img

যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলার জবাব হবে ভয়াবহ: আরাগচি

প্রকাশিত :  ০৫:৩৭, ১০ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলার জবাব হবে ভয়াবহ: আরাগচি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো হামলার জবাব হবে ভয়াবহ।

গতকাল মঙ্গলবার (৯ জুন) মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে পাল্টা হামলা চালানোর প্রেক্ষাপটে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সিএনএন -এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয়ের পরও যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দৃঢ়তা পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী কোনো হামলা বা হুমকিকেই জবাবহীন রাখবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘নিরাপদ থাকতে চাইলে আমাদের অঞ্চল ছেড়ে চলে যান।’

এর আগে সিএনএনকে দুটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক হামলাগুলো হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আরাগচির এ বক্তব্য নতুন করে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত অন্তত ১৩

প্রকাশিত :  ০৮:০৫, ১০ জুন ২০২৬

আফগানিস্তানের ভেতরে পাকিস্তানের নতুন বিমান হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (১০ জুন) আফগান সরকারের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে দুই দেশের সীমান্তজুড়ে চলমান সংঘর্ষে ইতোমধ্যে শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানা গেছে।

তালেবানের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে জানান যে পাকিস্তানের এই সাম্প্রতিক বিমান হামলাগুলো মূলত আফগানিস্তানের খোস্ত, কুনার এবং পাক্তিকা প্রদেশকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। এই হামলায় নিহতদের মধ্যে ১১ জন শিশু, একজন নারী এবং একজন বৃদ্ধ রয়েছেন। তবে এই বিমান হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা শিকারোক্তি পাওয়া যায়নি।

আফগানিস্তানের সীমান্ত ঘেঁষা পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের হাসান খেল এলাকায় একটি নিরাপত্তা চৌকিতে সন্দেহভাজন পাকিস্তানি তালেবান জঙ্গিদের হামলার ঠিক এক দিন পর এই বিমান হামলা চালানো হলো। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জঙ্গিদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ওই তীব্র বন্দুকযুদ্ধে ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারির ৬ জন সদস্য নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। 

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলে ৮ জন হামলাকারীকে হত্যা করে এবং চেকপোস্ট দখলের চেষ্টা নসাৎ করে দেয়। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহসিন নাকভি পেশোয়ারে নিহতদের জানাজায় অংশ নিয়ে জঙ্গিবাদ বিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে আফগানিস্তান কর্তৃক পাকিস্তানের অভ্যন্তরে পাল্টা সীমান্ত হামলার পর থেকেই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত হয়। পাকিস্তানে বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর জঙ্গি হামলা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারিতে ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়। 

পরবর্তীতে মার্চ মাসে কাবুলের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানি বিমান হামলায় ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয় বলে আফগানিস্তান দাবি করে। তবে পাকিস্তান এই দাবি অস্বীকার করে জানায় যে তারা কোনো বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নয়, বরং একটি গোলাবারুদের ডিপোতে আঘাত হেনেছিল।

এই নতুন সামরিক উত্তেজনা এমন এক সময়ে তৈরি হলো যার মাত্র কয়েক মাস আগে চীন উত্তর অঞ্চলের উরুমকিতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে একটি বিশেষ শান্তি আলোচনার আয়োজন করেছিল। ওই বৈঠকের পর বেইজিং জানিয়েছিল যে দুই দেশই সংঘাত আর না বাড়াতে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে সম্মত হয়েছে। 

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে আফগানিস্তান তাদের মাটিতে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা ‘টিটিপি’র মতো উগ্রপন্থী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে, যারা পাকিস্তানে ক্রমাগত আত্মঘাতী হামলা চালাচ্ছে। তবে ২০২১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর থেকে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় থাকা আফগান তালেবান প্রশাসন ইসলামাবাদের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আসছে।

সূত্র: এনডিটিভি

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর