img

পরমাণু আলোচনার আগেই হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে চায় ইরান

প্রকাশিত :  ১৭:০৬, ০২ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:০১, ০২ মে ২০২৬

পরমাণু আলোচনার আগেই হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে চায় ইরান

ইরানের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দেশটির পক্ষ থেকে দেওয়া একটি নতুন কূটনৈতিক প্রস্তাবের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তেহরান পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত জটিল আলোচনাগুলো আপাতত স্থগিত রেখে এর আগেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে এবং ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধের অবসান ঘটাতে চায়। খবর রয়টার্সের।

যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত এই প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন, তবে ইরান মনে করছে এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে চলমান সংকট নিরসনের পথ অনেকটাই সহজ হতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের ওই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, গোপন এই কূটনৈতিক প্রস্তাবের আওতায় সবচেয়ে জটিল পরমাণু আলোচনাগুলোকে একদম শেষ ধাপে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো শুরুতেই উত্তেজনা কমিয়ে একটি অনুকূল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এই আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এবং নতুন সময়সীমার বিষয়টি এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবটির মূল রূপরেখা অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল ভবিষ্যতে আর কখনো ইরানে হামলা চালাবে না—এই ধরনের সুনির্দিষ্ট গ্যারান্টির বিনিময়ে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে। এর বিপরীতে ইরান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেবে এবং এর পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ওপর থেকে তাদের সমস্ত অর্থনৈতিক ও সামরিক অবরোধ তুলে নিতে হবে।

ইরান মনে করছে, পরমাণু বিষয়টিকে আলোচনার শেষ ধাপে রেখে প্রথমে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি করা গেলে তা দুই পক্ষের জন্যই ইতিবাচক হবে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রাথমিক প্রত্যাখ্যানের কারণে এই প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার এই প্রচেষ্টা কতটুকু সফল হবে, তা নিয়ে এখনও বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতায় এবার মধ্যস্থতা করবে চীন

প্রকাশিত :  ১৮:৫৫, ১২ মে ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা প্রশমনে চীন একটি শক্তিশালী মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে বলে জানিয়েছে তেহরান। চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রহমানি ফাজলি দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। 

রাষ্ট্রদূত রহমানি বলেন, বেইজিং তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে এই মধ্যস্থতা যেন ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির বেইজিং সফর এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের ঠিক আগমুহূর্তে ফাজলির এই মন্তব্যটি সামনে এল। হোয়াইট হাউসের সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই চীন সফরের আগে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে বড় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা কম। 

রহমানি ফাজলি জোর দিয়ে বলেন, চীন কেবল ইরানের একটি অর্থনৈতিক অংশীদারই নয়, বরং বহিরাগত হুমকির বিপরীতে তেহরানের ‘রাজনৈতিক ভারসাম্য’ রক্ষার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

রাষ্ট্রদূত ফাজলি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইরান কেবল সামরিক বা কৌশলগত প্রতিক্রিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। বরং ইরান সক্রিয়ভাবে তার কূটনৈতিক অবস্থানকে পুনর্গঠন করার চেষ্টা করছে। 

আরাগচির চীন সফর সেই পরিকল্পনারই একটি অংশ। তার মতে, চীন এই সংকটকে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির কোণ থেকে দেখছে না, বরং তারা যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার পতন ঠেকাতেই বেশি আগ্রহী।

হরমুজ পরিস্থিতির বিষয়ে ফাজলি স্পষ্ট করেন যে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো একান্তই প্রতিরক্ষামূলক এবং তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিরোধী নয়। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেইজিং সফরের প্রাক্কালেই ইরানের তেল বিক্রিতে সহায়তার অভিযোগে ১২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। এই দ্বিমুখী পরিস্থিতির মধ্যেই বেইজিংয়ের মধ্যস্থতার বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সূত্র:সিএনএন। 

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর