img

ইউক্রেন যুদ্ধে সমর্থনের জন্য উত্তর কোরিয়াকে ধন্যবাদ জানালেন পুতিন

প্রকাশিত :  ১০:০৬, ২০ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:০৯, ২০ জুলাই ২০২৬

ইউক্রেন যুদ্ধে সমর্থনের জন্য উত্তর কোরিয়াকে ধন্যবাদ জানালেন পুতিন

ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকে রাশিয়ার প্রতি অব্যাহত সমর্থন জানিয়ে আসায় উত্তর কোরিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রোববার (১৯ জুলাই) রাশিয়া সফররত উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চোয়ে সন হুইয়ের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ ধন্যবাদ জানান।

ক্রেমলিন প্রকাশিত ভিডিওতে পুতিন বলেন, ইউক্রেনে পরিচালিত রাশিয়ার ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’এ উত্তর কোরিয়ার সমর্থনের জন্য তিনি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার সেনাদের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাশিয়া কখনো ভুলবে না এবং তাদের নিজ দেশের নাগরিকদের মতোই সম্মান জানানো হবে।

এ সময় উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে গড়ে ওঠা পারস্পরিক আস্থা ও বোঝাপড়ারও প্রশংসা করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

এর আগে শনিবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের আমন্ত্রণে সরকারি সফরে রাশিয়ায় গেছেন উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চোয়ে সন হুই।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি মস্কোর যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র সরবরাহ করেছে।

অন্যদিকে বিশ্লেষকদের মতে, এর বিনিময়ে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা, খাদ্য, জ্বালানি এবং সামরিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা পেয়েছে।

এপ্রিলের শেষ দিকে জ্যেষ্ঠ রুশ কর্মকর্তাদের পিয়ংইয়ং সফরের সময় উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনও ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার প্রতি তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং মস্কোর বিজয় নিশ্চিত করতে সহায়তা করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

 


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

মেসিকে কীভাবে আটকেছেন, জানালেন স্পেনের কোচ

প্রকাশিত :  ১০:৩৬, ২০ জুলাই ২০২৬

লিওনেল মেসিকে কার্যকরভাবে নিষ্ক্রিয় করে রাখা ছিল স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম ভিত্তি । ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পর সেই সফল কৌশলের কথা তুলে ধরেছেন স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তার মতে, দলগত শৃঙ্খলা, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিটি খেলোয়াড়ের নিখুঁত দায়িত্ব পালনই বিশ্বকাপ জয়ের মূল চাবিকাঠি।

পুরো ২০২৬ বিশ্বকাপজুড়ে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও নিজের অসাধারণ পারফরম্যান্সে দলকে একের পর এক কঠিন পরীক্ষা পার করিয়ে ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। কিন্তু শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে সেই পরিচিত মেসিকে খুব একটা দেখা যায়নি। স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রিত মাঝমাঠের কারণে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক পুরো ম্যাচে নিজের স্বাভাবিক প্রভাব বিস্তার করতে ব্যর্থ হন।

ফাইনালের পর দে লা ফুয়েন্তে জানান, শুরু থেকেই তাদের লক্ষ্য ছিল মেসিকে বিপজ্জনক জায়গা থেকে দূরে রাখা এবং বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা। এই পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন তার খেলোয়াড়রা। ফলে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগও ছন্দ হারায় এবং মেসি ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেননি।

ইতালির সংবাদমাধ্যম রাই স্পোর্টস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্প্যানিশ কোচ বলেন, পুরো বিশ্বকাপজুড়ে তার দল ধারাবাহিকভাবে ভালো ফুটবল খেলেছে এবং প্রতিটি ম্যাচ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিয়েছে। তার বিশ্বাস, ফাইনালেও স্পেনই ছিল শ্রেষ্ঠ দল। যদিও ব্যবধান আরও বড় হতে পারত, তবু বিশ্বকাপের মতো বড় ম্যাচে জয় কখনো সহজে আসে না। কঠোর পরিশ্রম, আত্মত্যাগ এবং ধৈর্যের ফল হিসেবেই এই শিরোপা এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মেসিকে থামানোর পরিকল্পনা প্রসঙ্গে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখাই ছিল তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। পজেশনভিত্তিক ফুটবল খেলায় আর্জেন্টিনার অধিনায়ককে এমন সব জায়গায় আটকে রাখা হয়েছে, যেখান থেকে তিনি ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলতে পারেননি। তার মতে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিটি খেলোয়াড় শতভাগ সফল হয়েছে।

স্পেনের কোচ আরও বলেন, এই বিশ্বকাপ জয়ে কোনো একক তারকার অবদান নয়, বরং পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তার ভাষায়, দলের প্রতিটি ফুটবলার নিজের দায়িত্ব নিখুঁতভাবে পালন করেছেন এবং সবাই মিলে একটি শক্তিশালী ইউনিট হিসেবে খেলেছেন। সেই কারণেই স্পেন পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে প্রতিপক্ষের ওপর আধিপত্য ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

খেলোয়াড়দের প্রশংসা করে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, তার দলে বিশ্বের সেরা কয়েকজন ফুটবলার রয়েছে, যারা কঠিন পরিস্থিতিকেও সহজ করে তুলতে পারে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, প্রত্যেকেই দলের জন্য সর্বোচ্চ নিবেদন দেখিয়েছে। তিনি মনে করেন, স্পেন শুধু প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের দল নয়, বরং পুরো বিশ্বকাপের সবচেয়ে সংগঠিত ও ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবেই নিজেদের প্রমাণ করেছে। সেই কারণেই শেষ পর্যন্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট উঠেছে লা রোজার মাথায়।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর