img

কাতার-কুয়েত-আমিরাতে ড্রোন হামলা

প্রকাশিত :  ১২:৫০, ১০ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:২১, ১০ মে ২০২৬

কাতার-কুয়েত-আমিরাতে ড্রোন হামলা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মাঝে মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশ ড্রোন হামলা হয়েছে। এই হামলায় কাতারে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে আগুন ধরে গেলেও কুয়েত এবং আমিরাতে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য জানা যায়নি। 

আজ রোববার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া অন্তত দু’টি ড্রোনকে নিজেদের আকাশে শনাক্ত এবং বাধা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামরিক বাহিনী।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের এসব প্রকাশ্য হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত মোট ৫৫১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ২৯টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ২৬৫টি ড্রোন মোকাবিলা করেছে।

এদিকে, একই দিনে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, রোববার আবুধাবি থেকে দেশটির জলসীমায় প্রবেশ করা একটি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এতে জাহাজটিতে সামান্য আগুন ধরে গেলেও হতাহতের কোনও ঘটনা ঘটেনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মন্ত্রণালয় বলেছে, রোববার সকালে আবুধাবি থেকে আসা পণ্যবাহী ওই বাণিজ্যিক জাহাজ মেসাইদ বন্দরের উত্তর-পূর্ব দিকে কাতারের জলসীমায় ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। এই ঘটনার ফলে জাহাজে সীমিত পর্যায়ে অগ্নিকাণ্ড ঘটলেও কেউ আহত হননি।

এর আগে, ব্রিটেনের সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিষয়ক একটি সংস্থা দোহার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি পণ্যবাহী জাহাজ অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র সদৃশ বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর দিয়েছে।

এছাড়া কুয়েতের সামরিক বাহিনী রোববার ভোরের দিকে দেশটিতে ড্রোন হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তার ধার ধারছেন না নেতানিয়াহু

প্রকাশিত :  ০৮:১৯, ১১ মে ২০২৬

ইহুদিবাদী ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া বার্ষিক সামরিক আর্থিক সহায়তা ধীরে ধীরে শূন্যে নামিয়ে আনা হবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইসরায়েল বছরে প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা পায়। তবে আগামী ১০ বছরের মধ্যে এই আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনতে হবে।

তিনি বলেন, আমি চাই এখন থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু হোক। ধীরে ধীরে আমরা যেন যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তা ছাড়াই নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে পারি।

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয়নি। ইরানের হাতে এখনো সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর নেটওয়ার্ক রয়েছে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তিনি বলেন, ইরানের ইউরেনিয়াম ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো নিষ্ক্রিয় করতে হবে।

তবে এ বিষয়ে সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

হিজবুল্লাহ প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থেমে গেলেও লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চলতে পারে। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহকে আগের অবস্থায় থাকতে দেওয়া হবে না।

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের প্রভাব বাড়ছে বলেও দাবি করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, কয়েকটি আরব দেশ এখন ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারে আগ্রহ দেখাচ্ছে, বিশেষ করে প্রযুক্তি, জ্বালানি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো খাতে সহযোগিতার বিষয়ে।

চীনের বিরুদ্ধে ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি সহায়তার অভিযোগও তোলেন তিনি। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি।

গাজায় যুদ্ধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ইসরায়েলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, যুদ্ধের সময় ভুলের কারণে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানিও ঘটেছে।

গাজা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, হামাসকে নিরস্ত্র ও গাজাকে সামরিক প্রভাবমুক্ত করা এখনো ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর