img

চীনঘেঁষা মিয়ানমারে রাশিয়ার টাংস্টেন খনি, বাড়ছে উদ্বেগ

প্রকাশিত :  ০৮:৪৬, ০৭ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:০৮, ০৭ জুন ২০২৬

চীনঘেঁষা মিয়ানমারে রাশিয়ার টাংস্টেন খনি, বাড়ছে উদ্বেগ

মিয়ানমারের পূর্ব শান রাজ্যে রাশিয়ার প্রথম বিনিয়োগে গড়ে ওঠা খনি প্রকল্পে টাংস্টেন উত্তোলনের প্রস্তুতি চলছে। একই এলাকায় আগে থেকেই একটি বৃহৎ চীনা খনি প্রকল্প কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এর মধ্যে রুশ প্রতিষ্ঠানের এই প্রবেশ নতুন করে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে শান মানবাধিকার ফাউন্ডেশন।

মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতী এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। 

গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসএইচআরএফ জানায়, মিয়ানমারের সামরিক সরকার রুশ প্রকল্পটিকে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছে। খনিটির অবস্থান পূর্ব শান রাজ্যের মংটন টাউনশিপের সর্বোচ্চ পর্বত লই খি লেকের উত্তর দিকে। এলাকাটি থাইল্যান্ড সীমান্ত থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে।

অন্যদিকে পর্বতটির দক্ষিণে মং জাউদ গ্রামাঞ্চলে একটি বৃহৎ চীনা টাংস্টেন খনি ইতোমধ্যে উৎপাদন শুরু করেছে। এসএইচআরএফের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয়। সেখানে উৎপাদিত টাংস্টেন ইউনাইটেড ওয়া স্টেট আর্মির (ইউডব্লিউএসএ) সহযোগিতায় চীনে পাঠানো হচ্ছে। মং জাউদ এলাকা যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণ করে ইউডব্লিউএসএ এবং মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথম রুশ প্রকল্পটির বিষয়ে জানতে পারেন ২০২৫ সালের মে মাসে। সে সময় একটি রুশ খনিজ জরিপকারী দল এলাকায় আসে। তাদের সঙ্গে ছিল জান্তা সরকারের সেনাসদস্য, পুলিশ ও স্থানীয় মিলিশিয়া সদস্যরা। পরে চলতি বছরের জানুয়ারিতে দলটি দ্বিতীয়বার সেখানে যায় এবং জমি পরিমাপের কাজ করে। তখন কয়েকজন গ্রামবাসীকে জানানো হয় যে, নেপিডো কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে খনিজ উত্তোলনের অনুমতিপত্র দিয়ে দিয়েছে।

এসএইচআরএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরে ইউডব্লিউএসএর এক প্রশাসক স্থানীয় গ্রামবাসীদের রুশ টাংস্টেন খনি প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে উৎসাহিত করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ব শান রাজ্যে এটি রাশিয়ার প্রথম খনি উদ্যোগ হলেও রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে লৌহ আকরিক খাতে দেশটির সম্পৃক্ততা আগে থেকেই রয়েছে। রুশ খনি কোম্পানিগুলো মিয়ানমারের সামরিক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মিয়ানমার ইকোনমিক কো-অপারেশনের (এমইসি) সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছে এবং হোপং টাউনশিপে একটি ইস্পাত কারখানা স্থাপন করেছে।

স্থানীয় জনগণের বিরোধিতা সত্ত্বেও ওই প্রকল্প এখনো চালু রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসএইচআরএফ জানায়, মং জাউদের চীনা টাংস্টেন খনিটি ফেব্রুয়ারিতে উৎপাদন শুরু করে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ১০০ জন চীনা কর্মী কাজ করছেন, যাদের বেশিরভাগই ব্যবস্থাপক ও প্রযুক্তিবিদ। এ ছাড়া প্রায় ২৫০ জন মিয়ানমার নাগরিক শ্রমিকও সেখানে কর্মরত আছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে খনির বর্জ্যে দূষিত পাক গুট ঝরনার পানির সংস্পর্শে এসে আশপাশের গ্রামের মানুষ চর্মরোগে আক্রান্ত হন।

এ ছাড়া খনি থেকে আসা বালুমিশ্রিত পলির কারণে স্থানীয়দের ধানক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খনিতে পানি সরবরাহের জন্য ঝরনার প্রবাহ আটকে দেওয়ায় গ্রামবাসীদের গৃহস্থালি ও কৃষিকাজের জন্য ব্যবহৃত পানির উৎসও শুকিয়ে গেছে।

এসএইচআরএফ আরও বলেছে, পূর্ব শান রাজ্যের খনিজ উত্তোলন শিল্প, বিশেষ করে রেয়ার আর্থ খনিজ ও স্বর্ণখনি কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চীনা কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান সাধারণত চীনঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠী ইউডব্লিউএসএ এবং মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মির সহযোগিতায় কাজ করে থাকে। এর আগে সংস্থাটি জানিয়েছিল, থাইল্যান্ড-মিয়ানমার সীমান্তজুড়ে রেয়ার আর্থ ও স্বর্ণখনি প্রকল্প দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। এর ফলে সীমান্তের উভয় পাশে বসবাসকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠী গুরুতর সামাজিক ও পরিবেশগত ক্ষতির মুখে পড়ছে।


img

স্বল্পমূল্যের শেয়ারে কি ফিরছে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ? বাজারে আস্থা ফেরার সঙ্গে বাড়তে পারে ১০ টাকার নিচের শেয়ারের কদর

প্রকাশিত :  ১২:৫৫, ০৬ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘ সময় ধরে মূল্যহ্রাসের কারণে অনেক কোম্পানির শেয়ার ১০ টাকার নিচে নেমে এসেছে। একসময় যেসব শেয়ার বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় ছিল, বাজারের মন্দাভাব, আস্থার সংকট এবং তারল্য সংকটের কারণে সেগুলোর অনেকগুলো এখন নামমাত্র দামে লেনদেন হচ্ছে। তবে বাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বল্পমূল্যের কিছু শেয়ার আগামী দিনে নতুন করে বিনিয়োগকারীদের নজর কাড়তে পারে।

বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, পুঁজিবাজারে যখন ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়, তখন সাধারণত কম দামি শেয়ারগুলোতে প্রথমে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়তে দেখা যায়। তুলনামূলকভাবে কম মূলধন নিয়ে বেশি সংখ্যক শেয়ার কেনার সুযোগ থাকায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা এসব শেয়ারের প্রতি আকৃষ্ট হন। ফলে বাজারে আস্থা ফিরতে শুরু করলে ১০ টাকার নিচে থাকা শেয়ারগুলোর দামও দ্রুত বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে বাজার সংস্কার, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রমের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগের কারণে ইতিবাচক প্রত্যাশা দেখা যাচ্ছে। এর প্রভাব বাজারে ধীরে ধীরে প্রতিফলিত হলে দীর্ঘদিন অবমূল্যায়িত অবস্থায় থাকা কিছু শেয়ারের মূল্য পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ পেতে পারে।

তবে বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলছেন, ১০ টাকার নিচে থাকা সব শেয়ারই যে ভালো বিনিয়োগ হবে, এমন ধারণা সঠিক নয়। অনেক কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি দুর্বল, ব্যবসায়িক কার্যক্রম সীমিত কিংবা দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে রয়েছে। ফলে শুধুমাত্র কম দাম দেখে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, যেসব কোম্পানির মৌলভিত্তি তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী, নিয়মিত ব্যবসা পরিচালনা করছে এবং ভবিষ্যতে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের স্বল্পমূল্যের শেয়ারগুলো বেশি লাভজনক হতে পারে। অন্যদিকে দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধি ঘটলেও তা দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে।

পুঁজিবাজারের ইতিহাস বলছে, প্রতিটি পুনরুদ্ধার পর্বে কিছু অবমূল্যায়িত শেয়ার বিনিয়োগকারীদের জন্য উল্লেখযোগ্য মুনাফার সুযোগ তৈরি করেছে। বর্তমান বাজারেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে বাজারে আস্থা ও তারল্য বাড়লে ১০ টাকার নিচে থাকা নির্বাচিত কিছু শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, স্বল্পমূল্যের শেয়ারগুলো আগামী দিনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসতে পারে। তবে বিনিয়োগের আগে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা, ব্যবসায়িক সক্ষমতা এবং বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করাই হবে বিচক্ষণতার পরিচয়।