img

আমাকে হত্যাচেষ্টা হলে ইরানকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন’ করে দিতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ০৭:১৫, ১১ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:৩০, ১১ জুলাই ২০২৬

আমাকে হত্যাচেষ্টা হলে ইরানকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন’ করে দিতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি তাঁর ওপর হত্যাচেষ্টার মতো কোনো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে দেশটির বিরুদ্ধে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হবে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে এ কঠোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট—এ ক্ষেত্রে আমাকে হত্যা বা হত্যার চেষ্টা করার জন্য ইরান সরকার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হুমকি দিচ্ছে। ইরান যদি এ হুমকি কার্যকর করার পদক্ষেপ নেয়, তবে দেশটির দিকে এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র তাক করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর পরপরই আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে।’

২০২০ সালে ট্রাম্পের নির্দেশে ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হন। মার্কিন সরকার দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছে যে সেই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে ইরান ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করতে পারে।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক বছর মেয়াদের জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রস্তুত, তারা ইচ্ছুক ও সক্ষম রয়েছে। প্রয়োজনে এ মেয়াদের সীমা আরও বাড়ানো হবে। মার্কিন বাহিনী ইরানের সব এলাকা সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন ও ধ্বংস করে দেবে।

উল্লেখ্য, ট্রাম্পের এ হুমকির আগে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যার জন্য ইরান সম্প্রতি একটি নতুন পরিকল্পনা করেছে—এ–সংক্রান্ত একটি গোয়েন্দা তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভাগাভাগি করেছে ইসরায়েল। এ বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে যখন টানাপোড়েন চলছে, তখন এ তথ্য দুই দেশের উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করল।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, চলতি সপ্তাহে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। অন্য আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কয়েক সপ্তাহ ধরেই ধারাবাহিক গোয়েন্দা তথ্য পাচ্ছিল। তবে ইসরায়েলের কাছ থেকে পাওয়া এ সতর্কবার্তা একেবারেই নতুন এবং এটি একটি নির্দিষ্ট ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত।

অবশ্য অন্য কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা ভিন্ন একটি ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ আরও জোরদার করা হবে কি না, ট্রাম্প এখন সে সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবছেন। ট্রাম্পের সে সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করতেই ইসরায়েল হয়তো এ তথ্য সামনে এনেছে।

ইরান যদি এ হুমকি কার্যকর করার পদক্ষেপ নেয়, তবে দেশটির দিকে এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র তাক করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর পরপরই আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে।

২০২০ সালে ট্রাম্পের নির্দেশে ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হন। মার্কিন সরকার দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছে যে সেই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে ইরান ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করতে পারে।

এ ছাড়া সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধে ইসরায়েল-মার্কিন হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। গত বৃহস্পতিবার তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। নিহত নেতার সপ্তাহব্যাপী আনুষ্ঠানিক শোক ও দাফন অনুষ্ঠানে লাখ লাখ শোকার্ত মানুষ সমবেত হন।

শোকমিছিলে ট্রাম্পকে হত্যার আহ্বান জানিয়ে স্লোগান দিতে ও দীর্ঘ ব্যানার প্রদর্শন করতে দেখা যায়। এ ঘটনায় ইরান ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা চালাতে পারে, অনেকের মধ্যে এমন আশঙ্কা জোরালো হয়েছে।

সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সপ্তাহব্যাপী আনুষ্ঠানিক শোক ও দাফন অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে হত্যার আহ্বান জানিয়ে স্লোগান দিতে ও দীর্ঘ ব্যানার প্রদর্শন করতে দেখা যায়। এ ঘটনায় ইরান ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা চালাতে পারে, অনেকের মধ্যে এমন আশঙ্কা জোরালো হয়েছে।

গত বুধবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘তারা যুক্তরাষ্ট্রের নেতাকে, অর্থাৎ আমাকে সরিয়ে দিতে চায়। আমি যেকোনো তালিকায় (হিটলিস্ট) আছি। আজ সকালেই আমি দেখলাম, তাদের প্রতিটি তালিকায় আমার নাম রয়েছে। এখন পর্যন্ত আমি কিছুটা ভাগ্যবান, তবে ভাগ্য হয়তো সব সময় সহায় না-ও থাকতে পারে।’

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরানের পরমাণু স্থাপনা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করল সিএনএন

প্রকাশিত :  ০৮:১৩, ১১ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) শর্ত ভঙ্গ করে ইরান তাদের সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণ বা সংস্কারের কাজ শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এমন দাবি করা হয়েছে। গত মাসে ওয়াশিংটনের সঙ্গে হওয়া ১৪ দফার সমঝোতায় পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ না করার অঙ্গীকার করেছিল তেহরান। তবে চুক্তির পরই স্থাপনাগুলোতে নতুন কার্যক্রমের অভিযোগ যুদ্ধবিরতি ও চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এবং ‘ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি’ যৌথভাবে সাম্প্রতিক এসব স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পারচিন এলাকায় অবস্থিত একটি স্থাপনায় পারমাণবিক অস্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় বিস্ফোরক মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। হামলার আগে এর গুরুত্ব বিবেচনায় চারপাশে সুরক্ষার জন্য কংক্রিটের দেয়ালও তুলেছিল ইরান।

তবে জুন ও জুলাই মাসে ধারণ করা স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, তেহরান ওই স্থাপনাটি মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছে। জুনে ধারণ করা ছবিতে হামলার কারণে সৃষ্ট গর্তগুলো অস্থায়ীভাবে ঢেকে রাখতে দেখা যায়, যা জুলাই মাসে জালের আচ্ছাদন (মেশ) দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অথচ এই পুরোটা সময় জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সমঝোতা স্মারক কার্যকর ছিল।

পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়ানোর সন্দেহ থাকা আরেকটি স্থান হলো ইরানের \'পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন\'। গত মাসে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার মাত্র কয়েক দিন পরের কিছু স্যাটেলাইট চিত্রে ওই এলাকার টানেলগুলোতে বেশ কিছু যানবাহনের সন্দেহজনক আনাগোনা দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি স্পষ্টতই ওয়াশিংটনের সঙ্গে করা চুক্তির শর্তের লঙ্ঘন।

পারমাণবিক স্থাপনার পাশাপাশি ইরান তাদের বেশ কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগারও মেরামত শুরু করেছে বলে স্যাটেলাইট চিত্রে উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি তাদের মিত্র দেশগুলোও ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। তবে ইসফাহান, ফোরদো এবং নাতাঞ্জের মতো প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের কাজ শুরু হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুদ্ধ বন্ধ ও স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে বৃহত্তর কাঠামোগত চুক্তির অংশ হিসেবে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর অন্যতম শর্ত ছিল হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং এর বিনিময়ে ইরানের বন্দরগুলো থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া। একই সঙ্গে ইরান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র সংগ্রহ বা তৈরি করবে না।

চুক্তিতে বলা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সরাসরি তত্ত্বাবধানে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমানো বা নিষ্পত্তি করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় সম্মত হবে। চূড়ান্ত চুক্তির মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক চাহিদা পূরণের বিষয়টিও আলোচনার টেবিলে সমাধানের কথা ছিল।

তবে চুক্তির মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই স্যাটেলাইট চিত্রে ইরানের এই মেরামত তৎপরতা ধরা পড়ায় নতুন করে অবিশ্বাস ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এদিকে, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে ইরানের অব্যাহত হামলার জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’ হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটির ওপর নতুন করে হামলাও শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।