img

ইরানে ফের হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, লক্ষ্য হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করা

প্রকাশিত :  ০৪:৩৯, ০৯ জুলাই ২০২৬

ইরানে ফের হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, লক্ষ্য হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করা

আবারো ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল বুধবার মধ্যরাতে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূল এবং হরমুজ প্রণালি থেকে ওমান উপসাগর পর্যন্ত বিশাল এলাকাজুড়ে বড় হামলা চালিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম)।

ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ জানিয়েছে, মার্কিন হামলায়  দেশটির তিন সমুদ্রবন্দর বন্দর আব্বাস, কোনারক এবং চাবাহারের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্দর আব্বাস ইরানের বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর। এছাড়া হরমুজ প্রণালি ও আশপাশে ইরানের নৌবাহিনী এবং সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) যত স্থাপনা রয়েছে, প্রায় সবগুলোতে হামলা হয়েছে।

মার্কিন বাহিনীর নিক্ষিপ্ত বোমায় চাবাহার বন্দও এবং তার আশপাশের এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করতে ভোর থেকে কাজ শুরু হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে মেহের নিউজের প্রতিবেদনে।

সমুদ্রবন্দরের পাশপাশি দক্ষিণ ইরানের ইরানশাহর শহরে একটি বিমানবন্দর এবং উত্তর ইরানের আক্কালা শহরের একটি রেলসেতুতে আঘাত হেনেছে সেন্টকোম। মার্কিন বাহিনীর নিক্ষিপ্ত বোমায় ইরানশাহর বিমানবন্দরের একজন ফায়ার সার্ভিসকর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে গত ৫ জুলাই শনিবার হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায় আইএরজিসি। সেই হামলার পর মঙ্গলবার মধ্যরাতে দক্ষিণ ইরান এবং হরমুজ প্রণালি এলাকায় ইরানের ৮০টি সামরিক স্থাপনা ও লক্ষ্যবস্তুতে বোমাবর্ষণ করে সেন্টকোম।

মার্কিন বাহিনীর হামলার জবাব দিতে অল্প সময়ের মধ্যেই কুয়েত এবং বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুগুলোতে পাল্টা হামলা চালায় আইআরজিসি।

এই হামলা এবং পাল্টা হামলার মধ্যেই গতকাল বুধবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ট্রাম্প ঘোষণা দেন— ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি শেষ এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রাখা সম্ভব নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই উক্তির পরেই বুধবার দ্বিতীয় দফায় ইরানে হামলা করে সেন্টকোম।

হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় সেন্টকোমের পক্ষ থেকে বলা হয় , “হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের স্বাধীনতায় হুমকি দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা আরও হ্রাস করার জন্য মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত হামলা চালানো শুরু করেছে। সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলরত বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে অন্যায্য হামলা পরিচালনার জন্য ইরানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র।”

মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের হামলার চেয়ে বুধবারের হামলার মাত্রা বেশি ছিলো।

বুধবারের হামলার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, “হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের আগ্রাসনের প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। ফের আগ্রাসন চালালে হামলা আরও ভয়াবহ হবে।”

সূত্র : রয়টার্স

img

চাকরি ও সম্পত্তির লোভে মাকে হত্যার অভিযোগ, তরুণী গ্রেপ্তার

প্রকাশিত :  ১১:১৯, ০৯ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১১:৩৩, ০৯ জুলাই ২০২৬

ভারতের জয়পুরের ২৩ বছর বয়সী এক তরুণী পারিবারিক সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ ও সরকারি চাকরি পাওয়ার উদ্দেশ্যে নিজের মাকে হত্যা করেছেন। দেশটির পুলিশ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।

গত ৩ জুলাই প্রতাপনগর এলাকায় ৪৫ বছর বয়সী নীরজ শর্মা নামের এক নারীকে হত্যা করা হয়। নীরজ শর্মার মেয়ে আয়ুশি শর্মা তার মাকে একটি স্করপিও এসইউভি দিয়ে চাপা দেয়। হত্যাকাণ্ডকে সড়ক দুর্ঘটনা বলে দেখানোর জন্য গাড়ি দিয়ে চাপা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ।

তদন্তে জানা গেছে, আয়ুশি শর্মা তার চাচা ও চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে মিলে ৭ লাখ রুপির বিনিময়ে ভাড়াটে খুনি নিয়োগ করেছিলেন।

নীরজ শর্মা আদালতের লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক (এলডিসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় পুলিশ নীরজের মেয়ে আয়ুশি শর্মা, তার চাচা মোহনস্বরূপ এবং মোহিত শর্মা, আকাশ শর্মা, অরবিন্দ শর্মা, হেমন্ত শর্মা ও রোহিত জাটভসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তকারীদের মতে, আয়ুশির চাচাতো ভাই বলরাম ওরফে রবি এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী। তবে তিনি এখনো পলাতক রয়েছেন।

জানা যায়, নীরজের স্বামী প্রায় এক বছর আগে মারা গিয়েছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর নীরজ নিয়োগ পেয়ে এলডিসি হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। পুলিশ জানিয়েছে, বাবার মৃত্যুর পর যে সরকারি চাকরিটি খালি হয়েছিল, আয়ুশী সেটিই নিতে চেয়েছিল। কিন্তু নীরজ নিজেই সেই নিয়োগটি গ্রহণ করেন। তদন্তকারীরা আরো জানান, গত দুই-তিন বছর ধরে মা ও মেয়ের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ চলছিল।

সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে নীরজকে তার মেয়ে এবং শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করছিল। এ ছাড়া তাকে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের সময় আয়ুশি শর্মা জানায়, তার বাবার মৃত্যুর পর যে সরকারি চাকরিটি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল, সেটি তার মা নিয়েছিলেন। কিন্তু আয়ুশি নিজে সেই চাকরি পেতে চেয়েছিলেন।

তদন্তকারীদের অভিযোগ, সরকারি চাকরি ও পারিবারিক সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়ার উদ্দেশ্যে আয়ুশি তার মাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন এবং এ কাজে অন্যদেরও যুক্ত করেন।

পুলিশের মতে, আয়ুশী তার মামা মোহনস্বরূপ এবং চাচাতো ভাই বলরাম ওরফে রবির সঙ্গে মিলে তার মাকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করে। তদন্তকারীদের দাবি, এই তিনজন হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত করার জন্য ভরতপুরের বাসিন্দা হেমন্ত শর্মাকে ৭ লাখ টাকায় ভাড়া করেছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা প্রথমে একটি ভাড়া করা এসইউভি ব্যবহার করে নীরজের ওপর নজরদারি চালায়, কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, একটি স্করপিও গাড়ি ব্যবহার করে চূড়ান্ত হামলা চালানোর আগে তারা প্রায় এক মাস ধরে তার গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল।

তদন্ত অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের দিন অভিযুক্তরা নীরজের গতিবিধির ওপর কড়া নজর রেখেছিল। অভিযুক্তদের একজন, মোহিত শর্মা তার অবস্থান জানিয়েছিল আর অন্যজন রোহিত জাটাভ কাছাকাছি একটি মোটরসাইকেলে অবস্থান করছিল। পুলিশ জানিয়েছে, যখন গাড়িটি নীরজকে ধাক্কা দেয় তখন ভাড়াটে খুনিদের একজন আকাশ শর্মা স্করপিও গাড়িটি চালাচ্ছিল এবং অন্যজন অরবিন্দ শর্মা তার সঙ্গে ছিল। 

ঘটনার পর অভিযুক্তরা ব্যবহৃত স্করপিও গাড়িটি ফেলে রেখে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। নীরজ শর্মার ভাই রাকেশ কুমার শর্মা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, এই হত্যার পেছনে পরিবারের একাধিক সদস্য এবং ভাড়াটে হামলাকারীরা জড়িত ছিল।

এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা কিছু তথ্য পেয়েছেন। সেখান থেকে ধারণা করা হয়, ঘটনাটি কোনো সড়ক দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর