img

আরাগচি-গালিবাফকে হত্যার ছক ইসরায়েলের, ইরানকে সতর্ক করে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত :  ০৭:৫৬, ০৩ জুলাই ২০২৬

আরাগচি-গালিবাফকে হত্যার ছক ইসরায়েলের, ইরানকে সতর্ক করে যুক্তরাষ্ট্র

ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি আলোচনা চলাকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে ইসরায়েল হত্যা করতে পারে—এমন আশঙ্কা গত এপ্রিলেই প্রকাশ করেছিল মার্কিন প্রশাসন। সে সময় এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ ছিল বেশ তীব্র বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলের এই সম্ভাব্য গুপ্তহত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে পেরে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক সরকারগুলোর মাধ্যমে তেহরানকে আগেভাগেই সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর তৈরি করা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় অন্তত স্পিকার গালিবাফের নাম অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি জানতে পেরেই মার্কিন প্রশাসন ইসরায়েলকে এই পরিকল্পনা থেকে বিরত থাকার জোরালো আহ্বান জানায়। 

মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল যে এই ধরনের কোনো উচ্চপর্যায়ের হামলা চলমান যুদ্ধবিরতি কূটনীতিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেবে এবং এর ফলে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

প্রতিবেদনে গত এপ্রিল মাসের একটি বিশেষ ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলা হয়েছে যে ইসলামাবাদ সফর শেষে স্পিকার গালিবাফকে বহনকারী বিমানটি মাঝ আকাশেই তার পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছিল। সে সময় ইরানি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা দেশের আকাশসীমায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের অনধিকার প্রবেশের উপস্থিতি টের পেয়েছিলেন বলে মনে করা হয়। 

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

এই ধরনের চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই কূটনৈতিক আলোচনার সময় যাতে কোনো ইরানি আলোচকের ওপর হামলা না হয়, সে বিষয়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চেয়েছিল তেহরান।

একই সাথে ইরানি কর্মকর্তারা কাতার সরকারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেও ওয়াশিংটনের কাছ থেকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়েছিলেন যাতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার সময় ইসরায়েল কোনো ধরনের আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ না নেয়। মূলত এই কূটনৈতিক আলোচনার ধারাবাহিকতায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে তখন অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি প্রচেষ্টাগুলো এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছিল।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

img

বৈঠকে বসেছেন ইরান-বাংলাদেশের স্পিকার

প্রকাশিত :  ১৩:০৭, ০৩ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:১০, ০৩ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। শুক্রবার তেহরানে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় অংশ নিতে বর্তমানে তেহরান সফর করছেন স্পিকার।

বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক শান্তি এবং সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় স্পিকার গালিবাফ রাষ্ট্রীয় জানাজায় অংশ নিতে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের তেহরান সফরকে স্বাগত জানান এবং তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

বাংলাদেশের স্পিকার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানান। তিনি খামেনির হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেন, জাতীয় শোকের এই সময়ে বাংলাদেশ সরকার ও দেশের জনগণ ইরানের সরকার ও জনগণের পাশে রয়েছে।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশ ও ইরানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং জনগণের পারস্পরিক বন্ধনের কথাও তুলে ধরেন।

বৈঠকে তিনি সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত শান্তি বিষয়ক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়নে স্পিকার গালিবাফের ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সমঝোতা ইরান এবং পুরো অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।

বাংলাদেশ চলমান শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো বাকি সমস্যাগুলোরও স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাবে বলে বাংলাদেশ আশা করে।

এ সময় তিনি ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

এর আগে, রাষ্ট্রীয় জানাজায় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিতে বৃহস্পতিবার তেহরানে পৌঁছান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বিমানবন্দরে তাকে এবং প্রতিনিধি দলকে ইরানের ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির ডেপুটি স্পিকার হামিদ রেজা হাজি বাবাই স্বাগত জানান।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর