img

সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত :  ১৪:০৫, ১৯ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৬:০২, ১৯ জুলাই ২০২৬

সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। তবে সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে মার্কিন সহযোগিতার এই খসড়া চুক্তি এখনো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

গতকাল শনিবার (১৮ জুলাই) সিএনএন প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে ২০২৫ সালের অক্টোবরে আলোচনা শেষ হলেও চুক্তিতে এখনো স্বাক্ষর হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে ট্রাম্প অনুমোদন দিতে দেরি করছেন। এছাড়া মার্কিন কংগ্রেসে বিরোধিতার মুখে চুক্তি আটকে যেতে পারে বলেও প্রশাসনের আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের চুক্তি সৌদি আরবের জন্য ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ উন্মুক্ত করতে পারে। এর আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে, তবে সৌদি আরবও একই পথে হাঁটবে।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস কোনো মন্তব্য করেনি। তারা ২০২৫ সালের অক্টোবরে জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটের দেওয়া এক বিবৃতির কথা উল্লেখ করেছে। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছি। এর মাধ্যমে সৌদি আরবে মার্কিন পারমাণবিক প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে দৃঢ় অঙ্গীকার বজায় রাখা হবে।’

একাধিক সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্যকে চুক্তির মূল বিষয়গুলো জানিয়েছেন। তখনই জানানো হয়, সৌদি আরবকে সীমিত পরিসরে নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অথবা প্লুটোনিয়াম প্রক্রিয়াকরণের বিশেষ সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এমন ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

যদিও সমৃদ্ধকরণের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কিছু শর্ত থাকবে, তবে সেগুলোর বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রতিটি প্রযুক্তি বা উপকরণ হস্তান্তরের আগে আলাদা অনুমোদন লাগবে।
তবে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ ও কংগ্রেস সদস্য। তারা বলছেন, এটি ২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের করা পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। ওই চুক্তিতে আমিরাত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও প্লুটোনিয়াম পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং আইএইএর পূর্ণাঙ্গ অতিরিক্ত নজরদারি মেনে নিয়েছিল। 

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

মেসিকে কীভাবে আটকেছেন, জানালেন স্পেনের কোচ

প্রকাশিত :  ১০:৩৬, ২০ জুলাই ২০২৬

লিওনেল মেসিকে কার্যকরভাবে নিষ্ক্রিয় করে রাখা ছিল স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম ভিত্তি । ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পর সেই সফল কৌশলের কথা তুলে ধরেছেন স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তার মতে, দলগত শৃঙ্খলা, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিটি খেলোয়াড়ের নিখুঁত দায়িত্ব পালনই বিশ্বকাপ জয়ের মূল চাবিকাঠি।

পুরো ২০২৬ বিশ্বকাপজুড়ে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও নিজের অসাধারণ পারফরম্যান্সে দলকে একের পর এক কঠিন পরীক্ষা পার করিয়ে ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। কিন্তু শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে সেই পরিচিত মেসিকে খুব একটা দেখা যায়নি। স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রিত মাঝমাঠের কারণে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক পুরো ম্যাচে নিজের স্বাভাবিক প্রভাব বিস্তার করতে ব্যর্থ হন।

ফাইনালের পর দে লা ফুয়েন্তে জানান, শুরু থেকেই তাদের লক্ষ্য ছিল মেসিকে বিপজ্জনক জায়গা থেকে দূরে রাখা এবং বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা। এই পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন তার খেলোয়াড়রা। ফলে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগও ছন্দ হারায় এবং মেসি ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেননি।

ইতালির সংবাদমাধ্যম রাই স্পোর্টস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্প্যানিশ কোচ বলেন, পুরো বিশ্বকাপজুড়ে তার দল ধারাবাহিকভাবে ভালো ফুটবল খেলেছে এবং প্রতিটি ম্যাচ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিয়েছে। তার বিশ্বাস, ফাইনালেও স্পেনই ছিল শ্রেষ্ঠ দল। যদিও ব্যবধান আরও বড় হতে পারত, তবু বিশ্বকাপের মতো বড় ম্যাচে জয় কখনো সহজে আসে না। কঠোর পরিশ্রম, আত্মত্যাগ এবং ধৈর্যের ফল হিসেবেই এই শিরোপা এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মেসিকে থামানোর পরিকল্পনা প্রসঙ্গে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখাই ছিল তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। পজেশনভিত্তিক ফুটবল খেলায় আর্জেন্টিনার অধিনায়ককে এমন সব জায়গায় আটকে রাখা হয়েছে, যেখান থেকে তিনি ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলতে পারেননি। তার মতে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিটি খেলোয়াড় শতভাগ সফল হয়েছে।

স্পেনের কোচ আরও বলেন, এই বিশ্বকাপ জয়ে কোনো একক তারকার অবদান নয়, বরং পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তার ভাষায়, দলের প্রতিটি ফুটবলার নিজের দায়িত্ব নিখুঁতভাবে পালন করেছেন এবং সবাই মিলে একটি শক্তিশালী ইউনিট হিসেবে খেলেছেন। সেই কারণেই স্পেন পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে প্রতিপক্ষের ওপর আধিপত্য ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

খেলোয়াড়দের প্রশংসা করে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, তার দলে বিশ্বের সেরা কয়েকজন ফুটবলার রয়েছে, যারা কঠিন পরিস্থিতিকেও সহজ করে তুলতে পারে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, প্রত্যেকেই দলের জন্য সর্বোচ্চ নিবেদন দেখিয়েছে। তিনি মনে করেন, স্পেন শুধু প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের দল নয়, বরং পুরো বিশ্বকাপের সবচেয়ে সংগঠিত ও ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবেই নিজেদের প্রমাণ করেছে। সেই কারণেই শেষ পর্যন্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট উঠেছে লা রোজার মাথায়।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর