img

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২৭

প্রকাশিত :  ০৫:৫৯, ২১ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:৩৭, ২১ জুন ২০২৬

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২৭

দখলদার ইসরায়েল গত শনিবার বিকাল পর্যন্ত দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে এই অভিযান পরিচালনা করেছে। তাদের অভিযোগ, ইরান-সমর্থিত এই সশস্ত্র গোষ্ঠী যুদ্ধবিরতির একদিন পরই ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলা চালিয়ে চুক্তি ভঙ্গ করেছে। লেবাননের গণমাধ্যম ও জরুরি সেবাকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত এবং ২৬ জন আহত হয়েছে।

আইডিএফ জানায়, তারা রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশনা অনুযায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একজন সামরিক কর্মকর্তা বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ আইডিএফকে লেবাননে ‘গুলি বন্ধ রাখার’ নির্দেশ দিয়েছেন।

চ্যানেল ১২ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমন্বয়ের পর এই নির্দেশনা জারি করা হয়।

পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক বিবৃতিতে এক ‘জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা’ জানান, নেতানিয়াহু জোর দিয়ে বলেছেন যে ইসরায়েল তার উত্তর সীমান্ত রক্ষার প্রয়োজন যতদিন থাকবে, ততদিন দক্ষিণ লেবাননে অবস্থান করবে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, নেতানিয়াহু আইডিএফকে নির্দেশ দিয়েছেন হিজবুল্লাহর যেকোনো হামলার জোরালো জবাব দিতে এবং আমাদের বাহিনীর বিরুদ্ধে থাকা হুমকিগুলো দূর করতে পদক্ষেপ নিতে।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত দুই দিনে হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে আইডিএফ ৩০০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে এবং প্রায় ১০০ জনকে হত্যা করেছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেন, হিজবুল্লাহ যদি আবার আমাদের ওপর হামলা চালায়, তবে আমরা আরও কঠোরভাবে পাল্টা আঘাত হানব।

আইডিএফ তাৎক্ষণিকভাবে হিজবুল্লাহর হামলায় নিজেদের কোনো হতাহতের তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে তারা দাবি করেছে যে এসব হামলা ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তির ধারাবাহিক লঙ্ঘন’।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইসরাইলকে একঘরে করতে ইরানের নতুন চাল: আল-জাজিরার বিশ্লেষণ

প্রকাশিত :  ১৪:১৮, ২১ জুন ২০২৬

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে দখলদার ইসরাইলের চলমান হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতময় পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে তেহরান মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অবিচ্ছেদ্য জোটে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছে। 

এই দুই পরম মিত্র দেশের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতে ইরান লেবানন পরিস্থিতিকে একটি কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুশতাই আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরান বর্তমানে লেবাননকে একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে যাতে ইসরাইলের বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যকার ফাটলকে আরও চওড়া করা যায়। 

আপাতদৃষ্টিতে তেহরানের উদ্দেশ্য দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ করা বলে মনে হলেও, বাস্তবতা ভিন্ন। তেহরান, বৈরুত, হিজবুল্লাহ এবং খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও জানেন যে ইসরাইলি আক্রমণ পুরোপুরি বন্ধ করা এই মুহূর্তে খুব একটা বাস্তবসম্মত নয়। কারণ নিজেদের ওপর আঘাত এলে ইসরাইল অবশ্যই তার পাল্টা জবাব দেবে।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও যুদ্ধবিরতির উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত না করতে ইসরাইলিরা সাময়িকভাবে কিছুটা শান্ত থাকতে পারে। তবে যেকোনো উসকানি বা হামলার মুখে তারা নিজেদের সুরক্ষায় প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না। এই জটিল পরিস্থিতিকে ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবের মধ্যকার সম্পর্ককে দুর্বল করার একটি বিশাল সুযোগ হিসেবে দেখছে ইরান। 

এই মুহূর্তে তেহরানের প্রধান লক্ষ্য হলো এই দুই দেশের দীর্ঘদিনের সামরিক ও রাজনৈতিক জোটে চির ধরানো, এবং এই উদ্দেশ্যেই তারা তাদের বর্তমান কৌশলগুলো পরিচালনা করছে।




আন্তর্জাতিক এর আরও খবর