img

যৌন নিপীড়নের দায়ে অবশেষে ক্যারলকে ৫৬ লাখ ডলা রের বেশি ক্ষতিপূরণ দিলেন ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ১১:৩৭, ১৫ জুলাই ২০২৬

যৌন নিপীড়নের দায়ে অবশেষে ক্যারলকে ৫৬ লাখ ডলা রের  বেশি ক্ষতিপূরণ দিলেন ট্রাম্প

যৌন নিপীড়ন ও মানহানির মামলায় লেখিকা ই. জিন ক্যারলকে ৫৬ লাখ ২০ হাজার ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্যারলের আইনজীবীরা মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর বিবিসির।

ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা ক্যাপলান জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ট্রাম্প ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করেছেন। এতে ৫০ লাখ ডলারের মূল ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি আপিল চলাকালে জমা হওয়া সুদের অর্থও রয়েছে।

ক্যারল অভিযোগ করেছিলেন, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে বার্গডর্ফ গুডম্যান ডিপার্টমেন্ট স্টোরের পোশাক পরিবর্তনের কক্ষে ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়ন করেন।

পরে ২০২২ সালে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ওই অভিযোগ অস্বীকার করেন। ক্যারলের দাবি ছিল, ওই পোস্টের মাধ্যমে তার মানহানি করা হয়েছে।

২০২৩ সালে নিউইয়র্কের একটি জুরি ট্রাম্পকে যৌন নিপীড়ন ও মানহানির দায়ে ক্যারলকে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ট্রাম্প রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও গত বছর ফেডারেল আপিল আদালত সেই রায় বহাল রাখে। এরপর গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টও মামলাটি পুনর্বিবেচনায় নিতে অস্বীকৃতি জানায়।

এর পর বিচারকের নির্দেশে ট্রাম্প ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করেন।

অন্যদিকে ট্রাম্প বরাবরই অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আসছেন। তার আইনজীবীরা মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

এদিকে ২০২৪ সালে আরেকটি মানহানি মামলায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রায় ৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণের যে রায় হয়েছিল, সেটির বিরুদ্ধেও তিনি এখনো আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

মোসাদের পরিকল্পনার অভিযোগ নাকচ করলেন আহমাদিনেজাদ

প্রকাশিত :  ১১:২৮, ১৫ জুলাই ২০২৬

ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ তাকে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরাতে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কোনো গোপন পরিকল্পনা রয়েছে— এমন দাবি সরাসরি নাকচ করেছেন। তিনি এ ধরনের অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও সম্পূর্ণ অসত্য বলে দাবি করেছেন।

আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে আহমাদিনেজাদের গণমাধ্যম কার্যালয় জানায়, এ ধরনের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তাদের দাবি, এটি জনমত বিভ্রান্ত করার জন্য চালানো একটি ‘মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণা’।

ইরানের সংবাদমাধ্যম বাহার নিউজে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সত্য নয়। তাদের অভিযোগ, পত্রিকাটি ‘মিথ্যা ও মনগড়া’ খবর প্রকাশ করেছে।

এর আগে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ গোপনে আহমাদিনেজাদকে আবার ক্ষমতায় ফেরানোর একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছিল। তবে এ অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছেন ইরানের সাবেক এই প্রেসিডেন্ট।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল আহমাদিনেজাদের বাসভবনকে বিমান হামলা চালায়। এতে মূলত তার দেহরক্ষীদের ভবন ও বুলেটপ্রুফ একটি গাড়ি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।

ইরানের চারজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে আরও দাবি করা হয়, হামলার পর ঘটনাস্থলে একটি কালো রঙের প্যুজো গাড়ি এসে আহমাদিনেজাদকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নেয়।

মোসাদের সদস্যরা গাড়িটি চালাচ্ছিলেন উল্লেখ করে অভিযান সম্পর্কে অবগত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তরা জানান, তারা আহমাদিনেজাদকে ইরানের ভেতরে একটি গোপন নিরাপদ আস্তানায় নিয়ে যান।

তবে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, এ তড়িঘড়ি উদ্ধার অভিযানে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন আহমাদিনেজাদ। একই সঙ্গে তাকে আবার ক্ষমতায় বসানোর ইসরায়েলের পরিকল্পনা নিয়েও তার মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছিল।

২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। গত সপ্তাহে তার জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠিত হয়। আহমাদিনেজাদ জানাজায় অংশ নিয়েছেন। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটাই ছিল জনসমক্ষে তার প্রথমবার উপস্থিত হওয়া।

আহমাদিনেজাদ ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একজন সংস্কারবাদী এবং কট্টর ইসরায়েল ও মার্কিনবিরোধী নেতা হিসেবে তার বিশেষ পরিচিতি রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি মানচিত্র থেকে ইসরায়েলকে মুছে ফেলার ঐতিহাসিক আহ্বানটি জানিয়েছিলেন। পরে ২০০৫ সালে প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ একটি সম্মেলনে খোমেনির ওই বক্তব্য আবার উদ্ধৃত করে নতুন করে সারাবিশ্বে আলোড়ন তৈরি করেন। সংবাদমাধ্যমগুলোতে তার এ বক্তব্যটি ইংরেজিতে ‘wipe Israel off the map’ (মানচিত্র থেকে ইসরায়েলকে মুছে ফেলা) হিসেবে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছিল।