img

ইরানে রাতভর দফায় দফায় বিস্ফোরণ, হামলার দায় অস্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশিত :  ০৭:১৭, ১০ জুলাই ২০২৬

ইরানে রাতভর দফায় দফায় বিস্ফোরণ, হামলার দায় অস্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) গভীর রাত থেকে ইরানের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক দফায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এসব ঘটনায় নিজেদের কোনো ভূমিকা নেই বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। নতুন এই বিস্ফোরণগুলো নিয়ে অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ও রহস্য তৈরি হয়েছে।

আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের আধা-সরকারি গণমাধ্যমগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে। মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বুশেহর শহর ও আশপাশের চোগাদাক এলাকায় এবং দক্ষিণাঞ্চলের কোনারাক শহরে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বুশেহরে রয়েছে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) আল জাজিরাকে সরাসরি জানিয়েছে, গত কয়েক ঘণ্টায় ইরানের ভেতরে তারা কোনো হামলা চালায়নি।

মঙ্গলবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। এর মধ্যে ইরান কাতার, বাহরাইন ও কুয়েতের সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে। জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তা এখন আরও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

বুশেহরের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক উপ-গভর্নর এহসান জাহানিয়ান বলেছেন, শহরে শোনা বিস্ফোরণের শব্দ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার কারণে হয়েছে। তিনি জানান, শহরের উপকণ্ঠে একটি সামরিক স্থাপনায় প্রজেক্টাইল আঘাত করেছে।

বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়েছে। দুই নেতা উপসাগরীয় অঞ্চলে সমন্বয় অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

হাতজেরিম বিমানঘাঁটিতে বিমানবাহিনীর গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। সামনে আরও চ্যালেঞ্জ আছে। ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরও বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান এখনও চলছে এবং বড় ধরনের নতুন অভিযানের প্রস্তুতি রয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, প্রয়োজনে আবারও ইরানে হামলা চালাতে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার পর থেকেই এই নতুন সংঘাত তীব্র হয়। ইরান চায় সব জাহাজ তাদের নিয়ন্ত্রিত পথ দিয়ে চলাচল করুক। অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশগুলো এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানি নেতাদের ‘নোংরা লোক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে আগের সমঝোতা কার্যত শেষ। তবে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ তা বাতিল করেনি।


 


img

পেনাল্টি মিসের জন্য রেফারিকেই দায়ী করলেন এমবাপ্পে

প্রকাশিত :  ১২:০০, ১০ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:১৩, ১০ জুলাই ২০২৬

কিলিয়ান এমবাপ্পে গত রাতে পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারলে চলতি বিশ্বকাপে গোলসংখ্যায় লিওনেল মেসির সমকক্ষ হয়ে যেতেন। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ফ্রান্স অধিনায়ক। মরক্কোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে তার নেওয়া স্পটকিক ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। ম্যাচ শেষে সেই পেনাল্টি মিসের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন এমবাপ্পে।

বোস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ২৮ মিনিটে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। স্পটকিক নিতে এগিয়ে যান এমবাপ্পে, কিন্তু তার শট সরাসরি বুনুর হাতে চলে যায়। অথচ এর আগের ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে পেনাল্টি থেকেই গোল করেছিলেন এই ফরাসি তারকা।

ম্যাচ শেষে এমবাপ্পে জানান, পেনাল্টি নেওয়ার আগে একাধিকবার সিদ্ধান্ত বদলানো এবং দীর্ঘ ভিএআর প্রক্রিয়ার কারণে তার মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে। তিনি বলেন, রেফারি প্রথমে আমাকে জানান যে পেনাল্টি হয়েছে। আমি জানতে চাই, সিদ্ধান্তটি ভিএআরে যাচাই করা হয়েছে কি না। তিনি বলেন, হয়েছে। এরপর থেকেই আমি প্রস্তুতি নিতে শুরু করি এবং উসমান আমাকে বল এনে দেয়।

তবে এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এমবাপ্পে বলেন, আমি যখন পেনাল্টি নেওয়ার জন্য মনোযোগ দিচ্ছিলাম, তখন রেফারি এসে বললেন যে পেনাল্টি হয়নি। আমি বলটি তুলে নিই। পরে তিনি আবার বলেন পেনাল্টি হয়েছে, তাই বলটি আবার স্পটে রাখি। কিন্তু এরপর তিনি জানান, দুই মিনিট আগের একটি ঘটনা আবার পরীক্ষা করতে হবে।   

ঘটনার সূত্রপাত ২৫ মিনিটে। মরক্কোর ডিফেন্ডার নুসাইর মাজরাউই বক্সের ভেতরে এমবাপ্পেকে ফেলে দিলে রেফারি সম্ভাব্য পেনাল্টির সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার জন্য ভিএআরের সাহায্য নেন। পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় তিন মিনিট সময় লাগে।

এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণে মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছিলেন বলে স্বীকার করেন এমবাপ্পে। তিনি বলেন, পেনাল্টি নেওয়ার সময় কীভাবে মনোযোগ ধরে রাখতে হয়, সে বিষয়ে অনেক কিছু ভেবেছি। কিন্তু এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি আগে কখনও হইনি। কিছুটা মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছিলাম।

চলতি বিশ্বকাপে ভিএআর নিয়ে নানা বিতর্কের মধ্যেই এমবাপ্পে আধুনিক ফুটবলে প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে নিজের মতামতও দিয়েছেন। তার ভাষায়, এটি এমন একটি বিষয়, যা আমাদের মেনে নিতে হবে। ভিএআর এখন ফুটবলের অংশ। প্রযুক্তি আসার পর খেলার ধরন বদলেছে এবং আমাদেরও এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।

যদিও পেনাল্টি মিস করেছিলেন, ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে নিজের প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখিয়েছেন এমবাপ্পে। ৬০ মিনিটে নিজেই গোল করেন তিনি। এরপর ৬৬ মিনিটে উসমান দেম্বেলের গোলেও অবদান রাখেন। তাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে ফ্রান্স।

ম্যাচ শেষে ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম এমবাপ্পের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আজকের ম্যাচ কঠিন ছিল। আমরা পেনাল্টি মিস করেছি, আরও কিছু সুযোগও নষ্ট করেছি। কিন্তু কিলিয়ান থাকলে দল আত্মবিশ্বাস পায়। সুযোগ নষ্ট করার পরও সে কখনো দ্বিধায় ভোগে না। অনেকে তাকে স্বার্থপর বলে, কিন্তু সে একজন প্রকৃত নেতা এবং দলের জন্য আদর্শ অধিনায়ক।

চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৮ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে রয়েছেন এমবাপ্পে। সমান ৮ গোল রয়েছে লিওনেল মেসিরও। তবে অ্যাসিস্টের হিসেবে এগিয়ে ফরাসি তারকা। মেসির অ্যাসিস্ট সংখ্যা ১, যেখানে এমবাপ্পে করেছেন ৩টি। অন্যদিকে উসমান দেম্বেলে করেছেন ৫ গোল, যার মধ্যে রয়েছে একটি হ্যাটট্রিকও।

ফ্রান্সের ১৬ গোলের মধ্যে ১১টিই এসেছে এমবাপ্পে ও দেম্বেলের কাছ থেকে। ক্লাব ফুটবলের দুর্দান্ত ফর্ম বিশ্বকাপের মঞ্চেও ধরে রেখে দলকে শিরোপার লড়াইয়ে এগিয়ে নিচ্ছেন এই দুই তারকা।