img

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের প্রতি ইরানের জবাব পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য: ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ০৫:৩৫, ১১ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৫:৪৭, ১১ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের প্রতি ইরানের জবাব পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য: ট্রাম্প

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে যে জবাব পাঠিয়েছে ইরান— তা পছন্দ হয়নি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ইরানের জবাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

গতকাল রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ প্রসঙ্গে বলেন, “আমার এটা পছন্দ হয়নি— (ইরানের এই জবাব) সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।”

গত সপ্তাহের মঙ্গলবার যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানকে একটি সমঝোতা চুক্তির খসড়া পাঠিয়েছিল ইরান। নতুন সেই খসড়ায় যুদ্ধ সমাপ্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রদান, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করা এবং দেশটির ওপর জারি থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা গুলো তুলে নিতে একটি বিস্তৃত চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য ৩০ দিনের আলোচনা শুরুর মতো পয়েন্টগুলো উল্লেখ ছিলো।

নতুন এই প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে গতকাল রোববার পাকিস্তানের মাধ্যমে লিখিত জবাব দিয়েছে ইরান। ইতোমধ্যে পাকিস্তান সেই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছেও দিয়েছে। ইরান সেই জবাব পাঠানোর কিছু সময় পর ট্রুথ সোশ্যালে এই পোস্ট দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

জানা গেছে, খসড়া প্রস্তাবে ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যতের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তবে লিখিত জবাবে ইরান এ ইস্যুটি এড়িয়ে সব ফ্রন্ট, বিশেষ করে লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ করা, অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রভৃতি ইস্যুকে গুরুত্ব দিয়েছে।

এছাড়া লিখিত জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের হামলার কারণে সৃষ্ঠ অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের সার্বভৌম অধিকারও দাবি করেছে ইরান।

তবে যেসব কারণে ইরানের জবাব ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন, সেসবের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্ভবত ইউরেনিয়াম ইস্যুটি। ইরানের কাছে ৪০০ কেজি ইউরেনিয়ামের মজুত আছে, যার বিশুদ্ধতার মান ৬০ শতাংশ। ইরান যদি বিশুদ্ধতার মান ৯০ শতাংশে উন্নীত করে— তাহলে অনায়েসেই সেই ইউরেনিয়াম দিয়ে একের পর এক পারমাণবিক বোমা বানানো সম্ভব।

ট্রাম্প চেয়েছিলেন, ইরান যেন তার ইউরেনিয়ামের মজুত হয় ধ্বংস করে— নয়তো যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তান্তর করে।

কিন্তু রোববারের জবাবে তেহরান প্রস্তাব দিয়েছে— ইউরেনিয়মের মোট মজুতের কিছু অংশের বিশুদ্ধতার মান কমিয়ে ইরানে রাখা হবে এবং বাকি অংশ তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তর করা হবে। সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন,“ইরান কখনও শত্রুর কাছে মাথা নত করবে না এবং অবশ্যই দৃঢ়ভাবে নিজের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবে।

সূত্র : রয়টার্স

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তার ধার ধারছেন না নেতানিয়াহু

প্রকাশিত :  ০৮:১৯, ১১ মে ২০২৬

ইহুদিবাদী ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া বার্ষিক সামরিক আর্থিক সহায়তা ধীরে ধীরে শূন্যে নামিয়ে আনা হবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইসরায়েল বছরে প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা পায়। তবে আগামী ১০ বছরের মধ্যে এই আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনতে হবে।

তিনি বলেন, আমি চাই এখন থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু হোক। ধীরে ধীরে আমরা যেন যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তা ছাড়াই নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে পারি।

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয়নি। ইরানের হাতে এখনো সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর নেটওয়ার্ক রয়েছে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তিনি বলেন, ইরানের ইউরেনিয়াম ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো নিষ্ক্রিয় করতে হবে।

তবে এ বিষয়ে সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

হিজবুল্লাহ প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থেমে গেলেও লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চলতে পারে। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহকে আগের অবস্থায় থাকতে দেওয়া হবে না।

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের প্রভাব বাড়ছে বলেও দাবি করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, কয়েকটি আরব দেশ এখন ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারে আগ্রহ দেখাচ্ছে, বিশেষ করে প্রযুক্তি, জ্বালানি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো খাতে সহযোগিতার বিষয়ে।

চীনের বিরুদ্ধে ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি সহায়তার অভিযোগও তোলেন তিনি। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি।

গাজায় যুদ্ধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ইসরায়েলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, যুদ্ধের সময় ভুলের কারণে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানিও ঘটেছে।

গাজা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, হামাসকে নিরস্ত্র ও গাজাকে সামরিক প্রভাবমুক্ত করা এখনো ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর