img

গাজাকে বিভক্ত করতে ইসরায়েলের মাটির বাঁধ নির্মাণ

প্রকাশিত :  ০৬:৩৩, ২২ জুলাই ২০২৬

গাজাকে বিভক্ত করতে ইসরায়েলের মাটির বাঁধ নির্মাণ

যৃদ্ধবাজ ইসরায়েল এবার গাজাকে বিভক্ত করতে মাটির বাঁধ নির্মাণ করছে । উপত্যকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন ৫০ শতাংশেরও বেশি অংশকে বাকি এলাকা থেকে আলাদা করতে দ্রুতগতিতে বাঁধটি নির্মাণ করছে দখলদার বাহিনী। এরই মধ্যে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ নির্মাণ করা হয়ে গেছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এপি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক মাসে ২৩ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ এই বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এটি গাজার বিভিন্ন ফিলিস্তিনি জনপদের ওপর দিয়ে গেছে। এসব জনপদ ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আগেই ধ্বংস করে দিয়েছে। গাজার মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০ কিলোমিটার হওয়ায় নির্মিত বাঁধটির দৈর্ঘ্য এর অর্ধেকেরও বেশি।

এপির দেখানো স্যাটেলাইট ছবি দেখে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে, তারা তথাকথিত ইয়েলো লাইন বরাবর একটি ভৌত বাধা তৈরি করেছে। এই ইয়েলো লাইনটি গত অক্টোবরে হামাসের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতির সময় ইসরায়েলি সেনাদের পিছু হটার সীমারেখা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ওই চুক্তিতে এটিকে পূর্ণাঙ্গ ইসরায়েলি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত একটি অস্থায়ী বিভাজন রেখা হিসেবে ধরা হয়েছিল। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যত স্থবির হয়ে পড়ায় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এই অস্থায়ী বিভাজন রেখাই স্থায়ী সীমান্তে পরিণত হতে পারে। 

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বাঁধের পাশাপাশি তারা ইয়েলো লাইনের চারপাশে গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিনির্ভর একটি নিরাপত্তা অঞ্চল গড়ে তুলেছে। এপির তথ্য অনুযায়ী, ইয়েলো লাইনের কাছে যাওয়া বা এটি অতিক্রম করার সময় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে বহু ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিশু ও এমন বেসামরিক মানুষও রয়েছেন, যারা সম্ভবত এই সীমারেখা সম্পর্কে জানতেন না। 

ইসরায়েলের হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত

গাজা ভূখণ্ডের মধ্যাঞ্চলীয় আল-জাহরা এলাকায় বেসামরিক এক গাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন সাধারণ নাগরিক মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ তথ্য জানায়। এ নিয়ে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ২৯৩ জনে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

হামাস কমান্ডারকে হত্যার দাবি

গাজা উপত্যকায় এক যৌথ অভিযান চালিয়ে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার আধাম ইব্রাহিম শাবান নাসমানকে হত্যা করার দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। নিহত নাসমান হামাসের গাজা সিটি ব্রিগেডের অপারেশন বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। মঙ্গলবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের সঙ্গে যৌথভাবে গত শনিবার এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

আটক চিকিৎসকদের মুক্তির দাবি

আটক ফিলিস্তিনি চিকিৎসকদের অবিলম্বে মুক্তি ও গাজার স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর নির্যাতন বন্ধের দাবিতে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ ও আন্দোলন জোরদার হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ), অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও ইসরায়েলি অধিকারকর্মীরা এই দাবি জোরালো করেছেন। 


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

আন্দোলনে কাঁপছে দিল্লি, চাপের মুখে মোদি

প্রকাশিত :  ১৭:০০, ২২ জুলাই ২০২৬

ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন ক্রমেই নতুন মাত্রা পাচ্ছে। বুধবার নয়াদিল্লির প্রতিবাদস্থলে অনলাইন ভিত্তিক ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনে সমর্থকদের বিশাল জমায়েত দেখা গেছে।  শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার আর শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু হলেও এখন তা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিতে রূপ নিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-ভিত্তিক আন্দোলন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) নেতৃত্বে ভারতজুড়ে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ ২০২৪ সালে নরেন্দ্র মোদি পুনরায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর তার সরকারের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

দিল্লি থেকে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিনিধিরা বলেছেন, দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারীরা রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত যন্তর মন্তর ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং সেখানে বুধবার কয়েক হাজার মানুষের সমাগম ঘটেছে। বিক্ষোভকারীরা বর্তমানে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন।

উপস্থিত সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের মাঝে সিজিপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা যন্তর মন্তর ছাড়ব না।

‌‌‘‘যে দেশে মানুষ প্রশ্ন করতে ভুলে গিয়েছিল, যে দেশে সরকারের সমালোচনা করাকে দেশদ্রোহিতা হিসেবে গণ্য করা হতো; আমরা এখন সেই দেশকে জাগিয়ে তুলেছি।’’

বেশিরভাগ তরুণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন মঙ্গলবার দেশটির বিরোধী দলগুলোর কাছ থেকে সমর্থন পাওয়ার পর নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্য ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে। আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ওই দিন দেশটির বিরোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করে।

দেশটির বিরোধীদল কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা রাহুল গান্ধী সোমবার লাখ লাখ আন্দোলনকারীর ওপর পুলিশের চালানো দমনপীড়নের জন্য সরকারকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে দাবি তোলেন। ৫৬ বছর বয়সী রাহুল গান্ধীকে মঙ্গলবার প্রতিবাদস্থল থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে দুই ঘণ্টা আটকে রাখে পুলিশ। বুধবার কালো পোশাক পরে পার্লামেন্টে উপস্থিত হয়ে সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করেছেন তিনি।

বিরোধী সমাজবাদী পার্টি পার্লামেন্ট চত্বরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। সেখানে দলটির নেতা অখিলেশ যাদব বলেছেন, ভারতের প্রত্যেক তরুণের ওপর প্রভাব ফেলছে, এমন একটি বিষয়ে নরেন্দ্র মোদি নীরব ভূমিকা পালন করে চলেছেন।

• আন্দোলন চলছে

গত মে মাসে দেশটির প্রধান বিচারপতি সুর্য কান্ত আদালতে এক মামলার শুনানির সময় তরুণদের ‘ককরোচ’ (তেলাপোকা) এবং ‘পরজীবী’ হিসেবে তুলনা করেন। এই বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে আসার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিচারপতির এই মন্তব্যের জেরে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেশটিতে আত্মপ্রকাশ ঘটে অনলাইনভিত্তিক আন্দোলন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখ লাখ অনুসারী রয়েছে সিজেপির।

পরবর্তীতে বেকারত্ব, তরুণদের কর্মসংস্থান আর মোদির ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের উদ্বেগজনক সব বিষয়কে নিজেদের কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করে ককরোচ জনতা পার্টি। সোমবার বর্ষাকালীন অধিবেশনের শুরুর দিনে বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্টের দিকে পদযাত্রা করার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে এবং টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। 

পরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন বিক্ষোভকারীরা। তরুণদের এই বিক্ষোভ-প্রতিবাদ গত পাঁচ বছরের মধ্যে দেশটির রাজধানীতে সবচেয়ে বড় রাজপথের সমাবেশে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা দিল্লি বিক্ষোভে পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ করেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে বলেছে, ‌‌দিল্লি পুলিশের পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানদণ্ড অনুযায়ী আইনি বাধ্যবাধকতা, প্রয়োজনীয়তা এবং আনুপাতিকতার শর্ত পূরণ করেছে কি না, সে বিষয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।

এদিকে, বুধবার আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ তুলে দায়ের করা একটি আবেদনের শুনানি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। যন্তর মন্তরে একদল আন্দোলনকারী প্রায় এক মাস ধরে অবস্থান করছেন। একজন আন্দোলনকারী বলেন, এটিই প্রথমবারের মতো দেশের তরুণদের কথা বলার সুযোগ এনে দিয়েছে।

এএফপিকে কাব্য নামের ২০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী বলেন, ‌‌আমি ভীত। কারণ সোমবার আমি পুলিশকে বিক্ষোভকারীদের মারধর এবং বলপ্রয়োগ করতে দেখেছি। কিন্তু আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনে উপায় নেই।

• সমাধানের প্রতিশ্রুতি মন্ত্রীর

ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ পরীক্ষা সংক্রান্ত কয়েকটি অনিয়মের পর এই আন্দোলন শুরু হয়। যে ঘটনার কারণে ২০ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থী পুনরায় পরীক্ষা দিতে বাধ্য হয়েছেন।

প্রায় ২০ লাখ হাইস্কুল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ করা পরীক্ষার অনলাইন মূল্যায়নকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আরেকটি বিতর্কও জনগণের মাঝে ক্ষোভ উসকে দিয়েছে। মেডিকেল পরীক্ষার বিষয়টি নিয়ে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে থাকা শিক্ষামন্ত্রী প্রধান বলেছেন, সরকার সংস্কার এবং পার্লামেন্টে এই বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সোমবারের প্রতিবাদের পর মঙ্গলবার শেষ রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া প্রথম প্রকাশ্য মন্তব্যে তিনি লেখেন, ‌‌আমাদের তাদের (শিক্ষার্থীদের) কাছে জবাব, সংস্কার এবং জবাবদিহি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

‘‘তারা বিশৃঙ্খলার চেয়ে নিশ্চয়তা, স্লোগানের চেয়ে সমাধান এবং বিঘ্ন ঘটানোর চেয়ে দায়িত্বশীলতা বেশি পাওয়ার যোগ্য।’’

সিজিপির প্রতি সমর্থন দিল্লির বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী-খ্যাত মহারাষ্ট্রের মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও গোয়াতেও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন হাজার হাজার মানুষ।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর