img

ভবনে আগুন, ছাদের দরজা বন্ধ থাকায় প্রাণ গেল ৯ জনের

প্রকাশিত :  ০৮:৪৩, ০৩ মে ২০২৬

ভারতের নয়াদিল্লিতে একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ আগুন লেগেছে। এ ঘটনায় অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভবনের ছাদের দরজা বন্ধ থাকায় বের হতে না পেরে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

 আজ রোববার (০৩ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লির বিবেক বিহারের একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ আগুন লেগেছে। এ সময় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বের হওয়ার কোনো পথ না পেয়ে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় বাসিন্দাদের অনেকেই বের হতে পারেননি। কারণ ভবনের একদিকে লোহার গ্রিল ছিল। এছাড়া ছাদে যাওয়ার সিঁড়ির দরজাটিও তালাবদ্ধ ছিল।

এনডিটিভি জানিয়েছে, উদ্ধারের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভবনের নকশা। বেজমেন্টসহ চারতলা এই ভবনে মাত্র একটি সিঁড়ি ছিল। এছাড়া এতে কোনো জরুরি নির্গমন পথ ছিল না। আগুন পেছনের দিক দিয়ে ছড়িয়ে পড়ায় সেখান থেকে লাফিয়ে বের হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। কারণ গ্রিল দিয়ে একদিকের পুরোটা আটকানো ছিল। এছাড়া পেছনের ফ্ল্যাটগুলোর সামনের দিকেও পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। আগুন ছড়িয়ে পড়ায় কেউ কেউ ধোঁয়ায় ভরা করিডোর পেরিয়ে ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করলেও দরজা বন্ধ থাকায় আর কোনো পথ খুঁজে পাননি। তীব্র তাপ আর ধোঁয়ার মধ্যে আটকে পড়ে অনেকেই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ভোর সাড়ে তিনটার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এ সময়ে বেশিরভাগ বাসিন্দা ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুন লাগার পর তা পাশের ভবনেও ছড়িয়ে পড়ে। দুই ভবনের মাঝে ফাঁকা জায়গা না থাকায় আগুন দ্রুত ছড়াতে সাহায্য করে।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এই ভয়াবহ ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ভবনের ভেতরে আটকে পড়া মানুষ ও শিশুদের সাহায্যের চিৎকার শোনা যাচ্ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই শিশু বাঁচার জন্য ভবনের সামনে দিক থেকে লাফ দেওয়ারও চেষ্টা করেছিল।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতায় এবার মধ্যস্থতা করবে চীন

প্রকাশিত :  ১৮:৫৫, ১২ মে ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা প্রশমনে চীন একটি শক্তিশালী মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে বলে জানিয়েছে তেহরান। চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রহমানি ফাজলি দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। 

রাষ্ট্রদূত রহমানি বলেন, বেইজিং তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে এই মধ্যস্থতা যেন ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির বেইজিং সফর এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের ঠিক আগমুহূর্তে ফাজলির এই মন্তব্যটি সামনে এল। হোয়াইট হাউসের সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই চীন সফরের আগে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে বড় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা কম। 

রহমানি ফাজলি জোর দিয়ে বলেন, চীন কেবল ইরানের একটি অর্থনৈতিক অংশীদারই নয়, বরং বহিরাগত হুমকির বিপরীতে তেহরানের ‘রাজনৈতিক ভারসাম্য’ রক্ষার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

রাষ্ট্রদূত ফাজলি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইরান কেবল সামরিক বা কৌশলগত প্রতিক্রিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। বরং ইরান সক্রিয়ভাবে তার কূটনৈতিক অবস্থানকে পুনর্গঠন করার চেষ্টা করছে। 

আরাগচির চীন সফর সেই পরিকল্পনারই একটি অংশ। তার মতে, চীন এই সংকটকে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির কোণ থেকে দেখছে না, বরং তারা যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার পতন ঠেকাতেই বেশি আগ্রহী।

হরমুজ পরিস্থিতির বিষয়ে ফাজলি স্পষ্ট করেন যে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো একান্তই প্রতিরক্ষামূলক এবং তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিরোধী নয়। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেইজিং সফরের প্রাক্কালেই ইরানের তেল বিক্রিতে সহায়তার অভিযোগে ১২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। এই দ্বিমুখী পরিস্থিতির মধ্যেই বেইজিংয়ের মধ্যস্থতার বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সূত্র:সিএনএন। 

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর