img

জেলেনস্কির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব নাকচ পুতিনের

প্রকাশিত :  ০৭:৪১, ০৬ জুন ২০২৬

জেলেনস্কির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব নাকচ পুতিনের

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরাসরি বৈঠকে বসার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন ।  তিনি বলেছেন, ভলোদিমির জেলেনস্কি যুদ্ধ অবসানে সরাসরি আলোচনার জন্য মুখোমুখি বৈঠকের অনুরোধ জানালেও তিনি এমন বৈঠকের কোনো প্রয়োজন দেখেন না। খবর বিবিসি বাংলার। 

এর আগে, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) জেলেনস্কি একটি খোলা চিঠি পাঠিয়ে পুতিনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার আহবান জানিয়েছিলেন। ওই চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন যে, ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধকে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগের কেন্দ্রে ফিরে আসার অপেক্ষায় বসে থাকা \'ভুল\' হবে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট একটি যুদ্ধবিরতিরও আহবান জানান এবং চিঠিতে কিছু ক্ষেত্রে তিনি দৃঢ় অবস্থান দেখান আবার কিছু ক্ষেত্রে তার বক্তব্যের সুর ছিল বিদ্রূপাত্মক।

পুতিন ওই চিঠিকে \'অমার্জিত\' বলে অভিহিত করে তার সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি তার আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন যে, কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতির আগে শান্তি আলোচনা হওয়া উচিত।

শুক্রবার সেন্ট পিটার্সবার্গে রাশিয়ার বার্ষিক অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় পুতিন  বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি এর কোনো প্রয়োজন দেখছি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটি কি মুখোমুখি বৈঠকের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করার একটি উপায় ছিল, নাকি এমন একটি উপায় ছিল যাতে মুখোমুখি বৈঠক না হয়? আমার মনে হয়, দ্বিতীয়টিই সঠিক।’

পুতিনের এই প্রতিক্রিয়া শোনার পর ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ‘রাশিয়া আবারও যুদ্ধকেই বেছে নিচ্ছে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে জেলেনস্কি লেখেন, ‘তিনি (পুতিন) যুদ্ধ শেষ করতে চান না। আমার মনে হয় বিশ্বের অনেক মানুষই এই উত্তরে হতাশ হয়েছে। 

জেলেনস্কির চিঠি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ভ্লাদিমির পুতিন আবারও তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন যে, যুদ্ধবিরতি হলে ইউক্রেন শুধু নিজেদের পুনর্গঠনের সুযোগ পাবে। যদিও মস্কো যে ছাড় বা শর্ত কিয়েভের কাছে দাবি করেছে, সেগুলো এখনও পূরণ হয়নি।

তিনি বলেন, ‘এর একমাত্র উদ্দেশ্য হলো ইউক্রেনীয় পক্ষ আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর অগ্রযাত্রা থামাতে চায়। কিন্তু আমাদের দরকার একটি চুক্তি, যা ছয় কিংবা তিন মাসের জন্য নয় বরং দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর এমন একটি চুক্তি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষজ্ঞদের কাজ করতে দিন এবং কিছু সমাধান বের করতে দিন। তারপর আমরা দেখা করতে পারি।’

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম

প্রকাশিত :  ১৪:৫৬, ০৬ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:২৩, ০৬ জুন ২০২৬

হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমিত আকারের সামরিক উত্তেজনা এবং এর রেশ ধরে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কমে আসায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন ঘটেছে। 

শনিবার (৬ জুন) সকালে বিশ্ববাজারে তেলের বেঞ্চমার্কগুলোতে এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়। মূলত শুক্রবারের (৫ জুন) সামরিক সংঘাতটি বড় কোনো রূপ নেয়নি—বিনিয়োগকারীদের এমন মূল্যায়নের পরই বাজারে এই প্রভাব পড়ে।

তেল ও জ্বালানি বিষয়ক ওয়েবসাইট অয়েলপ্রাইজ ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, আজ আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ১.৯৪ ডলার বা ২.০৪ শতাংশ কমে ৯৩.০৯ ডলারে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে মার্কিন ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ২.৬ শতাংশেরও বেশি কমে প্রতি ব্যারেল ৯০.৫৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। 

এছাড়া অন্যান্য তেলের মধ্যে মারবান ক্রুডের দাম ৩.০২ শতাংশ কমে ৯০.৬৮ ডলার এবং ওয়েস্টার্ন কানাডিয়ান সিলেক্টের দাম ৩.৫৬ শতাংশ কমে ৮০.৬৯ ডলারে নেমেছে। তেলের পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাস ও হিটিং অয়েলের দামেও পতন লক্ষ্য করা গেছে, তবে গ্যাসোলিনের দাম সামান্য (০.২৫ শতাংশ) বেড়েছে।

এর আগে শুক্রবার ভারত মহাসাগরে ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করার পাশাপাশি আত্মরক্ষার্থে ইরানের চারটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ড্রোনগুলো আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য সরাসরি হুমকি ছিল। এই হামলার জবাবে ইরানের মূল ভূখণ্ড ও কেশম দ্বীপের উপকূলীয় নজরদারি রাডার সাইটে মার্কিন বাহিনী আঘাত হানে। 

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা তালিকায় থাকা এবং ইরানের তথাকথিত ‘ঘোস্ট ফ্লিট’ বা গুপ্ত নৌবহরের অংশ ‘এমটি ডভিনা’ নামক একটি সুপারট্যাংকার জব্দ করে। মার্কিন বিচার বিভাগ নিশ্চিত করেছে, ২০২৪ সাল থেকে নিষেধাজ্ঞা থাকা এই ট্যাংকারটি অবৈধভাবে ইরানি তেল চীনে পাচার করে আসছিল। তবে এই পুরো অভিযানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের পর থেকেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেয় তেহরান। জবাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ইরানি বন্দরগুলোতে নিজস্ব অবরোধ আরোপ করে। বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করায় দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে বাজারে চরম অস্থিরতা চলছিল, যা বছরের শুরুতে তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণে বাড়িয়ে দিয়েছিল।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সাময়িক যুদ্ধবিরতি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আলোচনার মাঝে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে প্রায়ই উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। তবে শনিবারের এই দরপতন প্রমাণ করে যে শুক্রবারের মার্কিন-ইরান সামরিক সংঘাতটি বড় কোনো যুদ্ধের দিকে মোড় নেয়নি এবং এর ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ আপাতত ঝুঁকিতে পড়ছে না বলেই মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

সূত্র: গালফ নিউজ।