img

দোনবাস দখলের পথে রাশিয়া: অবরুদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে ইউক্রেনের যোদ্ধারা

প্রকাশিত :  ০৬:৫৮, ২৩ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:০২, ২৩ জুন ২০২৬

দোনবাস দখলের পথে রাশিয়া: অবরুদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে ইউক্রেনের যোদ্ধারা

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্ত্যন্তিনিভকায় প্রবেশ করেছে রুশ বাহিনী। দোনবাস অঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই শহরটিকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করছে তারা বলে জানা গেছে। ফলে এলাকাটিতে নতুন করে উত্তেজনা ও সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইউক্রেনীয় সেনাদের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, পুরো শহর বর্তমানে কোনো পক্ষেরই একক নিয়ন্ত্রণে নেই এবং এটি কার্যত একটি ‘ধূসর অঞ্চলে’ পরিণত হয়েছে। এই শহরের পতন ঘটলে রুশ বাহিনী পূর্ব ইউক্রেনে ইউক্রেনীয়দের শেষ প্রধান দুটি ঘাঁটি– ক্রামাতোরস্ক ও স্লোভিয়ানস্কের দিকে সরাসরি অগ্রসর হতে পারবে। এর ফলে পুরো দোনবাস অঞ্চল দখল করার যে লক্ষ্য ক্রেমলিন নির্ধারণ করেছে, তা অর্জন করা মস্কোর জন্য অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।

বিবিসিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউক্রেনীয় ড্রোন পাইলট বলেন, তারা (রুশ সেনারা) পেছনের দিক থেকে আমাদের এলাকায় ঢুকে পড়ছে। শহুরে যুদ্ধের পরিস্থিতিতে তাদের সেখান থেকে হটিয়ে দেওয়া চরম কঠিন কাজ।

দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে ইউক্রেন যুদ্ধ মূলত সম্মুখভাগে স্থবির হয়ে ছিল। ইউক্রেনীয় কমান্ডারদের দাবি ছিল, তারা এ বছর হারানোর চেয়ে বেশি এলাকা পুনরুদ্ধার করেছেন এবং রুশ সীমান্ত ও অধিকৃত ক্রিমিয়ার মধ্যকার মস্কোর গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ লাইন ব্যাহত করতে পেরেছেন। কিন্তু কোস্ত্যন্তিনিভকায় রুশ সেনারা দক্ষিণ দিক থেকে অগ্রসর হয়ে এখন শহরের উত্তর প্রান্তেও অবস্থান নিয়েছে। 

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে রোববার রাতভর ৬০টি বিস্ফোরকবাহী সামরিক ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনী। তবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই সেগুলোকে আটকে দিয়ে ধ্বংস করে ফেলেছে রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন সোমবার সামাজিক মাধ্যম টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন। গতকাল সোমবার ভোরের দিকে পোস্ট করা সেই বার্তায় মেয়র বলেন, ইউক্রেন থেকে আসা সব ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। মস্কোর বিভিন্ন সড়কে পড়ে আছে ড্রোনগুলোর ধ্বংসাবশেষ, সেগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে। বাড়তি সতর্কতা হিসেবে মস্কোর আকাশসীমা বন্ধ করা হচ্ছে এবং শেরেমেতিওভো, দোমোদেদোভা, ভ্যাংকুভার ও ঝুকোভস্কি– রাজধানীর চারটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম অস্থায়ীভাবে স্থগিত করা হয়। কয়েক ঘণ্টা পর ফের চালু করা হয় বিমানবন্দরগুলো।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

খামেনির শেষ বিদায়, তেহরানে ৩ দিনের ছুটি ঘোষণা

প্রকাশিত :  ১৯:০৬, ২৩ জুন ২০২৬

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায় ও জানাজা উপলক্ষে রাজধানী তেহরানে টানা তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও দাফন প্রক্রিয়া কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ৪ ও ৫ জুলাই তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৬ জুলাই রাজধানীতে আনুষ্ঠানিক জানাজা ও শেষ বিদায়ের আয়োজন করা হয়েছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে তেহরান প্রদেশে তিন দিন সরকারি ছুটি কার্যকর থাকবে।

পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে ৭ জুলাই পবিত্র নগরী কুমে আরেকটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে এবং ৯ জুলাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পবিত্র শহর মাশহাদে তাকে চূড়ান্তভাবে দাফন করা হবে।

ইসলামি বিপ্লবের নেতা খামেনি প্রায় ৩৬ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলার প্রথম দিন তিনি নিহত হন। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তার রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কয়েক দফা পিছিয়ে দেওয়া হয়।

খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কেবল একটি ধর্মীয় বা রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ইরানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ও ক্ষমতার রূপান্তরের প্রতীক হিসেবেও এটিকে দেখা হচ্ছে। অনুষ্ঠানগুলোতে দেশজুড়ে লাখো মানুষের সমাগম হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় ইরানজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখা হয়েছে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর