কারচুপির অভিযোগ

img

ভোটে হারিনি, পদত্যাগ কেন করব: মমতা

প্রকাশিত :  ১৩:৩৮, ০৫ মে ২০২৬

ভোটে হারিনি, পদত্যাগ কেন করব: মমতা

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোচনীয় পরাজয়ের বিধানসভা নির্বাচনপ্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন । তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিচারব্যবস্থা নেই। কেন্দ্রীয় সরকার এক দলের শাসন চায়। তাঁর প্রশ্ন—গণতন্ত্র কোথায় যাবে?

পশ্চিমবঙ্গের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন কমিশন ১০০ আসন লুট করেছে।

গত সোমবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়। এতে ২৯৩টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে বিজেপি। তৃণমূল জিতেছে ৮০টি আসনে। ভোটের এই ফলাফলের পর আজ মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাট থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতা বলেন, ‘এমনি জিতলে কোনো অভিযোগ থাকত না। হার-জিত থাকেই। কিন্তু তা হয়নি। আমরা হারিনি। ওরা লুট করেছে।’

গণনার শুরুর পর সংবাদমাধ্যমে বিজেপি দুই শতাধিক আসন পেয়েছে দেখানোর পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় হামলা শুরু হয় বলে অভিযোগ করেছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘বিজেপির লোকজন গণনাকেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে মারধর শুরু করে। ১৩ হাজার ভোটে আমি লিড করছিলাম। ৩২ হাজারের বেশি পাওয়ার কথা ছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে ওরা গণনাকেন্দ্রে ঢুকেছে। সব ভেঙে দিয়েছে। এটা শুনেই আমি গেলাম। জগুবাজারের কাছে আমার গাড়ি আটকাল। বলল যেতে দেবে না। লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি।’

উল্লেখ্য, তৃণমূলের প্রধান ও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নিজ আসন ভবানীপুরে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে গেছেন। ভোটের ব্যবধান ছিল ১৫ হাজারের বেশি।

মমতা বলেন, ‘বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের এই লড়াই ছিল না। নির্বাচন কমিশন এখানে একটা কালো ইতিহাস তৈরি করল। কমিশনই ভিলেন হয়েছে। মানুষের অধিকার লুট করেছে। ভোটের আগে সব জায়গায় রেড করে। সব অফিসারকে বদলে দেয়। বিজেপি আর কমিশনের মধ্যে বেটিং হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।’

পদত্যাগ করব না

সংবাদ সম্মেলনে মমতা বলেন, এখনই তিনি পদত্যাগ করবেন না। তিনি বলেন, ‘কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে?’ মমতা আরও বলেন, ‘এত দিন আমি চেয়ারে ছিলাম। অনেক কিছু সহ্য করেছি। কিন্তু এখন আমি মুক্ত বিহঙ্গ। সাধারণ মানুষ। আর সহ্য করব না। সব অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করব। আমি রাস্তার লোক। রাস্তায় ছিলাম, রাস্তায় থাকব।’

‘বিরোধী শক্তি বৃদ্ধি করব’

বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র শক্তি বৃদ্ধি করার কথাও বলেছেন মমতা। বিজেপিবিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সব নেতা ফোন করে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন বলে জানান মমতা। তিনি বলেন, ‘জোট আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হবে। অখিলেশ আজ আসতে চেয়েছিল। আমি কাল আসতে বলেছি। একে একে সবাই আসবেন। জোট শক্তিশালী করব।’

মমতা ও অভিষেকের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ডেরেক ও’ব্রায়েন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়রা।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরানের বিরুদ্ধে ‘এপিক ফিউরি’ অভিযান শেষ: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ০৮:৫৩, ০৬ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:২৯, ০৬ মে ২০২৬

‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামের যে সামরিক অভিযান গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, তা শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মার্কো রুবিও। গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, “(ইরানে) অপারেশন এপিক ফিউরি শেষ করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী। যে লক্ষ্যে আমরা এ অভিযান শুরু করেছিলা, তা অর্জিত হয়েয়েছে।”

ইরানে নতুন কোনো সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই উল্লেখ করে এবিসি নিউজকে রুবিও আরওে বলেন, “(ইরান ইস্যুতে) নতুন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হোক— তা আমরা চাইছি না। আমরা শান্তির পথই পছন্দ করি। আমাদের প্রেসিডেন্ট একটি চুক্তি চান। তিনি আলোচনায় বসে একটি সমঝোতা স্মারক (মেমোর‌্যান্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) তৈরিতে কাজ করতে চান, যেখানে ভবিষ্যতে আলোচনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তিনি চান হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া হোক—যেন বিশ্ব ফের আগের অবস্থায় ফিরতে পারে।”

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘ প্রায় দু’যুগ ধরে টানাপোড়েন চলছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে। ২০২৫ সালের জুন মাস এ ইস্যুতে ১২ দিনের সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল।

পরমাণু প্রকল্প ইস্যুতে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির জন্য গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভায় বৈঠক হয় মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদলের মধ্যে। তবে দীর্ঘ এই আলোচনার পরও কোনো সমঝোতা হয়নি।

২১ দিন ধরে দফায় দফায় আলোচনার পরও কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ সেই বৈঠক। তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে অপারেশন এপিক ফিউরি শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি, সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইরানের বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ধ্বংস কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ইতেমধ্যে ইরানে নিহত হয়েছেন ৩ হাজারের বেশি মানুষ।

সমানতালে হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্তর আরব আমিরাত, ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরান।

টানা ৪০ দিন ধরে যুদ্ধের পর ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। সেই বিরতি এখনও চলছে।

সূত্র : এবিসি নিউজ

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর