img

হরমুজ প্রণালি এক মাস ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে: আরাঘচি

প্রকাশিত :  ১৪:৪৫, ২৮ জুন ২০২৬

হরমুজ প্রণালি এক মাস ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে: আরাঘচি

হরমুজ প্রণালি এখনো পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ইরাক সফরকালে রোববার তিনি বলেন, আগামী ৩০ দিন এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালির নিরাপত্তা, নজরদারি ও ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণভাবে তেহরানের অধীনেই থাকবে।

আব্বাস আরাঘচি বলেন, সমস্ত বাধা দূর হওয়ার পর এই জলপথের পূর্ণ সক্ষমতা ফিরিয়ে আনা হবে। তেহরান বর্তমানে এই লক্ষ্যে কাজ করছে। দায়িত্বটি সম্পূর্ণভাবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর ন্যস্ত। 

অন্য কারও ভূমিকার প্রসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে অন্য কোনো পক্ষ বা রাষ্ট্রের ভূমিকা নেই। সমঝোতা স্মারকের অধীনে এটি অত্যন্ত স্পষ্ট। যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। তখন প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হবে।

আব্বাস আরাঘচি আরও বলেন, লেবানন সংক্রান্ত ধারাসহ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের সবগুলো বিষয়ের প্রতি অবশ্যই পূর্ণ সম্মান দেখাতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, জায়নবাদী গোষ্ঠী (ইসরায়েল) লেবাননে তাদের বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। 

আরাঘচি বলেন, এই সমঝোতা স্মারকটি ইসরায়েলও মেনে নিয়েছিল। তাই যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য ওয়াশিংটনের উচিত তাদের দায়িত্ব পালন এবং লেবাননে হামলা বন্ধ করতে ইসরায়েলকে বাধ্য করা।

একই সঙ্গে লেবাননের যেসব এলাকা ইসরায়েল দখল করে রেখেছে, সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহারের জন্য তেল আবিবকে চাপ দিতে ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানান আরাঘচি। তিনি উল্লেখ করেন, সমঝোতা স্মারকের এটিই প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ ধারা।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের জবাব

img

কুয়েত ও বাহরাইনে ৮ মার্কিন সামরিক স্থাপনা ধ্বংসের দাবি ইরানের

প্রকাশিত :  ০৫:১৭, ২৮ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় কুয়েত ও বাহরাইনে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী। আজ রোববার এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা চালানো হলে ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়া হবে।

এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের জবাব হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে। মূলত এর মধ্য দিয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যে ভবিষ্যতে যেকোনো আগ্রাসনের ‘কড়া জবাব’ দেওয়া হবে।

কুয়েতের আলি আল–সালেম ঘাঁটি ও বাহরাইনের সালমান বন্দরে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের ঘাঁটিতে ইরানের এসব হামলায় আট গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে আইআরজিসি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘শত্রুপক্ষের যেকোনো আগ্রাসন কিংবা অজুহাত, যা–ই হোক না কেন; এমনকি তুচ্ছ কোনো লক্ষ্যবস্তুতে হলেও, সেটার কড়া জবাব দেওয়া হবে।’

এর আগে ইরানে আবারও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আজ ভোরে জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা চালানোর সর্বশেষ ঘটনা ঘটল।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বলেছে, গতকাল শনিবার হরমুজ প্রণালিতে পানামার পতাকাবাহী তেলবাহী একটি ট্যাংকারে ড্রোন হামলা চালায় ইরান। পরে তারাও পাল্টা হামলা চালায়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আজ ভোরে জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

শত্রুপক্ষের যেকোনো আগ্রাসন কিংবা অজুহাত, যা–ই হোক না কেন; এমনকি তুচ্ছ কোনো লক্ষ্যবস্তুতে হলেও, সেটার কড়া জবাব দেওয়া হবে।

যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে সপ্তাহ দুয়েক আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর এটিই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় ঘটনা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। শুরু হয় সর্বাত্মক যুদ্ধ। এখন স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তির জন্য সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ৬০ দিনের মধ্যে স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে চায় ওয়াশিংটন ও তেহরান।

তবে যুদ্ধ বন্ধের স্মারকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যেসব সমঝোতা হয়েছে, তা লঙ্ঘনের অভিযোগ দুই পক্ষই একে-অপরের বিরুদ্ধে একাধিকবার এনেছে।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর