img

আমিরাতকে 'ধ্বংসের' পরিকল্পনা সৌদিকে জানিয়েছিল ইরান

প্রকাশিত :  ১৬:১৯, ০২ মে ২০২৬

আমিরাতকে 'ধ্বংসের' পরিকল্পনা সৌদিকে জানিয়েছিল ইরান

মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান সৌদি আরবকে জানিয়েছিল, তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ‘ধ্বংস করে দেওয়ার’ পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল শনিবার (২ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেছে।

\r\n

তেহরানের এমন হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান রিয়াদ ও ওমানের কাছে ইঙ্গিত দেয় যে, তারা আমিরাতকে সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করাই ছিল ইরানের কৌশল।

দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরব ও আমিরাতের সম্পর্ক পুরোপুরি মসৃণ নয়। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি জোট ওপেক থেকে আমিরাতের সরে আসার ঘটনাও দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব বাড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণকারী বিভিন্ন সূত্র বলছে, ইরানকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত উত্তেজনা দুই দেশের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার বদলে পারস্পরিক সন্দেহ আরও বাড়াচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক পর্যায়ে ইরানের কর্মকর্তারা সরাসরি সৌদি আরবকে জানায় যে তারা আমিরাতের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তবে এই উত্তেজনার মধ্যেও তেহরান ও রিয়াদের কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কথাবার্তা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র-ঘনিষ্ঠ আরব দেশগুলোর মধ্যে দূরত্ব বাড়াতে ইরান কৌশলগতভাবে এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও আমিরাত উভয় দেশই নিজ নিজ প্রভাব বিস্তারে বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুতে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আমিরাতকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান বিপুলসংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে দেশটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য এবং এসব দেশ নিরাপত্তার জন্য ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরশীল।

চলমান এই উত্তেজনা ইসরাইলের সঙ্গে আমিরাতের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করেছে। বিভিন্ন সূত্র বলছে, প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অংশ হিসেবে ইসরাইল আমিরাতকে উন্নত প্রযুক্তির প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই সংঘাত থেকে পিছিয়ে যায়, তাহলে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে ইরানের প্রভাব বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই আমিরাত আরও দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। এমনকি দেশটির নেতৃত্ব দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকার ইঙ্গিতও দিয়েছে।

সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে বর্তমান উত্তেজনা শুধু নিরাপত্তা ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি উপসাগরীয় দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কেও নতুন মাত্রা যোগ করছে।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতায় এবার মধ্যস্থতা করবে চীন

প্রকাশিত :  ১৮:৫৫, ১২ মে ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা প্রশমনে চীন একটি শক্তিশালী মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে বলে জানিয়েছে তেহরান। চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রহমানি ফাজলি দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। 

রাষ্ট্রদূত রহমানি বলেন, বেইজিং তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে এই মধ্যস্থতা যেন ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির বেইজিং সফর এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের ঠিক আগমুহূর্তে ফাজলির এই মন্তব্যটি সামনে এল। হোয়াইট হাউসের সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই চীন সফরের আগে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে বড় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা কম। 

রহমানি ফাজলি জোর দিয়ে বলেন, চীন কেবল ইরানের একটি অর্থনৈতিক অংশীদারই নয়, বরং বহিরাগত হুমকির বিপরীতে তেহরানের ‘রাজনৈতিক ভারসাম্য’ রক্ষার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

রাষ্ট্রদূত ফাজলি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইরান কেবল সামরিক বা কৌশলগত প্রতিক্রিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। বরং ইরান সক্রিয়ভাবে তার কূটনৈতিক অবস্থানকে পুনর্গঠন করার চেষ্টা করছে। 

আরাগচির চীন সফর সেই পরিকল্পনারই একটি অংশ। তার মতে, চীন এই সংকটকে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির কোণ থেকে দেখছে না, বরং তারা যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার পতন ঠেকাতেই বেশি আগ্রহী।

হরমুজ পরিস্থিতির বিষয়ে ফাজলি স্পষ্ট করেন যে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো একান্তই প্রতিরক্ষামূলক এবং তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিরোধী নয়। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেইজিং সফরের প্রাক্কালেই ইরানের তেল বিক্রিতে সহায়তার অভিযোগে ১২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। এই দ্বিমুখী পরিস্থিতির মধ্যেই বেইজিংয়ের মধ্যস্থতার বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সূত্র:সিএনএন। 

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর