img

সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার করতে না দেয়ায় হরমুজে অভিযান স্থগিত করেন ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ১৩:২৫, ০৭ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:৪৬, ০৭ মে ২০২৬

সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার করতে না দেয়ায় হরমুজে অভিযান স্থগিত করেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা জাহাজগুলোকে বের করে নিয়ে আসতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি নতুন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছিলেন । তবে এ ঘোষণার দুদিন পার না হতেই তিনি এটি স্থগিত করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তবে আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি জানিয়েছে, এই অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারে অনুমতি দেয়নি সৌদি আরব। এরফলে ট্রাম্প এটি স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন।

দুই মার্কিন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে বলেছেন, ট্রাম্পের প্রজেক্ট ফ্রিডম অভিযান ঘোষণার পর সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অন্যান্য আরব দেশগুলো অবাক হয়। 

এরপর সৌদির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে এ ব্যাপারে ট্রাম্প কথা বলেন। কিন্তু তারা দুজনে ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারেননি।

সৌদি আরবের একটি সূত্র এনবিসিকে বলেছেন, পাকিস্তান বর্তমানে যে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে, সৌদি এতেই সমর্থন দিচ্ছে। অর্থাৎ সৌদি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চায়।

হোয়াইট হাউজ দাবি করেছে, আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করেই ট্রাম্প নতুন অভিযান ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু ওমানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকে কিছুই জানায়নি। অভিযান শুরুর পর মূলত তারা সমন্বয় শুরু করেছে। তবে মার্কিনিদের এমন কাজে তারা ক্ষুব্ধ হননি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এরপরই হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। মার্কিনি ও ইসরায়েলিদের এ হামলার আগে হরমুজ সবার জন্য উন্মুক্তই ছিল।

সূত্র: এনবিসি

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ছদ্মবেশে মাঝরাতে রাস্তায় নারী পুলিশ কমিশনার, ৩ ঘণ্টায় ৪০ কুপ্রস্তাব

প্রকাশিত :  ০৭:৪৩, ০৮ মে ২০২৬

ভারতের হায়দরাবাদের মালকাজগিরি পুলিশ কমিশনার ভি সুমতি নারীদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরেজমিনে বুঝতে মাঝরাতে সাধারণ নারীর ছদ্মবেশে রাস্তায় নেমেছিলেন । কিন্তু মাত্র তিন ঘণ্টার সেই অভিযানে যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে, তা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বাইরে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনো পুলিশি নিরাপত্তা বা পরিচয় ছাড়াই রাত ১২টা ৩০ থেকে ভোর ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত একটি বাসস্ট্যান্ডে একা দাঁড়িয়ে ছিলেন এই নারী আইপিএস কর্মকর্তা।

উদ্দেশ্য ছিল, গভীর রাতে একজন সাধারণ নারী হিসেবে শহরের রাস্তায় কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, তা নিজ চোখে দেখা।

এই সময়ের মধ্যেই প্রায় ৪০ জন পুরুষ তার কাছে এগিয়ে আসেন। তাদের অনেকেই ছিলেন তরুণ, কেউ ছাত্র, কেউ চাকরিজীবী।

অভিযোগ রয়েছে, তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মদ্যপ ও গাঁজাসেবনকারীও ছিলেন। কেউ কথা বলার চেষ্টা করেছেন, আবার কেউ সরাসরি কুপ্রস্তাব দিয়েছেন। তবে তাদের কেউই বুঝতে পারেননি যে, তারা একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলছেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, শুধু অভিযোগ বা প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর না করে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার লক্ষ্যেই এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে অভিযানে জড়িত কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়।

তবে তাৎক্ষণিক মামলা না করে তাদের কাউন্সেলিংয়ের জন্য ডেকে পাঠানো হয় এবং জনসমক্ষে নারীদের প্রতি আচরণ নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

এই পদক্ষেপ স্থানীয় বাসিন্দাদের, বিশেষ করে নারীদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, নারী নিরাপত্তা নিয়ে বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে পুলিশের এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

তবে সুমতির জন্য এমন অভিযান নতুন কিছু নয়। কর্মজীবনের শুরুর দিকে ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ হিসেবে কাজিপেট রেলস্টেশন এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে নারীদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি যাচাইয়ে একই ধরনের একটি অভিযান চালিয়েছিলেন তিনি।

তেলেঙ্গানা ক্যাডারের এই আইপিএস কর্মকর্তা এর আগে স্টেট ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

মালকাজগিরির পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি বেশ কয়েকজন শীর্ষ মাওবাদীর আত্মসমর্পণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। গত ১ মে তিনি মালকাজগিরির পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।