img

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েল এখন আরও কাছাকাছি

প্রকাশিত :  ০৬:৫৬, ২০ মে ২০২৬

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েল এখন আরও কাছাকাছি

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আরও কাছাকাছি এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েল। চলমান ইরান যুদ্ধের উত্তাপ আপাতদৃষ্টিতে ধ্বংসযজ্ঞের আভাস দিলেও, সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়ে এমন দুই দেশ হাত মিলিয়েছে, যা কিছুদিন আগেও হয়তো ভাবা যেত না। 

সবাইকে চমকে দিয়ে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও যৌথভাবে আধুনিক প্রযুক্তি কিনতে তারা গড়ে তুলেছে এক বিশেষ প্রতিরক্ষা তহবিল।

ঘটনার সূত্রপাত গত ফেব্রুয়ারিতে, যখন ইরানের প্রায় ৩ হাজার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছিল আমিরাতের বুকে। তখন অপ্রত্যাশিত ত্রাতা হয়ে আসে ইসরায়েল। তারা গোপনে পাঠায় তাদের ‘আয়রন ডোম’ ও সেনা। সেই ভরসার সূত্র ধরেই যুদ্ধ চলাকালে নেতানিয়াহুর এক অঘোষিত সফরে চূড়ান্ত হয় এই গোপন অস্ত্রচুক্তি।

নেপথ্যের কারণটি বেশ পরিষ্কার। মূলত ইসরাইলের কাছে রয়েছে বিশ্বসেরা সামরিক প্রযুক্তি, কিন্তু অর্থনৈতিক টানাপোড়েন আর মার্কিন সহায়তার অনিশ্চয়তা তাদের বিকল্প খুঁজতে বাধ্য করেছে। অন্যদিকে, আমিরাতের কাছে রয়েছে ২ ট্রিলিয়ন ডলারের সার্বভৌম তহবিল, কিন্তু অভাব ছিল উন্নত প্রযুক্তির। ফলে এই চুক্তি দুই দেশের জন্যই এক মোক্ষম সুযোগ।

বিশেষ করে ড্রোন-বিধ্বংসী ব্যবস্থা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারে এই তহবিল থেকে বিপুল অর্থ খরচ করা হচ্ছে। অন্যদিকে সৌদি আরব পাকিস্তান ও তুরস্কের সাথে জোট গড়ছে।

যুদ্ধ শেষে ইরান আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে- এই ভয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ রক্ষাকবচ হিসেবে ইসরাইলকেই চূড়ান্ত হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে আবুধাবি। সমমনা এই দুই দেশের নতুন জোট এখন মধ্যপ্রাচ্যের হিসাব-নিকাশই বদলে দিচ্ছে।

সূত্র : মিডলইস্ট আই


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

নিউইয়র্ক টাইমস

img

আবার হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে যেভাবে পাল্টা জবাব দিতে পারে ইরান

প্রকাশিত :  ১৮:৩৩, ১৯ মে ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ আবারও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অন্যদিকে পরে তিনি জানান, ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’ চলায় পরিকল্পিত হামলা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

তবে সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, আবার হামলা হলে তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়াতে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে।

নিরাপত্তাবিষয়ক বিশ্লেষক হামিদরেজা আজিজি বলেন, চলতি বছরের প্রথম দফার যুদ্ধে ইরান দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের প্রস্তুতি নিয়েছিল। সে কারণে তারা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে কিছুটা সংযম দেখায়, যাতে দীর্ঘ সময় ধরে হামলা চালানো সম্ভব হয়।

তবে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। ইরানের ধারণা, এবার সংঘাত হবে স্বল্প সময়ের হলেও অনেক বেশি তীব্র। বিশেষ করে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে সমন্বিত হামলার আশঙ্কা করছে তেহরান।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন দফার সংঘাতে ইরান প্রতিদিন কয়েক ডজন থেকে শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে। এতে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনাগুলো বড় ঝুঁকিতে পড়বে।

সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের তেলক্ষেত্র, শোধনাগার ও বন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। এতে সংঘাত এড়িয়ে চলতে চাওয়া উপসাগরীয় দেশগুলোও সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার চাপের মুখে পড়তে পারে।

গত কয়েক সপ্তাহে ইরানের সরকারি ঘনিষ্ঠ মহলে বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নিয়ে কড়া বক্তব্য দেখা গেছে। তেহরানের অভিযোগ, আমিরাত মার্কিন সামরিক স্থাপনা ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় সহায়তা করেছে।

ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ঘনিষ্ঠ বিশ্লেষক মেহদি খারাতিয়ান এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমরা চাইলে আমিরাতকে আবার উটের যুগে ফিরিয়ে নিতে পারি। প্রয়োজন হলে আবুধাবিও দখল করব।’

যদিও এসব বক্তব্যকে অতিরঞ্জিত বলে মনে করা হচ্ছে, তবু বিশ্লেষকদের মতে, এগুলো ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের ভেতরের চিন্তাভাবনার প্রতিফলন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা শিল্প অঞ্চলে বিস্ফোরণের পর কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখছেন বিদেশি শ্রমিকেরা। ৩ মার্চ ২০২৬

আরব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক আলি আলফোনেহ বলেন, ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কাই এখনো যুক্তরাষ্ট্রকে কিছুটা সংযত রাখার অন্যতম কারণ।

এ ছাড়া ইরান লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্ত করা বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে পারে। বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ১০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিচালিত হয়। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রিত এলাকার কাছেই প্রণালিটি অবস্থিত।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বাব আল-মান্দেবেও চাপ তৈরি করতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রকে একসঙ্গে দুটি সামুদ্রিক রুট নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হবে।

মেহদি খারাতিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তাহলে বাব আল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল সীমিত করার পদক্ষেপ নিতে পারে তেহরান।

তবে এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়ন সহজ নাও হতে পারে। হুথিরা আঞ্চলিক যুদ্ধ হলে ইরানকে সমর্থনের ঘোষণা দিলেও আগের সংঘাতে তারা তুলনামূলক সতর্ক অবস্থানে ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, সীমিত সামরিক সক্ষমতা ও অস্ত্র মজুদের বিষয়টি তখন তাদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছিল।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর