img

আফগান সীমান্তে পাকিস্তানের মুহুর্মুহু হামলা, নিহত ২৯

প্রকাশিত :  ০৬:২০, ২৯ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:২৪, ২৯ জুন ২০২৬

আফগান সীমান্তে পাকিস্তানের মুহুর্মুহু হামলা, নিহত ২৯

পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো এক বিশাল স্থল অভিযান ও বিমান হামলায় আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অন্তত ২৯ জন সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। করাচি শহরে আধাসামরিক বাহিনীর সদর দপ্তরে এক আত্মঘাতী হামলায় তিন পাকিস্তানি সেনা সদস্য নিহত হওয়ার ঠিক পরদিনই এই বড় ধরনের পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে এই বিশেষ সামরিক অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর চালানো একাধিক প্রাণঘাতী হামলার সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই নতুন অভিযানটি শুরু করা হয়েছে। 

পাকিস্তানি তথ্যমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী আফগানিস্তানের পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত পাক্তিয়া, পাক্তিকা এবং কুনার— এই তিন প্রদেশের সুনির্দিষ্ট তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত বিমান হামলা চালিয়ে যোদ্ধাদের আস্তানাগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তবে এই সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে আফগানিস্তানের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

এই ঘটনাটির ঠিক একদিন আগে পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী করাচিতে ভারী অস্ত্র ও বিস্ফোরক নিয়ে একদল যোদ্ধা আধাসামরিক বাহিনী পাকিস্তান রেঞ্জার্সের আঞ্চলিক সদর দপ্তরে আকস্মিক হামলা চালায়। ওই সশস্ত্র সংঘর্ষে পাকিস্তানের তিন সেনা সদস্য নিহত হন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা গুলিতে তিন হামলাকারীও ঘটনাস্থলেই মারা যান। 

এ ছাড়া পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী সেখান থেকে এক আফগান নাগরিককে মারাত্মক আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। পাকিস্তানের নিষিদ্ধ সশস্ত্র সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপির একটি বিচ্ছিন্ন দল জামাত-উল-আহরার গত শনিবার রাতে এক বিবৃতির মাধ্যমে এই করাচি হামলার দায় স্বীকার করে।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার স্পষ্ট করে বলেছেন যে আফগান সীমান্তের এই বিশেষ অভিযানটি মূলত টিটিপি যোদ্ধাদের গোপন আস্তানা ও নিরাপদ আশ্রয়স্থলগুলো লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।

উল্লেখ্য যে পাকিস্তানের টিটিপি এবং আফগানিস্তানের বর্তমান ক্ষমতাসীন তালেবান দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ও পৃথক সশস্ত্র দল হলেও আদর্শগতভাবে তারা একে অপরের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার পর থেকেই পাকিস্তানের পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর এই ধরনের সশস্ত্র হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে রবিবারের এই আন্তঃসীমান্ত বিমান ও স্থল অভিযান মূলত ইসলামাবাদ এবং কাবুলের মধ্যকার ইতিমধ্যে অত্যন্ত তিক্ত ও ভঙ্গুর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও বেশি সংকটের মুখে ঠেলে দেবে। এর আগে আফগান ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানের ভেতরে চালানো হামলার পাল্টা জবাবে গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে দুই দেশের মধ্যে দফায় দফায় সামরিক সংঘাত চলছে, যাতে ইতিমধ্যে শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। 

যদিও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় একাধিকবার দ্বিপাক্ষিক শান্তি আলোচনা হয়েছে এবং গত এপ্রিল মাসে চীন দুই পক্ষকে নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠকও আয়োজন করেছিল, যেখানে কোনো ধরনের উত্তেজনা না বাড়ানোর বিষয়ে তারা সম্মত হয়েছিল।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে আফগানিস্তানের বর্তমান তালেবান সরকার টিটিপি এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর যোদ্ধাদের নিজেদের ভূখণ্ডে নিরাপদ আশ্রয় দিয়ে আসছে, যারা প্রতিনিয়ত পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ঢুকে মারাত্মক নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। তবে কাবুলের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন ইসলামাবাদের এই ধরনের সমস্ত অভিযোগ বরাবরই শক্তভাবে অস্বীকার করে আসছে।

সূত্র: আল জাজিরা


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

রাম মন্দিরের অনুদান আত্মসাৎ, বিপাকে মোদি সরকার

প্রকাশিত :  ১০:২৬, ২৯ জুন ২০২৬

ভারতের অযোধ্যায় সদ্য নির্মিত রাম মন্দিরে কোটি কোটি টাকার অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এই আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার চরম রাজনৈতিক অস্বস্তিতে পড়েছে।

আজ সোমবার (২৮ জুন) কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট নামক একটি স্বাধীন সংস্থা এই মন্দিরের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে। এই মাসের শুরুতে ট্রাস্টের হিসাবরক্ষণ দলের সাবেক পরিদর্শক মহিপাল সিং প্রথমবার মন্দিরের আর্থিক তহবিলের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়টি জনসমক্ষে নিয়ে আসেন। এর পরপরই উত্তর প্রদেশের প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব দাবি করেন যে ভক্তদের দেওয়া কোটি কোটি রুপির অনুদান ও মূল্যবান সামগ্রী গায়েব করা হয়েছে।

এই তীব্র গণ-অসন্তোষ ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে উত্তর প্রদেশের সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। রাজ্য পুলিশ একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করে নগদ টাকা ও মূল্যবান উপহার সামগ্রী গণনার দায়িত্বে থাকা আটজন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনার জেরে ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায়সহ বেশ কয়েকজন ট্রাস্টি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।

উদ্বেগজনক এই অর্থ আত্মসাতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে সাধারণ সনাতন ধর্মাবলম্বী ও দাতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ভক্ত এখন ট্রাস্টের কর্মকর্তাদের কাছে তাদের দেওয়া সোনার গহনা এবং রুপার ইটের বর্তমান হিসাব জানতে চাইছেন। অযোধ্যার বাসিন্দা ব্রজেশ কুমার জানান, ‘ট্রাস্টের কর্মকর্তারা আমাদের বিশ্বাসের সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং আমাদের ধর্মীয় আবেগকে লুট করেছে।’

এমনকি ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙার মামলায় অভিযুক্ত এবং পরবর্তীতে খালাস পাওয়া রাম মন্দির আন্দোলনের নেতা সন্তোষ দুবেও এই দুর্নীতিতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি ক্ষুব্ধ কণ্ঠে জানান যে, ‘কিছু ধূর্ত ও লোভী চোর এখন এই রাম মন্দির পরিচালনা করছে।’ তিনি এই আর্থিক অপরাধের জন্য জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক রশীদ কিদওয়াইয়ের মতে এই দুর্নীতি আসন্ন উত্তর প্রদেশ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির ওপর একটি বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ভারতের সবচেয়ে জনবহুল এই রাজ্যে আগামী বছরের শুরুতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে রাজনীতি করার এই চড়া মূল্য এবার মোদি সরকারকে দিতে হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: আল জাজিরা