img

মার্কিন অবরোধ উপেক্ষা: ২২ কোটি ডলারের তেল নিয়ে এশিয়ায় পৌঁছেছে ইরানি সুপার ট্যাঙ্কার

প্রকাশিত :  ০৭:১৬, ০৩ মে ২০২৬

মার্কিন অবরোধ উপেক্ষা: ২২ কোটি ডলারের তেল নিয়ে এশিয়ায় পৌঁছেছে ইরানি সুপার ট্যাঙ্কার

মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর নজরদারি ও অবরোধ এড়িয়ে ২২ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বহন করে ইরানের একটি সুপার ট্যাঙ্কার এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পৌঁছেছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ট্যাঙ্কারট্র্যাকার্স ডটকম–এর তথ্যের বরাত দিয়ে রোববার (৩ মে) এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা

ট্যাঙ্কারট্র্যাকার্স সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে জানায়, ন্যাশনাল ইরানিয়ান ট্যাঙ্কার কোম্পানির মালিকানাধীন \'হিউজ\'  নামক ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) জাহাজটি বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার লম্বক প্রণালি অতিক্রম করছে। জাহাজটিতে প্রায় ১৯ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে যার আনুমানিক মূল্য ২২ কোটি মার্কিন ডলার। এক সপ্তাহ আগে জাহাজটিকে সর্বশেষ শ্রীলঙ্কার উপকূলে দেখা গিয়েছিল বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৩ এপ্রিল যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নতুন করে অবরোধ ঘোষণা করে, তখন জাহাজটি ইরানের জলসীমাতেই অবস্থান করছিল। এরপর ২০ মার্চ মালাক্কা প্রণালি থেকে ইরানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর থেকেই জাহাজটি তার অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম বন্ধ করে দেয়। মূলত মার্কিন স্যাটেলাইট ও রাডার নজরদারি ফাঁকি দিতেই এই কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এই \'অবরোধ যুদ্ধ\' নতুন মাত্রা পেয়েছে। গত ২৯ এপ্রিল ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, অন্তত ৫২টি ইরানি জাহাজ মার্কিন কঠোর বেষ্টনী ছিন্ন করে গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। বিপরীতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, অবরোধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইরান-সংশ্লিষ্ট অন্তত ৪১টি জাহাজকে তারা ফিরে যেতে বাধ্য করেছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এই অবরোধের ফলে ইরানের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হচ্ছে এবং রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় দেশটিকে তেল মজুত করতে হচ্ছে। তবে \'হিউজ\'-এর মতো সুপার ট্যাঙ্কারের সফল চলাচল যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

 


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতায় এবার মধ্যস্থতা করবে চীন

প্রকাশিত :  ১৮:৫৫, ১২ মে ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা প্রশমনে চীন একটি শক্তিশালী মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে বলে জানিয়েছে তেহরান। চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রহমানি ফাজলি দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। 

রাষ্ট্রদূত রহমানি বলেন, বেইজিং তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে এই মধ্যস্থতা যেন ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির বেইজিং সফর এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের ঠিক আগমুহূর্তে ফাজলির এই মন্তব্যটি সামনে এল। হোয়াইট হাউসের সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই চীন সফরের আগে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে বড় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা কম। 

রহমানি ফাজলি জোর দিয়ে বলেন, চীন কেবল ইরানের একটি অর্থনৈতিক অংশীদারই নয়, বরং বহিরাগত হুমকির বিপরীতে তেহরানের ‘রাজনৈতিক ভারসাম্য’ রক্ষার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

রাষ্ট্রদূত ফাজলি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইরান কেবল সামরিক বা কৌশলগত প্রতিক্রিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। বরং ইরান সক্রিয়ভাবে তার কূটনৈতিক অবস্থানকে পুনর্গঠন করার চেষ্টা করছে। 

আরাগচির চীন সফর সেই পরিকল্পনারই একটি অংশ। তার মতে, চীন এই সংকটকে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির কোণ থেকে দেখছে না, বরং তারা যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার পতন ঠেকাতেই বেশি আগ্রহী।

হরমুজ পরিস্থিতির বিষয়ে ফাজলি স্পষ্ট করেন যে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো একান্তই প্রতিরক্ষামূলক এবং তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিরোধী নয়। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেইজিং সফরের প্রাক্কালেই ইরানের তেল বিক্রিতে সহায়তার অভিযোগে ১২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। এই দ্বিমুখী পরিস্থিতির মধ্যেই বেইজিংয়ের মধ্যস্থতার বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সূত্র:সিএনএন। 

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর