার ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার ওপর জোর দিচ্ছে। এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকবে এবং আলোচনায় এটিকে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগবে। 


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতায় এবার মধ্যস্থতা করবে চীন

প্রকাশিত :  ১৮:৫৫, ১২ মে ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা প্রশমনে চীন একটি শক্তিশালী মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে বলে জানিয়েছে তেহরান। চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রহমানি ফাজলি দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। 

রাষ্ট্রদূত রহমানি বলেন, বেইজিং তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে এই মধ্যস্থতা যেন ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির বেইজিং সফর এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের ঠিক আগমুহূর্তে ফাজলির এই মন্তব্যটি সামনে এল। হোয়াইট হাউসের সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই চীন সফরের আগে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে বড় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা কম। 

রহমানি ফাজলি জোর দিয়ে বলেন, চীন কেবল ইরানের একটি অর্থনৈতিক অংশীদারই নয়, বরং বহিরাগত হুমকির বিপরীতে তেহরানের ‘রাজনৈতিক ভারসাম্য’ রক্ষার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

রাষ্ট্রদূত ফাজলি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইরান কেবল সামরিক বা কৌশলগত প্রতিক্রিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। বরং ইরান সক্রিয়ভাবে তার কূটনৈতিক অবস্থানকে পুনর্গঠন করার চেষ্টা করছে। 

আরাগচির চীন সফর সেই পরিকল্পনারই একটি অংশ। তার মতে, চীন এই সংকটকে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির কোণ থেকে দেখছে না, বরং তারা যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার পতন ঠেকাতেই বেশি আগ্রহী।

হরমুজ পরিস্থিতির বিষয়ে ফাজলি স্পষ্ট করেন যে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো একান্তই প্রতিরক্ষামূলক এবং তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিরোধী নয়। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেইজিং সফরের প্রাক্কালেই ইরানের তেল বিক্রিতে সহায়তার অভিযোগে ১২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। এই দ্বিমুখী পরিস্থিতির মধ্যেই বেইজিংয়ের মধ্যস্থতার বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সূত্র:সিএনএন। 

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর