img

ইসরায়েলি ‘সংবেদনশীল লক্ষ্যবস্তু’ নিশানা করে হামলা চালানোর কথা জানাল হুতিরা

প্রকাশিত :  ০৮:৩১, ০৮ জুন ২০২৬

ইসরায়েলি ‘সংবেদনশীল লক্ষ্যবস্তু’ নিশানা করে হামলা চালানোর কথা জানাল হুতিরা

ইসরায়েলে হামলা চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী। সংগঠনটি জানিয়েছে, অধিকৃত জাফা অঞ্চলে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এ হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।

এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলেছিল, ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। তারা ক্ষেপণাস্ত্রটি শনাক্ত করেছে। এই হুমকি প্রতিহত করতে ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কাজ করছে।

টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানায়, তারা লোহিত সাগরে ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলের ওপর পূর্ণ ও সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। তারা উত্তেজনার জবাব উত্তেজনা দিয়েই দেবে।

হুতি গোষ্ঠী বলেছে, ‘ফিলিস্তিন, গাজা, ইরান, লেবানন ও ইরাকে আমাদের জনগণ এবং জিহাদ ও প্রতিরোধ অক্ষের জনগণের ওপর আরোপিত অন্যায্য অবরোধের মুখে আমরা নীরব থাকব না।’

ইসরায়েলি সেনা রেডিওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির সামরিক বাহিনীর মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

ইসরায়েলি সেনা রেডিওর সাংবাদিক ডোরন কাদোশের তথ্যমতে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ‘বৃহৎ পরিসরে রিজার্ভ সেনা সক্রিয় করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একাধিক রিজার্ভ ব্যাটালিয়ন ডাকা হতে পারে।

টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে কাদোশ আরও জানান, ইসরায়েল সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করবে। বিশেষ করে অধিকৃত পশ্চিম তীর–জর্ডান সীমান্তে। ইসরায়েলি হোম ফ্রন্ট কমান্ডও আজ সকালে বড় পরিসরে রিজার্ভ সেনা সক্রিয় করা শুরু করেছে।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা

img

ইরানের হামলার পর জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস বন্ধ

প্রকাশিত :  ০৮:৪৩, ০৮ জুন ২০২৬

ইহুদিবাদী ইসরায়েল ভূখণ্ডে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে আজ সোমবার জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আজ সোমবার বন্ধ থাকবে দূতাবাস। 

এক বিবৃতিতে দূতাবাস মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, ইসরায়েলের ‘বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির’ কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাসের সব কর্মীকে নিজ নিজ স্থানে নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। তাদের সুরক্ষিত আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক ফোনালাপে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইরানের কয়েকটি শহরে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইরানে হামলা চালানোর পর দেশটির রাজধানী তেহরানসহ তাবরিজ ও ইস্পাহান শহরে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরায়েল লেবাননে হামলার মাধ্যমে বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে—এমন অভিযোগ তুলে এর আগে উত্তর ইসরায়েলে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান।

ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, এই হামলা টানা সপ্তাহব্যাপী আক্রমণের সূচনা মাত্র। অন্যদিকে ইসরায়েলের দাবি, তারা উত্তর ইসরায়েলে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আকাশেই প্রতিহত করেছে এবং এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। হামলার পর আইআরজিসির অ্যারোস্পেস কমান্ডার মজিদ মুসাভি বলেন, প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়েছে। ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মুখপাত্র এফি ডেফরিন একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলেন, ইরানি শাসকগোষ্ঠী মারাত্মক ভুল করেছে। 

ইসরায়েলে হামলার পর তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ফ্লাইট স্থগিত করে ইরান। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। ইসরায়েল জানায়, দেশের উত্তরাঞ্চলে ইরানের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে তারা গাজা উপত্যকায় প্রবেশের সীমান্ত পথগুলো আবারও বন্ধ করে দিচ্ছে। এর মধ্যে রাফাহ ও কেরেম শালম ক্রসিং অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। খবর: বিবিসি ও আল জাজিরা 


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর