img

মসজিদে আগুন দিয়ে হিব্রুতে স্লোগান লিখে গেলেন ইসরায়েলিরা

প্রকাশিত :  ১০:০৭, ১৭ জুন ২০২৬

মসজিদে আগুন দিয়ে হিব্রুতে স্লোগান লিখে গেলেন ইসরায়েলিরা

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লার উত্তরে অবস্থিত জিলজিলিয়া ও মাজরা আল-নুবানি গ্রামের দুটি মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বুধবার ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা মসজিদ দুটির বিভিন্ন অংশে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং দেয়ালে হিব্রু ভাষায় বিভিন্ন স্লোগান লিখে রেখে যায়। এ তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ভোরে একদল বসতি স্থাপনকারী জিলজিলিয়া গ্রামে প্রবেশ করে স্থানীয় মসজিদে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে মসজিদের নারীদের নামাজের অংশ পুড়ে যায় এবং ভবনের বাইরের দেয়ালেরও ক্ষতি হয়।

বাসিন্দাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জিলজিলিয়া গ্রামে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনা বেড়েছে। গত মাসেও তারা গ্রামটিতে হামলা চালিয়ে একটি ভেড়ার পাল নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে পৃথক আরেক ঘটনায় মাজরা আল-নুবানি গ্রামেও একটি মসজিদে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে মসজিদের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলাকারীরা দুই মসজিদের দেয়ালেই হিব্রু ভাষায় বিভিন্ন স্লোগান লিখে রেখে যায়।

স্থানীয় ও মানবাধিকার সূত্রগুলোর দাবি, অধিকৃত পশ্চিম তীরে সাম্প্রতিক সময়ে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে হামলা, অগ্নিসংযোগ, জমি দখল এবং কৃষকদের নিজ জমিতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনা বেড়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েলি বসতিগুলোর আশপাশের এলাকায় এসব ঘটনা বেশি ঘটছে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে সহিংসতা বৃদ্ধির ফলে অন্তত ১,১৬৯ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১২,৬৬৬ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে প্রায় ২৩ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে এবং প্রায় ৩৩ হাজার ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ভারতে নয় বাংলাদেশ-পাকিস্তানে গিয়ে নামাজ পড়ুন কেউ কিছু বলবে না: বিজেপির মন্ত্রী

প্রকাশিত :  ০৮:০০, ১৭ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে আগামী ২১ জুন পশ্চিমবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রোববার অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। এ উপলক্ষে কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি সেখানে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও।

যোগ দিবসের এই কর্মসূচির হবে রেড রোডে। এজন্য কলকাতার অন্যতম ব্যস্ততম এই রাস্তা সাত দিনের জন্য বন্ধ রাখা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই মঞ্চ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। সেই কারণে গত রোববার রাত ১০টা থেকে আগামী রবিবার ২১ জুন পর্যন্ত রেড রোডে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

এদিকে, রেড রোডে যোগ দিবসের অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হলেও সম্প্রতি ঈদের নামাজ সেখানে আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একাংশ। রেড রোডে নামাজে অনুমতি দেয়া না হলে, যোগ দিবসের অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়া হচ্ছে কেন? তাদের দাবি, একই স্থানে এক অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হলে অন্যটির ক্ষেত্রেও সমান সুযোগ থাকা উচিত।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) এ বিষয় নিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এলে তো সব রাস্তায় বন্ধ থাকে, তিনি যেখানেই যাবেন সেখানেই বন্ধ হয়। যেখানে যান চলাচল কম (রেড রোড) সেখানে তার কর্মসূচি করা হয়েছে অন্য কোনো রাস্তায় করলে আরও বেশি সমস্যা হতো।’

তবে ঈদের নামাজের জন্য রেড রোড ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি আরও কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘উনারা কোন \'হরি-দাস-পাল\' যে তাদের জন্য রাস্তা আটকাতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর জন্য রাস্তা আটকানো যায়, মুখ্যমন্ত্রীর জন্য রাস্তা আটকানো যায়, এটা ঠিকই আছে। বছরে উনি (প্রধানমন্ত্রী) একবারই আসছেন। ১০৭ বছর ধরে তো চলেছে, একবার বন্ধ করে দেয়াতে দমবন্ধ হয়ে যাচ্ছে।’

এ সময় তিনি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘যান বাংলাদেশ, পাকিস্তানে চলে যান, সেখানে গিয়ে নামাজ পড়ুন, কেউ কিছু বলবে না। এখানে এসব কিছু চলবে না। সরকার পাল্টে গেছে। এগুলো বন্ধ করার জন্য লোকে পাল্টেছে। আর এগুলো বন্ধ হবেই।’