img

ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে নতুন দফায় আলোচনা

প্রকাশিত :  ০৮:০৮, ২০ জুন ২০২৬

ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে নতুন দফায় আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্রর ওয়াশিংটন ডিসিতে আসন্ন সপ্তাহে ইসরায়েল ও লেবাননের শীর্ষ প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে একটি নতুন দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শুক্রবার (১৯ জুন) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই কূটনৈতিক আলোচনার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ওয়াশিংটনের এই ঘোষণার ঠিক কিছুক্ষণ আগেই ইসরায়েল ও সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ লেবানন সীমান্তে পুনরায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার কথা জানায়। এর আগে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অবিরাম বিমান হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক শান্তি সমঝোতা স্মারকটি সম্পূর্ণ ভেস্তে যাওয়ার মারাত্মক আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী লেবাননের অবরুদ্ধ দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের চালানো সাম্প্রতিকতম হামলায় অন্তত ৪৭ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গতকাল শুক্রবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘ আলাপ করেন। ফোনালাপে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনাটিই মূলত লেবাননের জাতীয় পুনর্গঠন, ধসে পড়া অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘদিনের সংঘাত অবসানের একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ। দুই দেশের শীর্ষ নেতা আগামী ২৩ ও ২৫ জুন ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠেয় এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোর এজেন্ডা নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে এই নির্ধারিত বৈঠকগুলোতে দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম সরকার একটি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করবে। এর আগে গত এপ্রিল মাসে ১৯৯৩ সালের পর প্রথমবারের মতো দুই দেশের প্রতিনিধিরা মুখোমুখি সরাসরি আলোচনায় বসেছিলেন। পরবর্তীতে জুন মাসের দ্বিতীয় দফার বৈঠকের পর উভয় পক্ষ সাময়িক সংঘর্ষ বিরতির ঘোষণা দিলেও ওই আলোচনাগুলোতে শক্তিশালী হিজবুল্লাহকে সম্পৃক্ত না করায় মাঠপর্যায়ে কোনো অর্থবহ অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হয়নি।

বিগত ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকেই লেবাননের বর্তমান সরকার মার্কিন-সমর্থিত একটি বিশেষ রোডম্যাপের অংশ হিসেবে হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি নিরস্ত্র করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর বিপরীতে লেবানন সরকারও দেশটির দক্ষিণ সীমান্ত থেকে সব ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে গত জুন মাসে সম্পাদিত একটি চুক্তিতে হিজবুল্লাহকে দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদীর উত্তরাঞ্চলে সরে যাওয়ার শর্ত দেওয়া হলেও সেখানে ইসরায়েলি সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহারের বিষয়টি সম্পূর্ণ উপেক্ষিত রয়ে গেছে।

অবশ্য ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্পাদিত মূল যুদ্ধ অবসান চুক্তি বা এমওইউ-তে লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান দুই উগ্রপন্থী ইসরায়েলি মন্ত্রী বেন-গভির ও স্মোট্রিচ কর্তৃক লেবাননকে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি এবং চলমান সীমান্ত সংঘর্ষ এই শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের পথে বারবার বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত বিরলভাবে ইসরায়েলি আগ্রাসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করেছেন যে ইসরায়েল মূলত ওই অঞ্চলে একটি স্থায়ী যুদ্ধের পরিবেশ বজায় রাখতে চায়।

সূত্র: আল জাজিরা


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

হরমুজ বন্ধের ঘোষণা আসার পর লেবাননে হামলা ‘বন্ধের নির্দেশ’ নেতানিয়াহুর

প্রকাশিত :  ১৮:২৯, ২০ জুন ২০২৬

ইহুদিবাদী ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে দেশটির সামরিক বাহিনীকে হামলা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে দখল করে রাখা এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল ১২ এ খবর জানিয়েছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সর্বশেষ তথ্যে জানিয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় দেশটির কমপক্ষে ৪ হাজার ৫৭ জন মানুষ নিহত ও ১২ হাজার ১২১ জন আহত হয়েছেন। হতাহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগ দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দা।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে হরমুজ প্রণালিতে আজ শনিবার আবার নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে ইরান। দেশটির সামরিক কমান্ডের কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর খাতাম আল-আনবিয়া এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা বলেছে, এটি ‘প্রথম পদক্ষেপ’ এবং আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সই হওয়া ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ)’ পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে আগামীকাল রোববার সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে দুই দেশের ‘টেকনিক্যাল পর্যায়ের’ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ও কাতারের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।

১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের প্রথম দফাতেই লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু গত বুধবার স্মারকটি সই হওয়ার পরও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় সুইজারল্যান্ডের পরিকল্পিত আলোচনা বিলম্বিত হলো।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে উচ্চপর্যায়ের একটি ইরানি প্রতিনিধিদল আজ সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও শিগগিরই বৈঠকে যোগ দিতে রওনা হবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। দলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির পাশাপাশি জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা এবং তেল খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও রয়েছেন।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর