img

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার প্রভাবে কমল তেলের দাম, তিন মাসের সর্বনিম্নে

প্রকাশিত :  ০৬:৫৫, ১৫ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:১৮, ১৫ জুন ২০২৬

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার প্রভাবে কমল তেলের দাম, তিন মাসের সর্বনিম্নে

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম গত মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির খবর প্রকাশের পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে, যা জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমিয়েছে।

আজ সোমবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টা ৪ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৫৮ ডলার বা ৪ দশমিক ১০ শতাংশ কমে ৮৩ দশমিক ৭৫ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৪ দশমিক ০১ ডলার বা ৪ দশমিক ৭২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮০ দশমিক ৮৭ ডলারে নেমে আসে।

এর আগে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তিচুক্তির মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ জানান, আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারকে সই করতে যাচ্ছে।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, কোনো ধরনের টোল ছাড়াই হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধও প্রত্যাহার করা হবে।

এদিকে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, খসড়া চুক্তি অনুযায়ী ইরানের তত্ত্বাবধানে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা হবে।

বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ঘিরে তেলের দামে যে অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল, তা দ্রুত কমতে শুরু করেছে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটেরার রয়টার্সকে বলেন, ব্যবসায়ীরা এখন তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন, ফলে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির প্রভাবও কমে আসছে।

উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের কারণে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

পুতিন-জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনালাপ, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে সহায়তার আশ্বাস ট্রাম্পের

প্রকাশিত :  ০৭:২২, ১৫ জুন ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার (১৪ জুন) রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে জানিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান এখন অত্যন্ত জরুরি এবং এ বিষয়ে তিনি সহযোগিতা করতে আগ্রহী। ক্রেমলিনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভের বরাত দিয়ে রুশ সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

উপদেষ্টা উশাকভ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইউক্রেন সংঘাতের বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও জোর দিয়ে বলেছেন যে যুদ্ধ বন্ধ করা জরুরি।’

তিনি জানান, ট্রাম্প ইউরোপীয় অংশীদার এবং কিয়েভের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছেন, যার মধ্যে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিতব্য জি-৭ সম্মেলনে আলোচনাও অন্তর্ভুক্ত।

উশাকভ আরও জানান, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার শিগগিরই আবার রাশিয়া সফর করবেন।

তবে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বর্তমানে কিছুটা স্থবির হয়ে আছে, কারণ ওয়াশিংটনের মূল মনোযোগ এখন ইরান সংকটের দিকে। রোববারের ফোনালাপে ট্রাম্প ও পুতিন ইরান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন।

উশাকভ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, ‘একটি চুক্তি খুব কাছাকাছি এবং কঠিন হলেও সফল আলোচনার ফলাফল শিগগিরই প্রকাশ করা যেতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।’

তিনি আরও জানান, পুতিন অনানুষ্ঠানিকভাবে ট্রাম্পকে তার ৮০তম জন্মদিনের শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন।

অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে তিনি রুশ আগ্রাসন এবং যুদ্ধ অবসানের প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করবেন।

রোববার ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিনে, জেলেনস্কিও মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, ‘আমরা এমন কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি যা এখনই শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করতে পারে। আমি প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধক্ষেত্রের সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং আমাদের অবস্থান কীভাবে শক্তিশালী হয়েছে, সে বিষয়ে অবহিত করেছি।’

জেলেনস্কি আরও বলেন, ‘আমরা একমত হয়েছি যে জি-৭ সম্মেলনে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা করব। আমাদের কাছে কিছু ভালো ধারণা রয়েছে, যা শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের জীবন রক্ষায় সহায়ক হতে পারে। ‘

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর