img

ইউরোপে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ: ফ্রান্স-বেলজিয়াম-নেদারল্যান্ডসে ৩,৭০০ মৃত্যু

প্রকাশিত :  ০৭:৩১, ০৪ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:৩৪, ০৪ জুলাই ২০২৬

ইউরোপে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ: ফ্রান্স-বেলজিয়াম-নেদারল্যান্ডসে ৩,৭০০ মৃত্যু

জুন মাসে টানা আট দিনের তীব্র তাপপ্রবাহে ইউরোপের তিন দেশ—ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসে মোট প্রায় ৩ হাজার ৭০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তিন দেশের সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

গত ২০ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত ৮ দিন তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে ইউরোপজুড়ে। ইউরোপের জলবায়ুর যে ধরন, তার সাপেক্ষ সহ্যের অতীত সেই গরমে ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছিল বিদ্যুতের চাহিদা। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ৮ দিন স্থায়ী তাপপ্রবাহটি ইউরোপে এ পর্যন্ত রেকর্ড করা সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল—যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটিয়েছে, অবকাঠামোর ক্ষতি করেছে এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মূলত বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এ তাপপ্রবাহ ইউরোপের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে বলে মনে করেন ইউরোপের আবহাওয়া ও জলবায়ুবিদরা।

যাদের মৃত্যু হয়েছে, তারা সবাই কোনো না কোনো শারীরিক অসুস্থতা বা জটিলতায় ভুগছিলেন। যদি এই তাপপ্রবাহ বয়ে না যেতো, তাহলে হয়তো বেঁচে থাকতেন তারা।

যে ৩ হাজার ৭০০ অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছে, সেসবের অধিকাংশই ঘটেছে ফ্রান্সে। ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট গতকাল শুক্রবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে বলেছেন, জুন মাসের আট দিনের তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ২ হাজার ২৫টি। এবারের তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ৪৫ বছরের বেশি বয়সী লোকজনদের মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলেও ভাষণে উল্লেখ করেছেন তিনি।

“আমাদের ধারণা, সরকারিভাবে আমাদের হাতে যে সংখ্যা আছে, মৃতের প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে বেশি”, বলেছেন স্টেফানি রিস্ট।

বেলজিয়ামের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, ১৮ জুন থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত ১১ দিনে বেলজিয়ামে ১ হাজার ২০০টি অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই মৃতদের মধ্যে ৫৩০ জনের বয়স ৮৫ বছর বা তার বেশি, ১৮০ জনের বয়স ৬৫ বছরের কম এবং বাকিরা ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে।

এক বিবৃতিতে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, “এই মাত্রার অতিরিক্ত মৃত্যু আমাদের দেশে অভূতপূর্ব ঘটনা। এর আগে কোনো গ্রীষ্মকালে এত অতিরিক্ত মৃত্যু ঘটেনি।”

নেদারল্যান্ডসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, জুন মাসের আট দিনের তাপপ্রবাহে ৪৮০টি অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মৃতেদের অধিকাংশের বয়স ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে।

সূত্র : রয়টার্স

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

বাবার শেষ বিদায়ে কেন নেই মোজতবা

প্রকাশিত :  ১০:৫৩, ০৪ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১২:১৬, ০৪ জুলাই ২০২৬

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায়ে লাখো মানুষ অংশ নিলেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না তার ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।

জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি অব কাতারের সহযোগী প্রফেসর পল মুসগ্রাভ সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে শনিবার (৪ জুলাই) বলেছেন, কেন মোজতবা শেষ বিদায়ে নেই তা খুবই সহজবোধ্য।

তিনি বলেন, “ইরান ধরে নিয়েছে ইসরায়েল এই অন্তোষ্টিক্রিয়ায় নেতৃবৃন্দকে হত্যার জন্য দ্বিতীয়বারের মতো হামলা চালাতে পারে। অতীতে ইরান এমন জানাজাকে রাজনৈতিক নেতাদের হত্যার জন্য ব্যবহার করেছে।”

তবে তার মতে, দেশের শীর্ষ নেতার প্রকাশ্যে আসা উচিত। কারণ মোজতবাকে সর্বশেষ গত কয়েকমাস আগে দেখা গিয়েছিল।

তিনি আরও বলেছেন, “আমি মনে করি ইরানকে এমন একটি উপায় বের করতে হবে যেটি দেখাবে তাদের সুপ্রিম লিডার আড়ালে থাকা কোনো ব্যক্তি নয়। তিনি আসলে সেই ব্যক্তি যিনি দেশের সত্যিকার দায়িত্বে রয়েছেন। যদিও এ মুহূর্তে ইরানের নিরাপত্তার শঙ্কা থাকার বিষয়টি হয়ত সঠিক। কিন্তু তাদের আসলে সুপ্রিম লিডারকে প্রকাশ্যে আনতে হবে।”

গতকাল বিদেশি অতিথিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে খামেনিকে শেষ বিদায় জানানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। আজ তার মরদেহবাহী কফিন সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এখন তারা তাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

সূত্র: আলজাজিরা

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর