গাজাকে বিভক্ত করতে ইসরায়েলের মাটির বাঁধ নির্মাণ
যৃদ্ধবাজ ইসরায়েল এবার গাজাকে বিভক্ত করতে মাটির বাঁধ নির্মাণ করছে । উপত্যকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন ৫০ শতাংশেরও বেশি অংশকে বাকি এলাকা থেকে আলাদা করতে দ্রুতগতিতে বাঁধটি নির্মাণ করছে দখলদার বাহিনী। এরই মধ্যে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ নির্মাণ করা হয়ে গেছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এপি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক মাসে ২৩ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ এই বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এটি গাজার বিভিন্ন ফিলিস্তিনি জনপদের ওপর দিয়ে গেছে। এসব জনপদ ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আগেই ধ্বংস করে দিয়েছে। গাজার মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০ কিলোমিটার হওয়ায় নির্মিত বাঁধটির দৈর্ঘ্য এর অর্ধেকেরও বেশি।
এপির দেখানো স্যাটেলাইট ছবি দেখে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে, তারা তথাকথিত ইয়েলো লাইন বরাবর একটি ভৌত বাধা তৈরি করেছে। এই ইয়েলো লাইনটি গত অক্টোবরে হামাসের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতির সময় ইসরায়েলি সেনাদের পিছু হটার সীমারেখা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ওই চুক্তিতে এটিকে পূর্ণাঙ্গ ইসরায়েলি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত একটি অস্থায়ী বিভাজন রেখা হিসেবে ধরা হয়েছিল। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যত স্থবির হয়ে পড়ায় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এই অস্থায়ী বিভাজন রেখাই স্থায়ী সীমান্তে পরিণত হতে পারে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বাঁধের পাশাপাশি তারা ইয়েলো লাইনের চারপাশে গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিনির্ভর একটি নিরাপত্তা অঞ্চল গড়ে তুলেছে। এপির তথ্য অনুযায়ী, ইয়েলো লাইনের কাছে যাওয়া বা এটি অতিক্রম করার সময় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে বহু ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিশু ও এমন বেসামরিক মানুষও রয়েছেন, যারা সম্ভবত এই সীমারেখা সম্পর্কে জানতেন না।
ইসরায়েলের হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত
গাজা ভূখণ্ডের মধ্যাঞ্চলীয় আল-জাহরা এলাকায় বেসামরিক এক গাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন সাধারণ নাগরিক মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ তথ্য জানায়। এ নিয়ে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ২৯৩ জনে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
হামাস কমান্ডারকে হত্যার দাবি
গাজা উপত্যকায় এক যৌথ অভিযান চালিয়ে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার আধাম ইব্রাহিম শাবান নাসমানকে হত্যা করার দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। নিহত নাসমান হামাসের গাজা সিটি ব্রিগেডের অপারেশন বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। মঙ্গলবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের সঙ্গে যৌথভাবে গত শনিবার এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আটক চিকিৎসকদের মুক্তির দাবি
আটক ফিলিস্তিনি চিকিৎসকদের অবিলম্বে মুক্তি ও গাজার স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর নির্যাতন বন্ধের দাবিতে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ ও আন্দোলন জোরদার হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ), অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও ইসরায়েলি অধিকারকর্মীরা এই দাবি জোরালো করেছেন।



















