img

ইরান চুক্তি করতে সত্যিই আগ্রহী: ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ০৯:১৯, ০১ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:৫৫, ০১ জুন ২০২৬

ইরান চুক্তি করতে সত্যিই আগ্রহী: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরান সত্যিই আগ্রহী। দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা ও সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ আলোচনা চলার মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেন। এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম সামা টেলিভিশন।

স্থানীয় সময় রোববার (৩১ মে)  নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে চায় এবং সেই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য ইতিবাচক হবে।

তিনি লেখেন, ‘ইরান সত্যিই একটি চুক্তি করতে চায়, এবং সেটি যুক্তরাষ্ট্র ও আমাদের সহযোগীদের জন্য ভালো হবে।’

তিন মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটাতে এবং বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে যখন কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, তখন ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে এলো।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, তারা সপ্তাহান্তে ইরানের কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

এর জবাবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করে, তারা একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। চলমান সংঘাতের অবসান নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই এটি ছিল সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার সর্বশেষ ঘটনা।

এর আগে, গত শুক্রবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবিত চুক্তি নিয়ে তিনি শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবেন।

সোমবারের মন্তব্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক হামলা ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও ট্রাম্প এখনো কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা দেখছেন।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে ৩০ হাজার কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ পাবে ইরান

প্রকাশিত :  ১৫:০৩, ০১ জুন ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির খসড়া নিয়ে আলোচনা চলছে, যার আওতায় চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে ইরানের জন্য প্রায় ৩০ হাজার কোটি (৩০০ বিলিয়ন) ডলারের একটি বিশাল পুনর্গঠন তহবিল গঠিত হতে পারে। 

নিউ ইয়র্ক টাইমস-জানায়, দীর্ঘদিনের সংঘাত শেষে ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি, শিল্পখাত এবং রাস্তাঘাট ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুনর্গঠনে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে। 

দ্য টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, এটি মূলত একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ তহবিল হবে, যা বিভিন্ন দেশের আর্থিক সহায়তায় গঠিত হতে পারে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই তহবিল গঠনে মধ্যস্থতা করবে। উভয় পক্ষ খসড়া সমঝোতা স্মারকে সম্মত হলে প্রাথমিক ৬০ দিনের আলোচনা চলাকালীন এই তহবিল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা ও কূটনীতিকের বরাতে জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই খসড়ায় কেবল যুদ্ধাবসানই নয়, বরং মার্কিন-ইরান অনাক্রমণ চুক্তির মতো বড় বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার অধীনে কোনো দেশই একে অপরের ওপর হামলা চালাবে না। মধ্যস্থতাকারীরা আশা করছেন, এই চুক্তি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গণ্ডি ছাড়িয়ে সামগ্রিক আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে ভূমিকা রাখবে, যার মধ্যে লেবাননে চলমান যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টিও যুক্ত হতে পারে। 

পরমাণু ইস্যুতে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার শর্তে রাজি হবে এবং আলোচনা চলাকালীন তাদের পরমাণু কর্মসূচির কিছু অংশ স্থগিত রাখবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার প্রতিশ্রুতি দেবে। এছাড়া, খসড়ায় ইরানকে তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানি সচল রাখার পাশাপাশি সীমিত পরিসরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিনিময়ে মার্কিন তেল ও জ্বালানি সংস্থাগুলো যেন ইরানি যৌথ উদ্যোগে বিনিয়োগ করতে পারে, সেই প্রস্তাবও রেখেছে তেহরান।

এই আলোচনার মূল ভিত্তি হিসেবে বিভিন্ন বিদেশী ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের হিমায়িত সম্পদ অবমুক্ত করার সম্ভাবনাও খসড়া কাঠামোতে রাখা হয়েছে। যদিও তেহরানের দাবি, ফলপ্রসূ আলোচনা শুরুর আগেই এই অর্থ ছাড় করতে হবে। তবে এই কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই ইসরাইল কর্তৃক ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করার বিষয়টি আঞ্চলিক উত্তেজনাকে টিকিয়ে রেখেছে। আলোচনার দ্বিতীয় পর্বে মূলত ইরানের কাছে থাকা প্রায় ৯৭০ পাউন্ড উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং ১০ টন নিম্ন-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভাগ্য নির্ধারণ করা হবে। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে এই ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের দাবি জানালেও তেহরান তা আন্তর্জাতিক নজরদারিতে দেশের ভেতরেই রাখতে চায়। পরবর্তীতে ট্রাম্প আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে ইউরেনিয়াম লঘুকরণ বা অন্য কোনো নিরাপদ দেশে স্থানান্তরের বিকল্প প্রস্তাবে সম্মতি দিলেও, এটি যেন কোনোভাবেই রাশিয়া বা চীনে না পাঠানো হয়, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর