img

যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তার ধার ধারছেন না নেতানিয়াহু

প্রকাশিত :  ০৮:১৯, ১১ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তার ধার ধারছেন না নেতানিয়াহু

ইহুদিবাদী ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া বার্ষিক সামরিক আর্থিক সহায়তা ধীরে ধীরে শূন্যে নামিয়ে আনা হবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইসরায়েল বছরে প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা পায়। তবে আগামী ১০ বছরের মধ্যে এই আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনতে হবে।

তিনি বলেন, আমি চাই এখন থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু হোক। ধীরে ধীরে আমরা যেন যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তা ছাড়াই নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে পারি।

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয়নি। ইরানের হাতে এখনো সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর নেটওয়ার্ক রয়েছে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তিনি বলেন, ইরানের ইউরেনিয়াম ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো নিষ্ক্রিয় করতে হবে।

তবে এ বিষয়ে সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

হিজবুল্লাহ প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থেমে গেলেও লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চলতে পারে। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহকে আগের অবস্থায় থাকতে দেওয়া হবে না।

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের প্রভাব বাড়ছে বলেও দাবি করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, কয়েকটি আরব দেশ এখন ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারে আগ্রহ দেখাচ্ছে, বিশেষ করে প্রযুক্তি, জ্বালানি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো খাতে সহযোগিতার বিষয়ে।

চীনের বিরুদ্ধে ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি সহায়তার অভিযোগও তোলেন তিনি। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি।

গাজায় যুদ্ধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ইসরায়েলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, যুদ্ধের সময় ভুলের কারণে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানিও ঘটেছে।

গাজা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, হামাসকে নিরস্ত্র ও গাজাকে সামরিক প্রভাবমুক্ত করা এখনো ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

দেশের প্রধান রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত :  ১৮:০১, ১৭ জুন ২০২৬

রেলপথকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রেলরুটগুলোতে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে একাধিক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও নিরাপদ করতে প্রধান প্রধান রুটে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন বা বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সড়ক ও রেল যোগাযোগ উন্নয়নে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। মহাসড়কে পর্যায়ক্রমে এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড ও মাল্টিমোডাল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি ওভারলোড নিয়ন্ত্রণে স্মার্ট মনিটরিং ও এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।

তিনি জানান, রাজধানী ঢাকার যানজট কমাতে রিং রোড ও রেডিয়াল রোড নেটওয়ার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এলাকায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ রেলওয়েকে জাতীয় পরিবহন ব্যবস্থার প্রধান ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলতে ২০৪৫ সাল পর্যন্ত তিন ধাপে ২৪টি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দেশের সব রেলপথকে পর্যায়ক্রমে ডুয়েলগেজে রূপান্তর করা হবে, যাতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন আরও সহজ হয়।

রেলের সক্ষমতা বাড়াতে আগামী বছরগুলোতে আন্তঃনগর ও কমিউটার ট্রেনের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর