img

কিয়েভে চলতি বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা রুশ বাহিনীর, নিহত ২৭

প্রকাশিত :  ০৬:৩০, ০৩ জুলাই ২০২৬

কিয়েভে চলতি বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা রুশ বাহিনীর, নিহত ২৭

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে চলতি বছরের সবচেয়ে বড় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ভয়াবহ এ হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত এবং কমপক্ষে ৯১ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় অন্তত ১৩০টি ভবন আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আহত এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ বিধ্বস্ত ভবনগুলোর ধ্বংস্তূপে লোকজন আটকা পড়ে আছেন। এছাড়া নিখোঁজও আছেন বেশ কয়েক জন।

গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে সংঘটিত এই হামলা হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে জানিয়েছেন কিয়েভের সামরিক প্রশানের শীর্ষ কমান্ডিং কর্মকর্তা তাইমুর তিকাচেঙ্কো। এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত কিয়েভে যত হামলা পরিচালনা করেছে রুশ বাহিনী, সেসবের মধ্যে বৃহস্পতিবারের হামলার ব্যাপ্তি এবং ভয়াবহতা সবচেয়ে বেশি।

রুশ বাহিনীর হামলার পর রাজধানীর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল। বৃহস্পতিবার রাতভর তৎপরতা চলেছে। তাইমুর তাইচেঙ্কো জানিয়েছেন, দিনিপ্রো নদীর তীরে কিয়েভের শহরতলীর একটি আবাসিক এলাকার কয়েকটি বিধ্বস্ত অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৮ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ ৮ জন ওই অ্যাপার্টমেন্টগুলোর বাসিন্দা ছিলেন।

“ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করার আগ পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চলমান থাকবে”, টেলিগ্রাম চ্যানেলে বলেছেন তাইচেঙ্কো।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনাত এক বিবৃতিতে বলেছেন, বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে কিয়েভ এবং তার সংলগ্ন এলাকাগুলো লক্ষ্য করে মোট ৭৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪৯৬টি ইউএভি সামরিক ড্রোন নিক্ষেপ করেছে রুশ বাহিনী।

“আঘাত করার সময় সাধারণত যে উচ্চতায় থাকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, বৃহস্পতিবারের হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তার চেয়ে বেশি উচ্চতায় ছিল; এ কারণে আমাদের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র আটকাতে পারেনি”, বিবৃতিতে বলেছেন ইউরি।

রুশ বাহিনীর হামলায় ধ্বংস হয়েছে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থা রেড ক্রসের ইউক্রেন শাখার একটি ত্রাণসামগ্রীর গুদামও। এক বিবৃতিতে রেড ক্রস ইউক্রেন জানিয়েছে, রুশ ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে গুদামের ৩ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি ত্রাণ সামগ্রী ধ্বংস হয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিধ্বস্ত গুদামঘরের ছবিও প্রকাশ করেছে রেড ক্রস ইউক্রেন।

হামলার সময়ে কিয়েভে ছিলেন ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ইউক্রেন দূত কাতারিনা মাথেরনোভা। এক বার্তায় তিনি বলেছেন, “রাশিয়া কিয়েভের ওপর নরক নামিয়ে এনেছে।”

কিয়েভের বাসিন্দা ইরিয়ানা প্লেখোভা নামের এক তরুণী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজেদের অর্ধেক ধ্বংস হয়ে যাওয়া অ্যাপার্টমেন্টের ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, “আমাদের অ্যাপার্টমেন্টে আগুন লেগেছে। আমি যখন জরুরি পরিষেবা বিভাগে ফোন করছিলাম, সে সময় আমরা স্বামী ওলেগ অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দাদের বের হতে সহযোগিতা করছিল। এখন আমাদের আর কোনো অ্যাপার্টমেন্ট নেই।”

রু বাহিনীর ভয়াবহ এই হামলার পর আজ শুক্রবার রাজধানীতে এক দিনের শোক ঘোষণা করেছেন কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎশকো। টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারের হামলায় কিয়েভে ৩০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক বার্তায় রাশিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “কিয়েভ এবং তার সংলগ্ন এলাকাগুলোর সামরিক স্থাপনা, বিমান বন্দর ও বিদ্যুৎ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এয়ার-ল্যান্ড-সী লঞ্চড ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে বড় হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী।”

আরও বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে ড্রোন নিক্ষেপ করে রাশিয়ার নিঝনি নভগোরোদ এলাকায় একটি তেল শোধনাগার ধ্বংস করেছে রুশ বাহিনী। এছাড়া রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলা পরিচালনো করেছে তারা। সেসবের জবাব দিতেই শুক্রবার এই ব্যাপক হামলা করা হয়েছে।

সূত্র : রয়টার্স

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

বৈঠকে বসেছেন ইরান-বাংলাদেশের স্পিকার

প্রকাশিত :  ১৩:০৭, ০৩ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:১০, ০৩ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। শুক্রবার তেহরানে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় অংশ নিতে বর্তমানে তেহরান সফর করছেন স্পিকার।

বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক শান্তি এবং সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় স্পিকার গালিবাফ রাষ্ট্রীয় জানাজায় অংশ নিতে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের তেহরান সফরকে স্বাগত জানান এবং তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

বাংলাদেশের স্পিকার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানান। তিনি খামেনির হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেন, জাতীয় শোকের এই সময়ে বাংলাদেশ সরকার ও দেশের জনগণ ইরানের সরকার ও জনগণের পাশে রয়েছে।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশ ও ইরানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং জনগণের পারস্পরিক বন্ধনের কথাও তুলে ধরেন।

বৈঠকে তিনি সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত শান্তি বিষয়ক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়নে স্পিকার গালিবাফের ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সমঝোতা ইরান এবং পুরো অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।

বাংলাদেশ চলমান শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো বাকি সমস্যাগুলোরও স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাবে বলে বাংলাদেশ আশা করে।

এ সময় তিনি ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

এর আগে, রাষ্ট্রীয় জানাজায় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিতে বৃহস্পতিবার তেহরানে পৌঁছান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বিমানবন্দরে তাকে এবং প্রতিনিধি দলকে ইরানের ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির ডেপুটি স্পিকার হামিদ রেজা হাজি বাবাই স্বাগত জানান।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর