যুদ্ধবিরতির মেয়াদ

img

সমঝোতায় পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, অপেক্ষা ট্রাম্পের অনুমোদনের

প্রকাশিত :  ০৭:৪৯, ২৯ মে ২০২৬

সমঝোতায় পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, অপেক্ষা ট্রাম্পের অনুমোদনের

যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যস্থতাকারীরা ৬০ দিনের একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। তবে এতে এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মধ্যস্থতার সঙ্গে যুক্ত দুই মার্কিন কর্মকর্তা এবং আঞ্চলিক একটি সূত্র অ্যাক্সিওসকে এই তথ্য জানিয়েছে। তবে ইরানও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতা স্মারক মেনে নেওয়ার কথা নিশ্চিত করেনি।

এই সমঝোতা স্মারক সই হলে তা হবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সাফল্য। তবে ট্রাম্পের পরমাণু শর্ত মেনে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে সামনে আরও দীর্ঘ আলোচনার দরকার হবে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এটি সবাইকে আলোচনার টেবিলে আনার একটি চুক্তি মাত্র। চুক্তির বিস্তারিত বিষয়গুলো আমরা আলোচনার মাধ্যমেই ঠিক করব।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত চুক্তির প্রায় সব শর্তেই দু’পক্ষ একমত হয়েছিল। তবে উভয় পক্ষেরই নিজ নিজ শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানিরা পরে ফিরে এসে জানায় যে তাদের কাছে প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে এবং তারা চুক্তি সই করতে প্রস্তুত। তবে ইরান নিজে থেকে এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি।

অন্যদিকে মার্কিন আলোচকেরা চূড়ান্ত চুক্তির বিস্তারিত ট্রাম্পকে জানালেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এতে সই করেননি। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছেন যে, তিনি এটি নিয়ে ভাবতে আরও কয়েক দিন সময় চান।

এর আগে যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে ট্রাম্প এবং তার উপদেষ্টারা বেশ কয়েকবার ভেবেছিলেন যে তারা চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছেন, কিন্তু বারবারই আলোচনা ভেস্তে গিয়েছিল।

কী আছে এই সমঝোতা স্মারকে?

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৬০ দিনের এই এমওইউতে স্পষ্ট বলা থাকবে যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে \'কোনো বাধা থাকবে না। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এর মানে হলো প্রণালি পার হতে কোনো টোল বা ফি লাগবে না এবং কোনো ধরনের হয়রানি করা হবে না। এ ছাড়া ইরানকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্রণালি থেকে সব মাইন অপসারণ করতে হবে।

একই সঙ্গে মার্কিন নৌ-অবরোধও তুলে নেওয়া হবে। তবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার হারের ওপর ভিত্তি করেই ধাপে ধাপে এই অবরোধ উঠবে বলে জানান এক মার্কিন কর্মকর্তা। এ ছাড়া ইরানকে অবাধে তেল বিক্রির সুযোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র কিছু নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করবে।

কর্মকর্তারা জানান, এই এমওইউতে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেবে। ৬০ দিনের এই সময়সীমার মধ্যে সবার আগে আলোচনা হবে—কীভাবে ইরানের উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস বা স্থানান্তর করা যায় এবং তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানি তহবিল ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে কথা বলতে রাজি হবে।

এমওইউতে ইরানে পণ্য ও মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর একটি মেকানিজম বা ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা থাকবে।

এ ছাড়া লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার যুদ্ধ শেষ করার বিষয়টিও এই স্মারকে থাকবে। এই ইস্যুটি নিয়ে ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে এর আগে অন্তত একবার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছিল।

তবে এসব আলোচনা চূড়ান্ত হওয়ার মুহূর্তেও গত কয়েক ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুবার ছোটখাটো সংঘর্ষ হয়েছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ইরানের সামনে এখন তাদের অর্থনীতিকে শৃঙ্খলমুক্ত করার সুযোগ এসেছে। তিনি বলেন, \'তাদের (ইরান) ব্যবস্থার ভেতরেও এমন মানুষ আছেন, যারা বোঝেন যে এটি ভিন্ন পথে হাঁটার একটি দারুণ সুযোগ। ৬০ দিনের এই আলোচনাতেই আমরা বুঝতে পারব যে আসলেই তারা এমনটা চায় কি না।\'

মার্কিন কর্মকর্তারা আরও দাবি করেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা বা ইরানকে তহবিল দেওয়ার বিষয়ে কোনো \'গোপন চুক্তি\' থাকবে না। এক কর্মকর্তা বলেন, \'ইরানিরা যত বেশি ছাড় দিতে রাজি হবে, তারা তত বেশি সুবিধা পাবে।\'

দুই মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেন, আলোচনা চলাকালে পারমাণবিক বিষয়ে ছাড় দেওয়ার ব্যাপারে ইরানিরা মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু তারা বলেন, \'আমরা যতক্ষণ না এক ঘরে বসে আলোচনা করছি, ততক্ষণ কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাবে না। আর এ জন্যই আমরা এই এমওইউ করতে চাই। এর মাধ্যমে দুই পক্ষই সরাসরি এক ঘরে বসে আলোচনা করার সুযোগ পাবে।

এমওইউতে আঞ্চলিক শান্তির বিষয়েও কথাও বলা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, এই সুযোগে ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রক্সি বা ছায়াগোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের বিষয়েও আলোচনা করতে চায়।

তারা বলেন, আলোচনার সময় যদি এটা স্পষ্ট হয় যে ইরান পারমাণবিক বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রুতি রাখতে পারছে না, তবে ট্রাম্পের হাতে অর্থনৈতিক ও সামরিক—সব ধরনের বিকল্পই খোলা থাকবে।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইসরায়েলবিরোধী জনমত তৈরিতে ‘বট বাহিনী’ ব্যবহার করছে পাকিস্তান: নেতানিয়াহু

প্রকাশিত :  ১২:৪৩, ২৯ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:৩৮, ২৯ মে ২০২৬

নিজের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার জন্য পাকিস্তানকেও দায়ী করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বট বাহিনী’ বা ‘বট ফার্ম’ ব্যবহার করছে পাকিস্তান। 

তিনি বলেন, ‘যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটকে দুর্বল করতে চায়, তারা বট ফার্ম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে প্রভাবিত করছে।’

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সিবিএস নিউজের ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড তাদের প্রতিবেদনে এসব বিষয় তুলে ধরে। 

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এখনও এমন কিছু জায়গা আছে, যেখানে ইসরায়েলকে সম্মান করা হয়। ভারতের জনসংখ্যা ১৪০ কোটির বেশি, আর সেখানে ইসরায়েল খুবই জনপ্রিয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদিকে এখানে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে স্বাগত জানানো হয়েছিল। আর আমি যখন স্ত্রীকে নিয়ে ভারতে গিয়েছিলাম, সেটি ছিল যেন ভালোবাসার এক উৎসব।’

নেতানিয়াহু এমন এক সময়ে এই মন্তব্য করলেন যখন সারা বিশ্বেই, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে তার জনপ্রিয়তা কমার খবর প্রকাশিত হচ্ছে। এপ্রিল মাসে প্রকাশিত পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ৬০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। গত বছর এ হার ছিল ৫৩ শতাংশ।

একই জরিপে দেখা যায়, ৫৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বৈশ্বিক কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর ওপর খুব কম আস্থা রাখেন বা একেবারেই আস্থা রাখেন না। গত বছর এ হার ছিল ৫২ শতাংশ।

পশ্চিম তীরের একটি সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি ভারতকে একটি ‘বৃহৎ শক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দেশটির সঙ্গে ইসরায়েলের ‘অনন্য সম্পর্কের’ কথা বলেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সমালোচনা ও বিরূপ মনোভাব বাড়লেও ভারতে দেশটির প্রতি সমর্থন কমেনি বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। 

তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক অনন্য এবং দেশটিতে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন ‘অবিশ্বাস্য রকমের’। একই সঙ্গে নিজের জনপ্রিয়তা কমার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের জনপ্রিয়তা কমার পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাকিস্তানের কার্যক্রমকে অভিযুক্ত করেছেন তিনি।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, বিশ্বের অনেক জায়গায় ইসরায়েলের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা হলেও ভারতে এমন পরিস্থিতি নেই বলে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মন্তব্য করেছেন। 

নেতানিয়াহু বলেন, ‘বিশ্বের অনেক স্থানে আমাদের নৈতিক বা রাজনৈতিক বৈধতা খর্ব করার সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি আমরা, কিন্তু ভারতে (এমনটা মোটেও) নয়’। তিনি আরও বলেন, ‘ভারতে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন একেবারে অবিশ্বাস্য, সত্যিই অবিশ্বাস্য।’

তার দাবি, ‘আমার মনে হয়, বিশ্বের অন্য যেকোনও দেশের তুলনায় ভারত থেকেই (আমার) বেশি অনুসারী রয়েছে।’

অবশ্য এটাই প্রথম নয়, এর আগেও ভারতে নিজের জনপ্রিয়তা নিয়ে কথা বলেছেন নেতানিয়াহু। তিনি ২০১৮ সালে স্ত্রী সারা নেতানিয়াহুকে সঙ্গে নিয়ে নয়াদিল্লি সফরের অভিজ্ঞতাকে ‘ভালোবাসার উৎসব’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। সে সময় তিনি দাবি করেছিলেন, ভারতীয়দের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি ‘অসাধারণ সম্মান’ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর