img

নিউইয়র্কের রাজনীতির নতুন ‘নিয়ন্ত্রক’ মামদানি

প্রকাশিত :  ১৭:৫০, ২৪ জুন ২০২৬

নিউইয়র্কের রাজনীতির নতুন ‘নিয়ন্ত্রক’ মামদানি

নিউইয়র্কের রাজনৈতিক অঙ্গনে ডেমোক্রেটিক পার্টির দীর্ঘদিনের প্রচলিত সমীকরণ ও ক্ষমতার কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন এনে নতুন এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন জোহরান মামদানি।

মঙ্গলবারের (২৩ জুন) প্রাইমারি নির্বাচনে জোরালো জয়ের মাধ্যমে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরের প্রতিষ্ঠিত ধারাকে একরকম কোণঠাসা করে ফেলেছেন প্রগতিশীল ও সমাজতান্ত্রিক ঘরানার এই রাজনৈতিক নেতা। 

মাত্র এক বছর আগে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমোকে হারিয়ে নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচিত হয়ে রাজনৈতিক বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন মামদানি। আর এবার তার সরাসরি সমর্থনে ও নির্বাচনী প্রচারণায় তিনজন বামপন্থী প্রার্থী কংগ্রেসে জায়গা করে নেওয়ার পথ নিশ্চিত করেছেন।

নির্বাচনের রাতে বিজয়ী প্রার্থীদের ওয়াচ পার্টিতে উল্লাস প্রকাশ করে মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, গত জুনের ঐতিহাসিক জয় কোনো আকস্মিক ঘটনা বা বিচ্ছিন্ন বিষয় ছিল না। সেটি কোনো সমাপ্তি ছিল না, বরং সেটি ছিল এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। এই অভাবনীয় নির্বাচনী ফল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে গভীর কম্পন তৈরি করেছে। বিশেষ করে ব্রুকলিনভিত্তিক হাউসের ডেমোক্রেটিক নেতা হাকিম জেফরিস তার নিজের বলয়ের দুজন প্রভাবশালী সদস্যকে হারিয়েছেন এবং দলের ভেতর ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ওঠা একদল কট্টর প্রগতিশীল আন্দোলনকারীর মুখোমুখি হয়েছেন। ফলে দশকের পর দশক ধরে যারা নিজেদের মূল ধারার শক্তিশালী পক্ষ ভাবতেন, তারা এখন মামদানির এই একচেটিয়া আধিপত্যে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।

তবে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মামদানির সম্পর্কের এই টানাপোড়েন কোনো সহজ বিষয় নয়। প্রবীণ কংগ্রেস সদস্য আদ্রিয়ানো এসপাইলাত গত বছর কুওমোর বিরুদ্ধে মামদানীর জয়ের পর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, অথচ এবার মামদানি তার নিজের এক সাবেক নির্বাচনী স্বেচ্ছাসেবী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়েরকে এসপাইলাতের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে জয়ী করে এনেছেন। 

এই জয়ে ক্ষুব্ধ অনেক সিটি কাউন্সিল সদস্য এবং ডেমোক্রেটিক নেতা আড়ালে বলছেন, মামদানি কেবল নিজের শর্তেই জোটে বিশ্বাসী। এমনকি নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমস, যিনি নিজেও একসময় মামদানির বড় সমর্থক ছিলেন, তিনিও তীব্র হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, মামদানি নিউইয়র্কের বহু বছরের ঐতিহ্যবাহী শ্রেণী ও বর্ণের রাজনীতি এবং সাংস্কৃতিক ভিন্নতা বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছেন। 

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেন, ডেমোক্রেটিক পার্টির ওপর সবারই কিছুটা ক্ষোভ থাকতে পারে, তবে তার মানে এই নয় যে পুরো ব্যবস্থাটাকে এভাবে ভেঙে চুরমার করে দিতে হবে, যা সাধারণত ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুসারীরা করে থাকে।

রাজনীতির পাশাপাশি মামদানির পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক বিভিন্ন কড়া অবস্থান, বিশেষ করে ইসরাইল-বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি এবং অতি সম্প্রতি একটি প্রচারণায় মার্কিন-ইসরাইল লবিং গ্রুপ ‘আইপ্যাক’-কে ‘দানব’ হিসেবে অভিহিত করায় ইহুদি ভোটার ও নেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

কংগ্রেস সদস্য ড্যান গোল্ডম্যান অভিযোগ করেছেন, মেয়র মামদানি নিউইয়র্ক শহর পরিচালনার চেয়ে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বেশি আগ্রহী এবং তিনি ইহুদিদের জন্য একটি বিষাক্ত পরিবেশ তৈরি করছেন। বিদায়ী কংগ্রেস সদস্য নিদিয়া ভেলাজকুয়েজও মামদানির রাজনৈতিক কৌশলকে একটি বড় ভুল আখ্যা দিয়ে বলেন, যে শহর ফেডারেল ও রাষ্ট্রীয় ফান্ডের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে সবার সঙ্গে সম্পর্ক বাড়িয়ে চলার পরিবর্তে মামদানি নিজের বলয় সংকুচিত করছেন।

প্রবীণ ও প্রভাবশালী নেতাদের এই ক্ষোভ ও প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকির মুখে অবশ্য জোহরান মামদানি ও তার সহযোগীরা কোনো ভ্রূক্ষেপ করছেন না। মেয়রের কমিউনিকেশন ডিরেক্টর আন্না বার অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এক প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তাদের এই রাজনীতি কোনো ধনকুবের বা দামি কনসালট্যান্টদের দ্বারা চালিত নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই।

নিউইয়র্কের ঐতিহ্যবাহী প্রগতিশীল দল ‘ওয়ার্কিং ফ্যামিলিজ পার্টি’ এই লড়াইকে কিছুটা নোংরা এবং ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক বললেও ডেমোক্রেটিক সোশালিস্টদের হাত ধরে মামদানির নেতৃত্বে যে নতুন এক রাজনৈতিক বিপ্লব শুরু হয়েছে, তা এখন নিউইয়র্কের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুকে পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে।

সূত্র: সিএনএন।

img

মধ্যপ্রাচ্যের সব সংকটের জন্য ইসরাইল দায়ী: গালিবাফ

প্রকাশিত :  ১৮:১৫, ২৪ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:২৭, ২৪ জুন ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট ও যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য সরাসরি ইসরাইলকে দায়ী করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও দেশটির শীর্ষ পরমাণু আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। একই সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ফলে ওই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের একক আধিপত্য বা ‘হেজেমনি’ ভেঙে পড়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।

তুরস্কের সংসদীয় স্পিকারের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে গালিবাফ মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনীতি নিয়ে ইরানের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বাস্তবতায় মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক মেলবন্ধন ও ‘ঐক্য’ বজায় রাখা এখন কোনো সাধারণ পছন্দ নয়, বরং এটি একটি ‘অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তায়’ পরিণত হয়েছে।

ইরানি এই শীর্ষ কর্মকর্তা আঞ্চলিক শক্তিগুলোর আত্মনির্ভরশীলতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, পশ্চিমা শক্তির ওপর ভরসা না করে এই অঞ্চলের দেশগুলোকে এখন নিজেদের সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে একটি নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থা বা নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে হবে। চলমান সংঘাতের পর তৈরি হওয়া নতুন বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে মুসলিম দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ অবস্থানই মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সূত্র: আল-জাজিরা।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর