img

ইরান ইস্যুতে হতাশা, ভেনেজুয়েলার সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম লুটে নিলেন ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ১৩:০৬, ০৯ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:৩৯, ০৯ মে ২০২৬

ইরান ইস্যুতে হতাশা, ভেনেজুয়েলার সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম লুটে নিলেন ট্রাম্প

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা থেকে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। 

শুক্রবার (৮ মে) মার্কিন জ্বালানি বিভাগ এক ঘোষণায় জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘চূড়ান্ত নেতৃত্বের’ কারণে কারাকাসের একটি পুরোনো গবেষণা চুল্লি থেকে ১৩.৫ কেজি (প্রায় ৩০ পাউন্ড) ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ভেনেজুয়েলার এই যৌথ অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের জন্য বড় জয় হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, একটি অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল অভিযানের মাধ্যমে এই ইউরেনিয়াম স্থল ও জলপথে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে উত্তর আমেরিকায় পরিবহন করা হয়েছে। কারাকাস থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরের একটি স্থান থেকে সংগৃহীত এই তেজস্ক্রিয় পদার্থটি বর্তমানে দক্ষিণ ক্যারোলিনায় মার্কিন জ্বালানি বিভাগের একটি কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। 

মার্কিন ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রশাসক ব্র্যান্ডন উইলিয়ামস এই পদক্ষেপকে একটি ‘পুনরুদ্ধারকৃত ও নবায়িত’ ভেনেজুয়েলার সংকেত হিসেবে অভিহিত করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের বিতর্কিত নির্দেশের পর কারাকাসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের শত্রুতা কাটিয়ে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে হোয়াইট হাউস। 

ট্রাম্প বর্তমানে মাদুরোর ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং ভেনেজুয়েলার জ্বালানি ও খনি খাত মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য উন্মুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। দীর্ঘ সাত বছর পর সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল শুরু হয়েছে এবং পুনরায় চালু হয়েছে মার্কিন দূতাবাস।

তবে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে এই মাখামাখি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। একদিকে ব্যবসায়ীরা বিপুল তেলের মজুদ থাকা এই দেশটির সঙ্গে নতুন বাণিজ্যিক যুগের সম্ভাবনা দেখছেন, অন্যদিকে গণতন্ত্রকামী কর্মীরা ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। 

তাদের মতে, নির্বাসিত বিরোধী নেত্রী ও নোবেলজয়ী মারিয়া করিনা মাচাদোকে পাশ কাটিয়ে রদ্রিগেজের সাথে সমঝোতা করা হতাশাজনক। এছাড়া গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেহরানের হাতে থাকা ৪০৮ কেজি উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করার লক্ষ্য থাকলেও, এখন পর্যন্ত সেই চেষ্টায় ট্রাম্প সফল হতে পারেননি। সেই তুলনায় ভেনেজুয়েলার এই অর্জন নেহাতই নগণ্য বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরানের পরমাণু অস্ত্র বানানো নিয়ে সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা প্রধানের গোপন তথ্যে চাঞ্চল্য

প্রকাশিত :  ১৪:৪৪, ০৯ মে ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের সাবেক পরিচালক জো কেন্ট দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার আগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ঐকমত্যে পৌঁছেছিল যে দেশটি কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না। 

ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে কেন্ট এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। 

তার মতে, সিআইএ-সহ মার্কিন গোয়েন্দা সম্প্রদায় যুদ্ধের আগেই সঠিকভাবে মূল্যায়ন করেছিল যে আক্রান্ত হলে ইরান এশীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাবে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেবে।

জো কেন্টের অভিযোগ, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঠিক ও পেশাদার মূল্যায়ন সত্ত্বেও একটি বিদেশি রাষ্ট্র তথা ইসরাইলের তৈরি করা বয়ান এবং এজেন্ডা এই তর্কে জয়ী হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে। 

তিনি মনে করেন, ইরানি নেতৃত্বের ওপর হামলা চালালে শাসনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং কট্টরপন্থীরা উৎসাহিত হবে—গোয়েন্দাদের এমন পূর্বাভাস সত্য হওয়া সত্ত্বেও ইসরাইলি প্রভাবে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। গত মার্চ মাসে নৈতিক কারণে পদত্যাগ করা কেন্ট তার পদত্যাগপত্রেও উল্লেখ করেছিলেন যে ইরান আমেরিকার জন্য কোনো আসন্ন হুমকি ছিল না এবং কেবল ইসরায়েল ও তাদের শক্তিশালী লবির চাপেই এই যুদ্ধ শুরু হয়েছে।

তবে জো কেন্টের এসব দাবিকে ডাহা মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল ফক্স নিউজ ডিজিটালকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, কেন্টের দাবিগুলো ভিত্তিহীন এবং অবমাননাকর। 

তিনি উল্লেখ করেন, ইরান বিশ্বের বৃহত্তম সন্ত্রাসবাদী পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র এবং তাদের পক্ষ থেকে আমেরিকানদের ওপর হামলার আসন্ন হুমকি ছিল বলেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অপারেশন এপিক ফিউরি শুরু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ইঙ্গল আরও জোর দিয়ে বলেন, ট্রাম্প শক্তিশালী প্রমাণের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং আমেরিকানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও গত এপ্রিলে এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে স্পষ্ট করেছেন যে ইসরাইল তাকে ইরানের সাথে যুদ্ধে নামতে প্ররোচিত করেনি। তিনি জানান, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার ভয়াবহতা এবং ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আশঙ্কাই তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। 

ট্রাম্পের দাবি, ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র হাতে না পায়, তা নিশ্চিত করা তার আজীবনের রাজনৈতিক অবস্থান। বর্তমানে দুই পক্ষের এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের ফলে ইরানের যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র: ফক্স নিউজ।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর