img

জাতিসংঘে হরমুজ নিয়ে মার্কিন প্রস্তাব, ভেটো চীনের!

প্রকাশিত :  ০৬:১৪, ১৬ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:০৮, ১৬ মে ২০২৬

জাতিসংঘে হরমুজ নিয়ে মার্কিন প্রস্তাব, ভেটো চীনের!

হরমুজ প্রণালি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইনের যৌথ উদ্যোগে উত্থাপিত একটি খসড়া প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করেছে চীন। জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের স্থায়ী রাষ্ট্রদূত ফু চং এই প্রস্তাবের বিষয়বস্তু এবং টাইমিং বা সময় নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে একে সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত বলে বর্ণনা করেছেন। 

তিনি সাফ জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ধরনের কোনো প্রস্তাব পাস করা সংকটের সমাধানে বিন্দুমাত্র সহায়ক হবে না। কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে, খসড়া প্রস্তাবটি যদি শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদে ভোটাভুটির জন্য তোলা হয়, তবে চীন ও রাশিয়া যৌথভাবে এতে ভেটো দিয়ে তা বাতিল করে দিতে পারে।

নিরাপত্তা পরিষদে জমা দেওয়া এই মার্কিন-বাহরাইনি খসড়া প্রস্তাবে ইরানের প্রতি হরমুজ প্রণালিতে সব ধরনের সামরিক হামলা এবং মাইন স্থাপন বন্ধ করার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। তবে কূটনীতিকদের মতে, এই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের মুখ দেখার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। 

কারণ এর আগেও গত মাসে প্রায় একই ধরনের একটি মার্কিন সমর্থিত প্রস্তাবের বিপক্ষে চীন ও রাশিয়া তাদের ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করেছিল। সেই সময় দুই দেশের পক্ষ থেকেই যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, প্রস্তাবের ভাষা এবং শর্তাবলি সম্পূর্ণ একপেশে এবং তা ইরানের ওপর এককভাবে দায় চাপানোর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।

জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ সংবাদ ও ঘটনাবলি নিয়ে কাজ করা নিউজ পোর্টাল ‘পাসব্লু’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চীনের দূত ফু চং-এর একটি সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারের ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করেছে। সেখানে হরমুজ প্রণালির এই নতুন প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ফু চং সরাসরি বলেন, ‘আমরা মনে করি না যে এই প্রস্তাবের বিষয়বস্তু সঠিক আছে, এমনকি এর জন্য নির্বাচিত সময়টিও মোটেও উপযুক্ত নয়।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই মুহূর্তে একপেশে নিষেধাজ্ঞা বা নিন্দা প্রস্তাব পাসের চেয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা বেশি জরুরি।

চীনা রাষ্ট্রদূতের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত উভয় পক্ষকে একটি আন্তরিক ও গভীর কূটনৈতিক আলোচনায় বসতে উৎসাহিত করা, যার মাধ্যমে সংকটের একটি স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব। 

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘এই জটিল মুহূর্তে নিরাপত্তা পরিষদে কোনো জোড়াতালির প্রস্তাব পাস করা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাবে, যা কোনো পক্ষের জন্যই কল্যাণকর হবে না।’ চীনের এই কঠোর অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রপথের নিরাপত্তা এবং ভূ-রাজনীতি নিয়ে জাতিসংঘে পরাশক্তিগুলোর মধ্যকার দ্বন্দ্ব আরও প্রকট আকার ধারণ করছে।

সূত্র: আল জাজিরা


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

মোদি দেখতে অত্যন্ত ভদ্র হলেও বাস্তবে ‘টোটাল কিলার’: ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ১০:১১, ১৮ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:১৫, ১৮ জুন ২০২৬

ফ্রান্সের এভিয়ানে বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭ এর সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে ব্যতিক্রমী মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

তিনি বলেছেন, মোদিকে দেখতে ‘দেবদূতের মতো’ এবং অত্যন্ত ভদ্র বলে মনে হলেও বাস্তবে তিনি একজন ‘টোটাল কিলার’। তবে ট্রাম্প শব্দটি ব্যবহার করেছেন রূপক অর্থে। অর্থাৎ মোদির কঠোর নেতৃত্ব ও দরকষাকষির দক্ষতার প্রশংসা করতেই এমনটা বলেছেন তিনি।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, ফ্রান্সের এভিয়ানে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে নরেন্দ্র মোদিকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

এসময় মোদিকে ‘খুবই কঠিন’ এবং ‘দক্ষ দরকষাকষিকারী’ বলে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, তিনি এই নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করেন।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘এই মানুষটিকে দেখুন। আমি আপনাদের একটি শিক্ষা দিই। তিনি সবচেয়ে সুন্দর চেহারার মানুষদের একজন। তাকে দেখতে এতটাই ভদ্র ও শান্ত লাগে, যেন একজন দেবদূত। কিন্তু বাস্তবে তিনি টোটাল কিলার। তবে তাকে দেখতে এত ভালো লাগে যে তিনি আপনাকে অবাক করে দেন। এমন মানুষ খুব কমই আছে।’

এদিন ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি যতদিন প্রেসিডেন্ট আছি, ভারত হোয়াইট হাউসে একজন সত্যিকারের বন্ধুকে পাবে। এখানে উপস্থিত সবাই ভারতকে ভালোবাসে এবং এই মানুষটির (নরেন্দ্র মোদি) প্রতি তাদের অসাধারণ শ্রদ্ধা রয়েছে।’

ট্রাম্প মোদিকে ‘ভদ্র কিন্তু কঠোর’ বলেও উল্লেখ করেন। 

তিনি বলেন, ‘মানুষ বলে তিনি খুবই ভালো মানুষ। আমি বলি, তিনি খুবই কঠোর। তিনি একজন দক্ষ দরকষাকষিকারী। তিনি ভারতীয় জনগণকে ভালোবাসেন, আবার যুক্তরাষ্ট্রকেও ভালোবাসেন। হিউস্টনে আমাদের ‘হাউডি মোদি’ অনুষ্ঠান হয়েছিল। স্টেডিয়াম ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। ভবিষ্যতে আমরা আবার ভারত সফরে যাব।’

তিনি বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে আমাদের খুবই ভালো আলোচনা হয়েছে। আমরা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কাজ করছি। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে অনেক কিছু ঘটছে। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইতিহাসের সেরা সময় পার করছে। আমাদের দেশে ১৯ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ আসছে। আমরা কারখানা গড়ছি, নানা ধরনের উন্নয়ন করছি। প্রধানমন্ত্রীও যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বিনিয়োগ করছেন। আমরা সেটির প্রশংসা করি। আমি শুধু বলতে চাই, তিনি দীর্ঘদিন ধরে আমার বন্ধু এবং আমাদের সম্পর্ক সবসময়ই খুব ভালো ছিল। আপনার সঙ্গে থাকতে পেরে ভালো লাগছে।’

অন্যদিকে বৈঠকে নরেন্দ্র মোদি পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়ায় ট্রাম্পের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ‘নতুন গতি’র কথাও উল্লেখ করেন। 

মোদি বলেন, ‘এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার নতুন আশা জেগে উঠেছে। আমি বিশ্বাস করি, এটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ তৈরি করবে। আপনি এবং আমি একমত যে, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভারত সবসময়ই নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের একসঙ্গে কাজ করা উচিত এবং বিশেষ গুরুত্ব দেয়া উচিত।’

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর