img

প্রকাশ্য দিবালোকে স্ত্রীর গলা কাটতে গিয়ে গণধোলাই খেলো স্বামী

প্রকাশিত :  ০৭:১৮, ১০ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:২৯, ১০ মে ২০২৬

প্রকাশ্য দিবালোকে স্ত্রীর গলা কাটতে গিয়ে গণধোলাই খেলো স্বামী

ব্যস্ত সড়কের ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে মোটরবাইকে চড়ে এসে স্ত্রীর পথরোধ করে ধারালো ছুরি দিয়ে তার গলা কেটে ফেলার চেষ্টা করেন স্বামী। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পথচারীদের তাৎক্ষণিক সাহসিকতা এবং সময়োচিত হস্তক্ষেপে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে প্রাণে বেঁচে গেছেন ওই ভুক্তভোগী নারী।

গত বুধবার (৬ মে) দুপুরে ভারতের বেঙ্গালুরুর নেলামানগালা এলাকার দাসানাপুরায় এই ঘটনা ঘটে।

হামলাকারী ব্যক্তির নাম সঞ্জয় বলে শনাক্ত করা গেছে। তিনি মূলত বিহারের বাসিন্দা। তিনি এবং তার স্ত্রী সোনালী উভয়েই এই শহরের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

ঘটনার দিন দুপুরে সোনালী যখন নিজের ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তায় আসেন, ঠিক তখনই মাথায় হেলমেট পরা অবস্থায় মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন সঞ্জয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি আকস্মিকভাবে সোনালীর পথ আটকে দাঁড়ান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, সোনালীর পথরোধ করার পরপরই সঞ্জয় অত্যন্ত হিংস্রভাবে তাকে টেনেহিঁচড়ে রাস্তার মাঝখানে নিয়ে যান। এরপর পকেট থেকে একটি ধারালো ছুরি বের করে সোনালীর গলায় ধরেন এবং তাকে জবাই করার চেষ্টা করেন। ব্যস্ত সড়কের ওপর এমন আকস্মিক ও ভয়াবহ দৃশ্য দেখে চারপাশের মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে রাস্তার পাশে থাকা একদল সাহসী পুরুষ তাৎক্ষণিকভাবে সোনালীর সাহায্যে এগিয়ে আসেন। তারা কোনো ভয় না পেয়ে সরাসরি সঞ্জয়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং তাকে জাপটে ধরে কাবু করে ফেলেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা সঞ্জয়কে গণধোলাই দেয় এবং তার হাত থেকে সোনালীকে উদ্ধার করে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেয়।

উদ্ধার তৎপরতার সময় চারপাশে তৈরি হওয়া হট্টগোল ও সুযোগ কাজে লাগিয়ে সোনালী দ্রুত নিজেকে স্বামীর খপ্পর থেকে মুক্ত করতে সক্ষম হন। তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদ স্থানে সরে যান, যার ফলে একটি অবধারিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের হাত থেকে তিনি অল্পের জন্য রক্ষা পান।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত থেকে জানা গেছে, এই দম্পতির মধ্যে গত বেশ কয়েক মাস ধরে তীব্র পারিবারিক অশান্তি চলছিল। সঞ্জয় এবং সোনালী উভয়েরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। নিজেদের জীবনকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার আশায় এবং সুন্দর ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় তারা বিহার থেকে এসে বেঙ্গালুরুতে বসবাস শুরু করেছিলেন।

তবে তাদের সেই প্রত্যাশা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে সঞ্জয় অতিরিক্ত মাত্রায় মদ্যপানে আসক্ত হয়ে পড়েন। এই চরম মদ্যপানের অভ্যাসকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই ঝগড়া ও তীব্র বাদানুবাদ লেগেই থাকত, যা একসময় তাদের সম্পর্কের চূড়ান্ত অবনতি ঘটায়।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, ক্রমাগত অশান্তি ও পারিবারিক বিবাদের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে সোনালী সম্প্রতি সঞ্জয়ের সাথে আর একসঙ্গে না থাকার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি সঞ্জয়ের সাথে সংসার করতে অস্বীকৃতি জানালে সঞ্জয় চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এই ক্ষোভ ও প্রতিশোধের আগুন থেকেই তিনি নিজের স্ত্রীকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য এই নৃশংস হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই রোমহর্ষক ও নৃশংস ঘটনার পর স্থানীয় থানায় একটি আনুষ্ঠানিক পুলিশি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ঘটনার পেছনের অন্যান্য কারণ খতিয়ে দেখছে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরানের পরমাণু অস্ত্র বানানো নিয়ে সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা প্রধানের গোপন তথ্যে চাঞ্চল্য

প্রকাশিত :  ১৪:৪৪, ০৯ মে ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের সাবেক পরিচালক জো কেন্ট দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার আগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ঐকমত্যে পৌঁছেছিল যে দেশটি কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না। 

ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে কেন্ট এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। 

তার মতে, সিআইএ-সহ মার্কিন গোয়েন্দা সম্প্রদায় যুদ্ধের আগেই সঠিকভাবে মূল্যায়ন করেছিল যে আক্রান্ত হলে ইরান এশীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাবে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেবে।

জো কেন্টের অভিযোগ, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঠিক ও পেশাদার মূল্যায়ন সত্ত্বেও একটি বিদেশি রাষ্ট্র তথা ইসরাইলের তৈরি করা বয়ান এবং এজেন্ডা এই তর্কে জয়ী হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে। 

তিনি মনে করেন, ইরানি নেতৃত্বের ওপর হামলা চালালে শাসনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং কট্টরপন্থীরা উৎসাহিত হবে—গোয়েন্দাদের এমন পূর্বাভাস সত্য হওয়া সত্ত্বেও ইসরাইলি প্রভাবে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। গত মার্চ মাসে নৈতিক কারণে পদত্যাগ করা কেন্ট তার পদত্যাগপত্রেও উল্লেখ করেছিলেন যে ইরান আমেরিকার জন্য কোনো আসন্ন হুমকি ছিল না এবং কেবল ইসরায়েল ও তাদের শক্তিশালী লবির চাপেই এই যুদ্ধ শুরু হয়েছে।

তবে জো কেন্টের এসব দাবিকে ডাহা মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল ফক্স নিউজ ডিজিটালকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, কেন্টের দাবিগুলো ভিত্তিহীন এবং অবমাননাকর। 

তিনি উল্লেখ করেন, ইরান বিশ্বের বৃহত্তম সন্ত্রাসবাদী পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র এবং তাদের পক্ষ থেকে আমেরিকানদের ওপর হামলার আসন্ন হুমকি ছিল বলেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অপারেশন এপিক ফিউরি শুরু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ইঙ্গল আরও জোর দিয়ে বলেন, ট্রাম্প শক্তিশালী প্রমাণের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং আমেরিকানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও গত এপ্রিলে এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে স্পষ্ট করেছেন যে ইসরাইল তাকে ইরানের সাথে যুদ্ধে নামতে প্ররোচিত করেনি। তিনি জানান, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার ভয়াবহতা এবং ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আশঙ্কাই তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। 

ট্রাম্পের দাবি, ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র হাতে না পায়, তা নিশ্চিত করা তার আজীবনের রাজনৈতিক অবস্থান। বর্তমানে দুই পক্ষের এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের ফলে ইরানের যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র: ফক্স নিউজ।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর