img

আজই চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা ট্রাম্পের, ভিন্ন সুর আইআরজিসির

প্রকাশিত :  ০৫:১৭, ১৪ জুন ২০২৬

আজই চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা ট্রাম্পের, ভিন্ন সুর আইআরজিসির

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচিত শান্তিচুক্তি রোববার (১৪ জুন) স্বাক্ষরিত হবে। তবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত নয় এবং ওই দিন স্বাক্ষরের কোনো সম্ভাবনাও নেই।

গতকাল শনিবার (১৩ জুন) ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি ‘আগামীকাল স্বাক্ষরের জন্য নির্ধারিত’। তার মতে, চুক্তি সম্পন্ন হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবার উন্মুক্ত হবে।

অন্যদিকে তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছে, দুই পক্ষ একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে স্বাক্ষরের সময়সূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা শুক্রবার জানান, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলে তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নির্ধারণে নতুন করে ৬০ দিনের আলোচনা শুরু হবে।

আইআরজিসি এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের ঘোষণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলেছে, ইরানের আলোচকরা স্পষ্ট করেছেন যে সমঝোতা স্মারক এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং রোববার স্বাক্ষরের প্রশ্নই ওঠে না। তাদের ভাষ্য, এই ঘোষণা ইরানের আলোচক দলের জন্য এক ধরনের ‘পরীক্ষা’।

টেলিগ্রামে প্রকাশিত বার্তায় আইআরজিসি দাবি করে, ১৪ জুন ট্রাম্পের জন্মদিন হওয়ায় তিনি প্রতীকীভাবে ওই দিনটিকে ব্যবহার করতে চাইছেন। কিছু পর্যবেক্ষকের ধারণা, ব্যক্তিগত প্রচারণার উদ্দেশ্যে ট্রাম্প এ তারিখকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার হয়েছে। তবে সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত ও সময় নির্ধারণ নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানে এখনো অমিল রয়ে গেছে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি: আব্বাস আরাগচির বিরুদ্ধে ইরানে বিক্ষোভ

প্রকাশিত :  ০৭:৫৬, ১৪ জুন ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন কিছু মানুষ।

গতকাল শনিবার (১৩ জুন) রাতে মার্কিনিদের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে টেলিভিশনে একটি সাক্ষাৎকার দেন আরাগচি। এরপরই মাসহাদে ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভবনের সামনে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়।

বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজের প্রচারিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, কালো চাদর পরা এক নারী স্লোগান দিচ্ছেন ‘অনুপ্রবেশকারী বেঈমান আরাগচির মৃত্যু হোক’। এ সময় তিনি কালো ও লাল পতাকা উড়াচ্ছিলেন।

এসব বিক্ষোভকারীর মতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে শর্তে চুক্তি হতে যাচ্ছে সেগুলো ইরানের স্বার্থ করবে না। এরসঙ্গে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য থাকা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণও ইরান হারাবে। তাদের অভিযোগ, চুক্তি করতে ইরানি আলোচকরা অনেক বেশি ছাড় দিয়েছে।

রোববার চুক্তি স্বাক্ষর হবে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিলেও তা নাকচ করেছে তেহরান। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন হাজার হাজার ইরানি।

শনিবার সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি রোববারই স্বাক্ষরিত হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাধা-বিঘ্ন ছাড়াই চলাচল নিশ্চিত হবে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আলোচনায় থাকা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও চুক্তি সইয়ের বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

তবে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিকভাবে সমঝোতা চুক্তির ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসমাঈল বাঘাই জানিয়েছেন, রোববার চুক্তি স্বাক্ষরের কোনো পরিকল্পনা নেই, তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সমঝোতা হতে পারে।

এর মধ্যেই ট্রাম্পের ঘোষণার বিরুদ্ধে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছেন। রাজধানী তেহরানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে জড়ো হয়ে তারা সরকারের একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।

বিক্ষোভকারীদের অনেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে উদ্দেশ করে স্লোগান দেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার বিরোধিতা করেন।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর