img

চীনের আতশবাজির কারখানায় বিস্ফোরণ, ২১ জন নিহত

প্রকাশিত :  ০৮:৩৩, ০৫ মে ২০২৬

চীনের আতশবাজির কারখানায় বিস্ফোরণ, ২১ জন নিহত

চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ হুনানের একটি আতশবাজির কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটেছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২১ জন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ৬০ জন। দেশটির সরকারি বার্তাসংস্থা সিনহুয়ার বরাতে জানা গেছে এ তথ্য।

হুনানের লিউইয়াং শহরে আতশবাজী প্রস্তুতকারী কোম্পানি হুয়াশেং ফায়ারওয়ার্কস ম্যানুফেকচারিং অ্যান্ড ডিসপ্লে কোম্পানির কারখানা বা ওয়ার্কশপে ঘটেছে এই বিস্ফোরণ। লিউইয়াং শহরটি চীনের আতশবাজি শিল্পের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বেশ কয়েকটি আতশবাজি কারখানা রয়েছে শহরটিতে।

গতকাল সোমবার হুনানের স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে) এই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে সিনহুয়ার প্রতিবেদনে। নিহতদের অধিকাংশ ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন।

বিস্ফোরণের কিছু সময়ের মধ্যেই ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ৫০০ উদ্ধারকর্মী কারখানাটিতে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। কারখানায় উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সেটির আশপাশের ৩ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকার বাড়িঘর থেকে লোকজনদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর কারণ কারখানাটির অদূরেই কালো বারুদের দুৎটি গুদাম রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন বিস্ফোরণের সময় শব্দে তাদের বাড়ি-ঘরের দরজা জানালা কেঁপে উঠেছিল। কী কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটল— তা এখনও জানা যায়নি।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এ ঘটনার দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি কোম্পানি কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহিতা চাওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে সিনহুয়া।

উল্লেখ্য, আতশবাজি শিল্পে চীন বিশ্বের সবচেয়ে এগিয়ে থাকা দেশগুলোর ম্যেধ একটি। ২০২৫ সালের ১১৪ কোটি ডলারের আতশবাজী বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ করেছে চীনা কোম্পানিগুলো। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বিশ্বজুড়ে যত আতশবাজি বিক্রি হয়েছে— তার দুই তৃতীয়াংশই এসেছে চীন থেকে।

সূত্র : রয়টার্স

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতায় এবার মধ্যস্থতা করবে চীন

প্রকাশিত :  ১৮:৫৫, ১২ মে ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা প্রশমনে চীন একটি শক্তিশালী মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে বলে জানিয়েছে তেহরান। চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রহমানি ফাজলি দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। 

রাষ্ট্রদূত রহমানি বলেন, বেইজিং তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে এই মধ্যস্থতা যেন ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির বেইজিং সফর এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের ঠিক আগমুহূর্তে ফাজলির এই মন্তব্যটি সামনে এল। হোয়াইট হাউসের সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই চীন সফরের আগে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে বড় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা কম। 

রহমানি ফাজলি জোর দিয়ে বলেন, চীন কেবল ইরানের একটি অর্থনৈতিক অংশীদারই নয়, বরং বহিরাগত হুমকির বিপরীতে তেহরানের ‘রাজনৈতিক ভারসাম্য’ রক্ষার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

রাষ্ট্রদূত ফাজলি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইরান কেবল সামরিক বা কৌশলগত প্রতিক্রিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। বরং ইরান সক্রিয়ভাবে তার কূটনৈতিক অবস্থানকে পুনর্গঠন করার চেষ্টা করছে। 

আরাগচির চীন সফর সেই পরিকল্পনারই একটি অংশ। তার মতে, চীন এই সংকটকে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির কোণ থেকে দেখছে না, বরং তারা যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার পতন ঠেকাতেই বেশি আগ্রহী।

হরমুজ পরিস্থিতির বিষয়ে ফাজলি স্পষ্ট করেন যে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো একান্তই প্রতিরক্ষামূলক এবং তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিরোধী নয়। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেইজিং সফরের প্রাক্কালেই ইরানের তেল বিক্রিতে সহায়তার অভিযোগে ১২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। এই দ্বিমুখী পরিস্থিতির মধ্যেই বেইজিংয়ের মধ্যস্থতার বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সূত্র:সিএনএন। 

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর