img

ইরানের পরমাণু অস্ত্র বানানো নিয়ে সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা প্রধানের গোপন তথ্যে চাঞ্চল্য

প্রকাশিত :  ১৪:৪৪, ০৯ মে ২০২৬

ইরানের পরমাণু অস্ত্র বানানো নিয়ে সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা প্রধানের গোপন তথ্যে চাঞ্চল্য

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের সাবেক পরিচালক জো কেন্ট দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার আগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ঐকমত্যে পৌঁছেছিল যে দেশটি কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না। 

ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে কেন্ট এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। 

তার মতে, সিআইএ-সহ মার্কিন গোয়েন্দা সম্প্রদায় যুদ্ধের আগেই সঠিকভাবে মূল্যায়ন করেছিল যে আক্রান্ত হলে ইরান এশীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাবে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেবে।

জো কেন্টের অভিযোগ, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঠিক ও পেশাদার মূল্যায়ন সত্ত্বেও একটি বিদেশি রাষ্ট্র তথা ইসরাইলের তৈরি করা বয়ান এবং এজেন্ডা এই তর্কে জয়ী হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে। 

তিনি মনে করেন, ইরানি নেতৃত্বের ওপর হামলা চালালে শাসনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং কট্টরপন্থীরা উৎসাহিত হবে—গোয়েন্দাদের এমন পূর্বাভাস সত্য হওয়া সত্ত্বেও ইসরাইলি প্রভাবে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। গত মার্চ মাসে নৈতিক কারণে পদত্যাগ করা কেন্ট তার পদত্যাগপত্রেও উল্লেখ করেছিলেন যে ইরান আমেরিকার জন্য কোনো আসন্ন হুমকি ছিল না এবং কেবল ইসরায়েল ও তাদের শক্তিশালী লবির চাপেই এই যুদ্ধ শুরু হয়েছে।

তবে জো কেন্টের এসব দাবিকে ডাহা মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল ফক্স নিউজ ডিজিটালকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, কেন্টের দাবিগুলো ভিত্তিহীন এবং অবমাননাকর। 

তিনি উল্লেখ করেন, ইরান বিশ্বের বৃহত্তম সন্ত্রাসবাদী পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র এবং তাদের পক্ষ থেকে আমেরিকানদের ওপর হামলার আসন্ন হুমকি ছিল বলেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অপারেশন এপিক ফিউরি শুরু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ইঙ্গল আরও জোর দিয়ে বলেন, ট্রাম্প শক্তিশালী প্রমাণের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং আমেরিকানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও গত এপ্রিলে এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে স্পষ্ট করেছেন যে ইসরাইল তাকে ইরানের সাথে যুদ্ধে নামতে প্ররোচিত করেনি। তিনি জানান, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার ভয়াবহতা এবং ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আশঙ্কাই তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। 

ট্রাম্পের দাবি, ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র হাতে না পায়, তা নিশ্চিত করা তার আজীবনের রাজনৈতিক অবস্থান। বর্তমানে দুই পক্ষের এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের ফলে ইরানের যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র: ফক্স নিউজ।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

দেশের প্রধান রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত :  ১৮:০১, ১৭ জুন ২০২৬

রেলপথকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রেলরুটগুলোতে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে একাধিক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও নিরাপদ করতে প্রধান প্রধান রুটে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন বা বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সড়ক ও রেল যোগাযোগ উন্নয়নে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। মহাসড়কে পর্যায়ক্রমে এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড ও মাল্টিমোডাল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি ওভারলোড নিয়ন্ত্রণে স্মার্ট মনিটরিং ও এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।

তিনি জানান, রাজধানী ঢাকার যানজট কমাতে রিং রোড ও রেডিয়াল রোড নেটওয়ার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এলাকায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ রেলওয়েকে জাতীয় পরিবহন ব্যবস্থার প্রধান ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলতে ২০৪৫ সাল পর্যন্ত তিন ধাপে ২৪টি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দেশের সব রেলপথকে পর্যায়ক্রমে ডুয়েলগেজে রূপান্তর করা হবে, যাতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন আরও সহজ হয়।

রেলের সক্ষমতা বাড়াতে আগামী বছরগুলোতে আন্তঃনগর ও কমিউটার ট্রেনের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর