img

যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রস্তাবের জবাব দিল ইরান

প্রকাশিত :  ১৮:৩২, ১০ মে ২০২৬

যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রস্তাবের জবাব দিল ইরান

যুদ্ধ বন্ধের জন্য প্রস্তাবিত একটি মার্কিন প্রস্তাবের জবাব মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠিয়েছে ইরান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ। 

আজ রোববার আইআরএনএ জানিয়েছে, প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী আলোচনার প্রথম ধাপে সংঘাত বন্ধের ওপর জোর দেওয়া হবে। 

ইসলামাবাদ থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক কামাল হায়দার বলেছেন, পাকিস্তান ইরানের জবাব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মার্কিন প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের জবাব পাওয়ার বিষয়টি পাকিস্তানিরা নিশ্চিত করছে। 

তিনি আরও বলেন, বার্তা পাওয়ার পর ওয়াশিংটন থেকে কী প্রতিক্রিয়া আসে, তার ওপরই নির্ভর করছে এই সংঘাত নিরসনের ভবিষ্যৎ। 

যেহেতু পাকিস্তান সফলভাবে ইরানের এই বার্তা বা জবাবটি গ্রহণ করেছে, তাই এখন পরবর্তী পদক্ষেপগুলোর দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল। 

সংঘাত বন্ধে এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একাধিকবার পাল্টাপাল্টি প্রস্তাব পাঠালেও কোনো পক্ষই একমতে পৌঁছাতে পারেনি। এই অচলাবস্থা কাটাতে গত সপ্তাহে ইরানের কাছে ১৪ দফার একটি নতুন প্রস্তাব পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবারের মধ্যে এই প্রস্তাবের জবাব আশা করা হলেও ইরান কিছুটা সময় নিয়ে আজ তাদের অবস্থান পরিষ্কার করল। উল্লেখ্য যে গত ১১ ও ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হলেও কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা শেষ হয়েছিল।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূচনা হয়। এর পাল্টা জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায়। গত কয়েক মাস ধরে চলা এই লড়াইয়ের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

আগামী সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল প্রতীক্ষিত চীন সফর শুরু হতে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে এই সফরের আগেই সংঘাতের ইতি টানতে ব্যাপক আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে। কারণ এই যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি তৈরি করছে। ইরানের পক্ষ থেকে আসা এই জবাবের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী শান্তি প্রক্রিয়ার ভাগ্য নির্ধারিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তার ধার ধারছেন না নেতানিয়াহু

প্রকাশিত :  ০৮:১৯, ১১ মে ২০২৬

ইহুদিবাদী ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া বার্ষিক সামরিক আর্থিক সহায়তা ধীরে ধীরে শূন্যে নামিয়ে আনা হবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইসরায়েল বছরে প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা পায়। তবে আগামী ১০ বছরের মধ্যে এই আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনতে হবে।

তিনি বলেন, আমি চাই এখন থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু হোক। ধীরে ধীরে আমরা যেন যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তা ছাড়াই নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে পারি।

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয়নি। ইরানের হাতে এখনো সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর নেটওয়ার্ক রয়েছে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তিনি বলেন, ইরানের ইউরেনিয়াম ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো নিষ্ক্রিয় করতে হবে।

তবে এ বিষয়ে সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

হিজবুল্লাহ প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থেমে গেলেও লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চলতে পারে। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহকে আগের অবস্থায় থাকতে দেওয়া হবে না।

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের প্রভাব বাড়ছে বলেও দাবি করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, কয়েকটি আরব দেশ এখন ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারে আগ্রহ দেখাচ্ছে, বিশেষ করে প্রযুক্তি, জ্বালানি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো খাতে সহযোগিতার বিষয়ে।

চীনের বিরুদ্ধে ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি সহায়তার অভিযোগও তোলেন তিনি। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি।

গাজায় যুদ্ধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ইসরায়েলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, যুদ্ধের সময় ভুলের কারণে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানিও ঘটেছে।

গাজা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, হামাসকে নিরস্ত্র ও গাজাকে সামরিক প্রভাবমুক্ত করা এখনো ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর