img

হরমুজ প্রণালিতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযান ‘মাত্র শুরু’ হয়েছে: যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত :  ১৮:৩৩, ০৫ মে ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযান ‘মাত্র শুরু’ হয়েছে: যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে শুরু হওয়া ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযানটি সাময়িক। এর মাধ্যমে এই সমুদ্রপথে একটি ‘নিরাপদ করিডোর’ তৈরি করা হচ্ছে।

আল-জাজিরা অ্যারাবিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেন্টকমের মুখপাত্র বলেন, এই অভিযানটি ‘মাত্র শুরু’ হয়েছে। ইতিমধ্যে জাহাজ মালিক এবং বিমা কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।

সেন্টকমের ওই মুখপাত্র আরও জানান, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো যাতে নিরাপদে এই প্রণালি অতিক্রম করতে পারে, তা নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতি ও আঞ্চলিক অর্থনীতি—উভয়ই লাভবান হবে বলে দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র এই বিশেষ নিরাপত্তা অভিযান শুরু করল।

সূত্র: আল–জাজিরা

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরানের বিরুদ্ধে ‘এপিক ফিউরি’ অভিযান শেষ: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ০৮:৫৩, ০৬ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:২৯, ০৬ মে ২০২৬

‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামের যে সামরিক অভিযান গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, তা শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মার্কো রুবিও। গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, “(ইরানে) অপারেশন এপিক ফিউরি শেষ করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী। যে লক্ষ্যে আমরা এ অভিযান শুরু করেছিলা, তা অর্জিত হয়েয়েছে।”

ইরানে নতুন কোনো সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই উল্লেখ করে এবিসি নিউজকে রুবিও আরওে বলেন, “(ইরান ইস্যুতে) নতুন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হোক— তা আমরা চাইছি না। আমরা শান্তির পথই পছন্দ করি। আমাদের প্রেসিডেন্ট একটি চুক্তি চান। তিনি আলোচনায় বসে একটি সমঝোতা স্মারক (মেমোর‌্যান্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) তৈরিতে কাজ করতে চান, যেখানে ভবিষ্যতে আলোচনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তিনি চান হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া হোক—যেন বিশ্ব ফের আগের অবস্থায় ফিরতে পারে।”

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘ প্রায় দু’যুগ ধরে টানাপোড়েন চলছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে। ২০২৫ সালের জুন মাস এ ইস্যুতে ১২ দিনের সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল।

পরমাণু প্রকল্প ইস্যুতে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির জন্য গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভায় বৈঠক হয় মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদলের মধ্যে। তবে দীর্ঘ এই আলোচনার পরও কোনো সমঝোতা হয়নি।

২১ দিন ধরে দফায় দফায় আলোচনার পরও কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ সেই বৈঠক। তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে অপারেশন এপিক ফিউরি শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি, সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইরানের বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ধ্বংস কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ইতেমধ্যে ইরানে নিহত হয়েছেন ৩ হাজারের বেশি মানুষ।

সমানতালে হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্তর আরব আমিরাত, ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরান।

টানা ৪০ দিন ধরে যুদ্ধের পর ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। সেই বিরতি এখনও চলছে।

সূত্র : এবিসি নিউজ

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর