img

মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক

প্রকাশিত :  ১৭:৪৩, ২১ জুলাই ২০২৬

মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ চলাকালে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ দলটির আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে থেকে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং দলটির আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার নয়াদিল্লির লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন কংগ্রেস নেতারা।

ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের জবাবদিহি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং পরে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন বিরোধী নেতাকে আটক করে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। কংগ্রেস নেতারা অভিযোগ করেছেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করেছে।

 অন্যদিকে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘গতকাল তরুণ শিক্ষার্থীদের ওপর যে নৃশংসতা চালানো হয়েছে, তার জবাব চাইতেই আমরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে এসেছি। দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার দায়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।’

প্রসঙ্গত, কেন্দ্র সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সংসদ অভিমুখে মিছিলের এক দিন পর মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে কংগ্রেস।

দলটির শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন।

সূত্রের বরাতে সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি বলছে, লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে সারা রাত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে পুলিশ তাকে (রাহুল গান্ধী), প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবসহ অন্য নেতাদের সেখান থেকে আটক করে।

পুলিশি অভিযানের সময় রাহুল গান্ধী রাস্তার ওপর বসে বিক্ষোভ চালিয়ে যান এবং তিনি বিক্ষোভস্থল থেকে সরে যেতে অস্বীকৃতি জানান। পরে অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য তাকে জোর করে আটক করে নিয়ে যায়।

এ সময় তার নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে দেখা যায়।

বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করার আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে রাহুল গান্ধী দেশবাসীকে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ মানে ভারতের প্রতিটি পরিবারের ওপর আক্রমণ।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি মনে করেন, তিনি কোনো জবাবদিহি ছাড়াই পার পেয়ে যাবেন। কিন্তু এবার তা হবে না। যারা মনে করেন শিক্ষার্থীরা ন্যায়বিচার পাওয়ার যোগ্য, তারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে আমাদের অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিন।’

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

অবশেষে খোঁজ মিলল রাহুল গান্ধীর, বাসায় ফিরেছেন প্রিয়াঙ্কাও

প্রকাশিত :  ১৬:৩১, ২১ জুলাই ২০২৬

নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অভিযানের প্রতিবাদে নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি থেকে আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর মুক্তি পেয়েছেন রাহুল গান্ধী। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দিল্লি পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। এর আগে বিকেলে পুলিশ তাকে জোরপূর্বক সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। একই সঙ্গে আটক হওয়া প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, অখিলেশ যাদবসহ অন্য নেতাদেরও মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

দিল্লি পুলিশ মঙ্গলবার বিকেলে লোককল্যাণ মার্গের অবস্থান কর্মসূচি থেকে বিরোধী নেতাদের আটক করে। আটকের পর রাহুল গান্ধীকে কোথায় নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে শুরুতে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। কংগ্রেস নেতা পবন খেরা অভিযোগ করেছিলেন, পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য গোপন করছে। তবে পরে জানা যায়, আটকদের উত্তর দিল্লির মডেল টাউনের ছত্রসাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে দীর্ঘ সময় পুলিশি হেফাজতে রাখার পর সন্ধ্যার দিকে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার বিকেলে আকস্মিকভাবে শুরু হওয়া এই অবস্থান কর্মসূচির খবর পেয়ে এক ঘণ্টার মধ্যে বিপুলসংখ্যক ফোর্স নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে পৌঁছায় দিল্লি পুলিশ। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিরোধী নেতাদের সরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। এরপরই পুলিশ রাহুল গান্ধীকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নেয়।

এই কর্মসূচির বিষয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বিরোধী নেতাদের অবস্থানের কারণে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিপন্ন হচ্ছিল। তবে কংগ্রেস নেতারা এই অভিযোগ খণ্ডন করে বলেন, তাদের অবস্থান কর্মসূচি ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।

আটকের আগে বিকেল চারটার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন রাহুল গান্ধী। তিনি লেখেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে চলে এসেছি। গতকাল ছাত্রদের ওপর হওয়া পুলিশি অত্যাচারের জবাব চাইতে আমরা এখানে এসেছি। এই সরকার কোনো দায় নিতে চায় না এবং সংসদে বিতর্কও চায় না। দেশের যুব সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার অপরাধে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।’

পরবর্তীতে বিকেল পৌনে ছয়টায় এক্সে দেওয়া অপর এক বার্তায় তিনি দেশবাসীকে এই ধরনায় শামিল হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি লেখেন, ‘ছাত্রদের ওপর হামলা মানে প্রতিটি ভারতীয় পরিবারের ওপর হামলা। প্রধানমন্ত্রী মোদি মনে করেন তিনি বিনা জবাবদিহিতে পার পেয়ে যাবেন, কিন্তু এবার তা হবে না। আমাদের ছাত্ররা সুবিচার পাক—এ কথা যারা বিশ্বাস করেন, আমি সেই প্রত্যেক দেশপ্রেমিক ভারতীয়কে অনুরোধ করব এই ধরনায় শামিল হতে।’

মুক্তির পর দলটির নেতাকর্মীরা এই আটকাদেশকে ‘গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে এবং শিক্ষার অধিকার আদায়ে তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার ভারতের সংসদ ভবন অভিমুখে পদযাত্রা করার সময় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থক ও শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ লাঠিপেটা করে। সেই ঘটনার প্রতিবাদ এবং নিট পরীক্ষার কারচুপির বিচার দাবিতে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন বিরোধী নেতারা। অন্যদিকে, পুলিশের বলপ্রয়োগের প্রতিবাদে মঙ্গলবারও শত শত শিক্ষার্থী ও সমর্থক যন্তর মন্তরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। আন্দোলনকারীরা জানান, পুলিশের এই বলপ্রয়োগ তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর