যা করছি তা সঠিক, ইরান যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হবে: ট্রাম্প
প্রকাশিত :
০৫:৪৭, ০৭ মে ২০২৬
ইরান যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষের দিকে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । হরমুজ প্রণালির অবরোধ ও তেহরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে সমঝোতা চুক্তির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
দলের সমর্থকদের সঙ্গে ফোনালাপে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা যখন চলমান ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখবেন তখন বুঝতে পারবেন খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণে এসব করছি। আমরা তাদের পরমাণু অস্ত্র বানানোর অনুমতি দিতে পারি না।’
রয়টার্সের বরাতে আরও জানা গেছে, আমি মনে করি বেশির ভাগ মানুষ বিষয়টি বুঝতে পেরেছে। তারা বুঝতে পেরেছে আমরা যা করছি তা সঠিক। খুব দ্রুতই এর সমাধান হবে। খুব দ্রুতই এর সমাধান হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তেলের বিশ্ববাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য চুক্তির খবরে। তেলের দাম কমেছে, পাশাপাশি ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে বিশ্বের বড় বড় শেয়ারবাজার।
বুধবার প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। এরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলার থেকে নেমে ৯৭ ডলারে চলে আসে।
পরে কিছুটা বেড়ে তা ১০১ ডলারের ওপরে ওঠে।
একই সঙ্গে ইউরোপ ও এশিয়ার শেয়ারবাজারেও বড় উত্থান দেখা যায়। লন্ডনের এফটিএসই ১০০ সূচক এবং জার্মানির ড্যাক্স এবং ফ্রান্সের ক্যাক ৪০ সূচক শক্ত অবস্থানে দিন শেষ করে। যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকও ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
বুধবার এশিয়ার প্রধান বাজারগুলো সবকটিই ঊর্ধ্বমুখী ছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি ৬.৪৫ শতাংশ, হংকংয়ের হ্যাং সেং ১.২২ শতাংশ এবং জাপানের নিক্কেই ০.৩৮ শতাংশ বেড়ে দিন শেষ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য সমঝোতায় যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয় থাকতে পারে।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ এই পথ দিয়ে যায়। যুদ্ধের কারণে সেখানে পরিবহন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে।
তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল-এ ইঙ্গিত দিয়েছেন, সমঝোতা এখনো নিশ্চিত নয়। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে আরো বড় হামলা হতে পারে।
এদিকে ইরানও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব এখনো পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি যে ৭০ ডলারের কাছাকাছি ছিল। এই যুদ্ধের ফলে ওই অঞ্চলে তেল উৎপাদন ও পরিবহন ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে।
সাধারণত বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস চালানের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে, যা কয়েক সপ্তাহ ধরে কার্যত বন্ধ রয়েছে। সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বব্যাপী গ্যাসের দামও ব্যাপকভাবে বেড়েছে।