রসিকতার ছলে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার ইঙ্গিত ট্রাম্পের
হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারে দেওয়া বক্তৃতায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও গণমাধ্যমকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার দেওয়া দীর্ঘ এ বক্তব্যে তিনি গণমাধ্যমকে ‘ভুয়া খবর’ তৈরির কারিগর বলে অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে রসিকতার ছলে তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার ইচ্ছার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
গত এপ্রিল মাসে করেসপন্ডেন্টস ডিনার চলার সময় বলরুমের বাইরে এক ব্যক্তি গুলি চালালে নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়। এর তিন মাস পর গতকাল শনিবার ওয়াশিংটনের ওয়াল্ডর্ফ অ্যাস্টোরিয়াতে কঠোর নিরাপত্তায় পুনর্নির্ধারিত নৈশভোজটি অনুষ্ঠিত হলো।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতার শুরুতে ট্রাম্প জানান, প্রথমে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক একটি বক্তব্য প্রস্তুত করলেও পরে তিনি সেটি পরিমার্জন করেছেন। রসিকতার সুরে তিনি বলেন, ‘ঠিক আমার প্রেসিডেন্সির মতোই, দ্বিতীয়বার সবসময়ই ভালো হয় এবং তৃতীয়বার আরও ভালো হবে।’
মার্কিন সংবিধানে প্রেসিডেন্ট হিসেবে একজন ব্যক্তির দুই মেয়াদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে বক্তৃতার শেষের দিকে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, তিনি চতুর্থবারের মতো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করছেন। ব্যঙ্গাত্মক সুরে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তিনবার জিতেছি, এখন আমি এটি আবার করতে যাচ্ছি।’ এরপরই তিনি নিজের মাথায় ‘ট্রাম্প ২০২৮’ লেখা একটি লাল ক্যাপ পরে নেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২০ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে জো বাইডেনের কাছে পরাজিত হন। তবে ট্রাম্প বরাবরই দাবি করেন, আসলে তিনি ওই নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন। অর্থাৎ, তাঁর দাবি, তিনি এ পর্যন্ত তিনবার জয়ী হয়েছেন।
পুরো বক্তব্যজুড়ে ট্রাম্প তাঁর সমালোচকদের ব্যক্তিগত আক্রমণ ও তাদের নিয়ে উপহাস করেন। এ সময় নিজের কেবিনেটের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রের প্রাণিজ প্রোটিন খাওয়ার অভ্যাস নিয়ে বিদ্রুপ করেন, পাশাপাশি নিউ জার্সির সাবেক গভর্নর ক্রিস ক্রিস্টি এবং নিউইয়র্কের কংগ্রেস সদস্য জেরি নাডলারের ওজন নিয়েও উপহাস করেন তিনি। বক্তব্যে রক তারকা ব্রুস স্প্রিংস্টিনের চেহারা এবং সিএনএনের সাংবাদিক কেইটলান কলিন্সের হাসি নিয়ে ঠাট্টা করেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের অন্যতম প্রধান সমালোচক কংগ্রেস সদস্য অ্যাডাম শিফকে তিনি ঘৃণা করেন।
এ সময় ইরানের সঙ্গে তাঁর যুদ্ধ ‘ভালোভাবে’ চলছে দাবি করে সাংবাদিকদের ভুয়া খবর বিশ্বাস না করার পরামর্শ দেন ট্রাম্প। এক পর্যায়ে মেয়াদের সীমাবদ্ধতা নিয়ে করা একটি রসিকতা জমিয়ে তুলতে না পেরে ট্রাম্প উপস্থিত সাংবাদিকদের জিজ্ঞেস করেন, ‘অন্য কারও লিখে দেওয়া’ এই ফালতু বক্তৃতাটি তারা বুঝতে পেরেছেন কিনা।
অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের বক্তব্যের আগে, প্রশাসনের গোপন তথ্য ফাঁস করা একদল সাংবাদিককে পুরস্কৃত করা হয়। এদের মধ্যে রয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি টিম, যারা ২০০৩ সালে জেফরি এপস্টাইনকে পাঠানো ট্রাম্পের একটি ‘কুরুচিপূর্ণ’ চিঠির বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। উল্লেখ্য, ঘটনাটি ফাঁস করার দায়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও করেছিলেন ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউজ করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ওয়েইজিয়া জিয়াং অনুষ্ঠানে বলেন, প্রেস ও প্রেসিডেন্সির সম্পর্ক যতই জটিল হোক না কেন, উভয় পক্ষেরই মূল দায়িত্ব আমেরিকার জনগণের সেবা করা।
বার্ষিক হোয়াইট হাউজ করেসপন্ডেন্টস ডিনারে প্রেসিডেন্টদের বক্তব্য রাখার রীতি থাকলেও, ট্রাম্প তাঁর দুই মেয়াদের মধ্যে এবারই প্রথম অনুষ্ঠানে ভাষণ দিলেন। প্রথম মেয়াদে তিনি এই নৈশভোজ পুরোপুরি বয়কট করেছিলেন।



















