দাবি আইআরজিসির

img

ইরানের মুহুর্মুহু হামলায় হরমুজ ছাড়লো মার্কিন ডেস্ট্রয়ার

প্রকাশিত :  ০৫:৩৪, ০৮ মে ২০২৬

ইরানের মুহুর্মুহু হামলায় হরমুজ ছাড়লো মার্কিন ডেস্ট্রয়ার

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ ইউনিট দাবি করেছে, যৌথ সামরিক অভিযানে তারা মার্কিন নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। তাদের মুহুর্মুহু হামলার মুখে তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার হরমুজ প্রণালী ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। খবর প্রেসটিভির।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যায় পরিচালিত এই অভিযানে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আইআরজিসি নৌবাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। 

ইরানি কমান্ডারের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলার প্রতিবাদে এবং বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ নিয়ে অগ্রসর হওয়ায় এই পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা এই নৌপথ থেকে মার্কিন জাহাজগুলো দ্রুত প্রস্থান করতে বাধ্য হয়।

আইআরজিসি নৌবাহিনীর কমান্ডার জানিয়েছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুটি উসকানিমূলক কাজের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই অভিযান শুরু করা হয়। প্রথমত, মার্কিন বাহিনী যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে জাস্ক বন্দরের কাছে একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালায়। 

দ্বিতীয়ত, তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও মার্কিন নৌবাহিনীর তিনটি ডেস্ট্রয়ার হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এই দুই ঘটনার প্রেক্ষাপটে ইরান অত্যন্ত নিখুঁত এবং বিস্তৃত এক যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযানে জাহাজ বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং শক্তিশালী ধ্বংসাত্মক ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানি বাহিনী সরাসরি শত্রু যুদ্ধজাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বিস্ফোরকবাহী অস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইরানের গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণে মার্কিন সামরিক সম্পদগুলোর ‘মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির’ বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। 

ইরানি কমান্ডারের দাবি অনুযায়ী, ভয়াবহ এবং নিখুঁত আগুনের মুখে টিকতে না পেরে তিনটি আক্রমণকারী মার্কিন জাহাজ অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ইরান আবারও প্রমাণ করেছে, তাদের পানিসীমায় যেকোনো ধরনের অনধিকার প্রবেশ বা আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দিতে তারা দ্বিধাবোধ করবে না।

খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি এই ঘটনাবলিকে মার্কিন ‘সামুদ্রিক দস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বোঝা উচিত, যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান শক্তিশালী এবং চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। 

বর্তমানে এই কৌশলগত জলপথটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্রদের জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের এই সফল সামরিক মহড়া মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাবের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

সূত্র: প্রেস টিভি

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ছদ্মবেশে মাঝরাতে রাস্তায় নারী পুলিশ কমিশনার, ৩ ঘণ্টায় ৪০ কুপ্রস্তাব

প্রকাশিত :  ০৭:৪৩, ০৮ মে ২০২৬

ভারতের হায়দরাবাদের মালকাজগিরি পুলিশ কমিশনার ভি সুমতি নারীদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরেজমিনে বুঝতে মাঝরাতে সাধারণ নারীর ছদ্মবেশে রাস্তায় নেমেছিলেন । কিন্তু মাত্র তিন ঘণ্টার সেই অভিযানে যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে, তা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বাইরে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনো পুলিশি নিরাপত্তা বা পরিচয় ছাড়াই রাত ১২টা ৩০ থেকে ভোর ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত একটি বাসস্ট্যান্ডে একা দাঁড়িয়ে ছিলেন এই নারী আইপিএস কর্মকর্তা।

উদ্দেশ্য ছিল, গভীর রাতে একজন সাধারণ নারী হিসেবে শহরের রাস্তায় কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, তা নিজ চোখে দেখা।

এই সময়ের মধ্যেই প্রায় ৪০ জন পুরুষ তার কাছে এগিয়ে আসেন। তাদের অনেকেই ছিলেন তরুণ, কেউ ছাত্র, কেউ চাকরিজীবী।

অভিযোগ রয়েছে, তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মদ্যপ ও গাঁজাসেবনকারীও ছিলেন। কেউ কথা বলার চেষ্টা করেছেন, আবার কেউ সরাসরি কুপ্রস্তাব দিয়েছেন। তবে তাদের কেউই বুঝতে পারেননি যে, তারা একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলছেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, শুধু অভিযোগ বা প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর না করে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার লক্ষ্যেই এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে অভিযানে জড়িত কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়।

তবে তাৎক্ষণিক মামলা না করে তাদের কাউন্সেলিংয়ের জন্য ডেকে পাঠানো হয় এবং জনসমক্ষে নারীদের প্রতি আচরণ নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

এই পদক্ষেপ স্থানীয় বাসিন্দাদের, বিশেষ করে নারীদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, নারী নিরাপত্তা নিয়ে বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে পুলিশের এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

তবে সুমতির জন্য এমন অভিযান নতুন কিছু নয়। কর্মজীবনের শুরুর দিকে ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ হিসেবে কাজিপেট রেলস্টেশন এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে নারীদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি যাচাইয়ে একই ধরনের একটি অভিযান চালিয়েছিলেন তিনি।

তেলেঙ্গানা ক্যাডারের এই আইপিএস কর্মকর্তা এর আগে স্টেট ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

মালকাজগিরির পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি বেশ কয়েকজন শীর্ষ মাওবাদীর আত্মসমর্পণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। গত ১ মে তিনি মালকাজগিরির পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।