img

বিশ্ববাজার তেলের দামে বড় পতন

প্রকাশিত :  ০৬:৪২, ০৭ মে ২০২৬

বিশ্ববাজার তেলের দামে বড় পতন

তেলের বিশ্ববাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য চুক্তির খবরে। তেলের দাম কমেছে, পাশাপাশি ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে বিশ্বের বড় বড় শেয়ারবাজার।

বুধবার প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। এরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলার থেকে নেমে ৯৭ ডলারে চলে আসে।

পরে কিছুটা বেড়ে তা ১০১ ডলারের ওপরে ওঠে।

একই সঙ্গে ইউরোপ ও এশিয়ার শেয়ারবাজারেও বড় উত্থান দেখা যায়। লন্ডনের এফটিএসই ১০০ সূচক এবং জার্মানির ড্যাক্স  এবং ফ্রান্সের ক্যাক ৪০ সূচক শক্ত অবস্থানে দিন শেষ করে। যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকও ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

বুধবার এশিয়ার প্রধান বাজারগুলো সবকটিই ঊর্ধ্বমুখী ছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি ৬.৪৫ শতাংশ, হংকংয়ের হ্যাং সেং ১.২২ শতাংশ এবং জাপানের নিক্কেই ০.৩৮ শতাংশ বেড়ে দিন শেষ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য সমঝোতায় যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয় থাকতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালি।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ এই পথ দিয়ে যায়। যুদ্ধের কারণে সেখানে পরিবহন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে।

তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল-এ ইঙ্গিত দিয়েছেন, সমঝোতা এখনো নিশ্চিত নয়। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে আরো বড় হামলা হতে পারে।

এদিকে ইরানও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব এখনো পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি যে ৭০ ডলারের কাছাকাছি ছিল। এই যুদ্ধের ফলে ওই অঞ্চলে তেল উৎপাদন ও পরিবহন ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

সাধারণত বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস চালানের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে, যা কয়েক সপ্তাহ ধরে কার্যত বন্ধ রয়েছে। সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বব্যাপী গ্যাসের দামও ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতায় এবার মধ্যস্থতা করবে চীন

প্রকাশিত :  ১৮:৫৫, ১২ মে ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা প্রশমনে চীন একটি শক্তিশালী মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে বলে জানিয়েছে তেহরান। চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রহমানি ফাজলি দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। 

রাষ্ট্রদূত রহমানি বলেন, বেইজিং তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে এই মধ্যস্থতা যেন ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির বেইজিং সফর এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের ঠিক আগমুহূর্তে ফাজলির এই মন্তব্যটি সামনে এল। হোয়াইট হাউসের সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই চীন সফরের আগে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে বড় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা কম। 

রহমানি ফাজলি জোর দিয়ে বলেন, চীন কেবল ইরানের একটি অর্থনৈতিক অংশীদারই নয়, বরং বহিরাগত হুমকির বিপরীতে তেহরানের ‘রাজনৈতিক ভারসাম্য’ রক্ষার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

রাষ্ট্রদূত ফাজলি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইরান কেবল সামরিক বা কৌশলগত প্রতিক্রিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। বরং ইরান সক্রিয়ভাবে তার কূটনৈতিক অবস্থানকে পুনর্গঠন করার চেষ্টা করছে। 

আরাগচির চীন সফর সেই পরিকল্পনারই একটি অংশ। তার মতে, চীন এই সংকটকে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির কোণ থেকে দেখছে না, বরং তারা যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার পতন ঠেকাতেই বেশি আগ্রহী।

হরমুজ পরিস্থিতির বিষয়ে ফাজলি স্পষ্ট করেন যে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো একান্তই প্রতিরক্ষামূলক এবং তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিরোধী নয়। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেইজিং সফরের প্রাক্কালেই ইরানের তেল বিক্রিতে সহায়তার অভিযোগে ১২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। এই দ্বিমুখী পরিস্থিতির মধ্যেই বেইজিংয়ের মধ্যস্থতার বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সূত্র:সিএনএন। 

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর